কর্মজীবী ও গৃহিণী, কার জন্য কেমন বীমা প্রয়োজন?
.jpg)
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে নারীদের ভিন্ন আর্থিক বাস্তবতা বিবেচনায় এখন বিভিন্ন ধরনের বিশেষায়িত বীমা পণ্য চালু হয়েছে। কর্মজীবী নারী ও গৃহিণীদের আলাদা চাহিদা মাথায় রেখে তৈরি এসব পণ্য তাদের সঞ্চয়, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
কর্মজীবী নারীদের জন্য বীমা: আয় সুরক্ষা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
কর্মজীবী নারীদের জন্য বীমা এখন শুধু নিরাপত্তা নয়, বরং একটি কার্যকর আর্থিক পরিকল্পনার অংশ। নিয়মিত আয় থাকায় তারা তুলনামূলক বড় অঙ্কের বীমা পলিসি নিতে সক্ষম হচ্ছেন।
লাইফ বীমার প্রিমিয়ামের ওপর কর রেয়াত থাকায় এ শ্রেণির নারীদের মধ্যে বীমার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। পাশাপাশি অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের জন্য গ্রুপ লাইফ ও স্বাস্থ্য বীমা সুবিধা দিচ্ছে, যেখানে পরিবারের সদস্যরাও অন্তর্ভুক্ত থাকেন।
অবসর জীবনের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য পেনশন বীমাও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এছাড়া অনেক কর্মজীবী নারী মূল পলিসির সঙ্গে স্বাস্থ্য বীমা বা হেলথ রাইডার যুক্ত করে হাসপাতালে ভর্তি, গুরুতর রোগ ও চিকিৎসা ব্যয় কভার করছেন।
গৃহিণীদের জন্য বীমা: সঞ্চয় ও পরিবারের নিরাপত্তা
গৃহিণীদের ক্ষেত্রে বীমা মূলত দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় ও পরিবারের আর্থিক সুরক্ষার মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়। সরাসরি আয় না থাকায় কম প্রিমিয়ামের বীমা পণ্য তাদের মধ্যে বেশি জনপ্রিয়।
গার্ডিয়ান লাইফের ‘ইজিলাইফ জায়া’ পরিকল্পনায় নারীদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি মাসিক সঞ্চয় সুবিধার সঙ্গে লাইফ বীমা ও ক্রিটিক্যাল ইলনেস কভারেজ যুক্ত রয়েছে। এই পলিসিতে মাসে প্রায় ৩৫০ টাকা জমা দিয়ে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত গুরুতর রোগের কভারেজ পাওয়া যায়। দীর্ঘমেয়াদি মেয়াদ বেছে নিলে এতে বেশি বোনাস বা মুনাফা পাওয়ার সুযোগও থাকে।
সঞ্চয়ভিত্তিক বীমার পাশাপাশি দুর্ঘটনাজনিত ঝুঁকি মোকাবিলার জন্যও আলাদা কভারেজ পাওয়া যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের ‘নিবেদিতা’ ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা বীমা কর্মজীবী ও গৃহিণী- উভয়ের জন্য প্রযোজ্য।
এই বীমার লক্ষ্য নারীদের আর্থিক সুরক্ষা ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা। এতে এসিড সহিংসতা, ধর্ষণ, সড়ক দুর্ঘটনা ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ট্রমা অ্যালাউন্স ও ক্ষতিপূরণের সুবিধা রয়েছে। বছরে প্রায় ৫৮০ টাকা থেকে শুরু করে ১ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত কভারেজ নেয়া যায়। পাশাপাশি সহজ ও দ্রুত ক্লেইম নিষ্পত্তির সুবিধাও রয়েছে।
সঞ্চয় ও বীমা সুরক্ষার সমন্বয়ে মেটলাইফের ‘থ্রি পেমেন্ট প্ল্যান (এমথ্রিপিপি)’ও একটি জনপ্রিয় পণ্য। এই পলিসিতে লাইফ বীমার পাশাপাশি সঞ্চয় সুবিধা পাওয়া যায় এবং প্রিমিয়ামের ওপর আকর্ষণীয় মেয়াদপূর্তির মূল্য প্রদান করা হয়। পলিসির একটি বৈশিষ্ট্য হলো মেয়াদপূর্তির আগেই অভিহিত মূল্যের একটি অংশ (প্রায় ৫০ শতাংশ) প্রদান করা হয়।
এছাড়া বিভিন্ন মেয়াদের পলিসি বেছে নেয়ার সুযোগ থাকায় গ্রাহকের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিকল্পনা সাজানো যায়। বিভিন্ন রাইডার যুক্ত করে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী কভারেজ কাস্টমাইজ করার সুবিধাও রয়েছে।
এছাড়া ক্ষুদ্র বীমা ও ব্যাংকাস্যুরেন্স ব্যবস্থার মাধ্যমে সহজেই বীমা গ্রহণ ও প্রিমিয়াম জমা দেয়ার সুযোগ গৃহিণীদের জন্য প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করেছে।
স্বাস্থ্য ও মাতৃত্বকালীন বীমা: বাড়ছে গুরুত্ব
বর্তমানে নারীস্বাস্থ্যের বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। কর্মজীবী ও গৃহিণী- উভয় ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্য ও মাতৃত্বকালীন বীমার চাহিদা বাড়ছে।
হাসপাতালের ব্যয় কমাতে বিভিন্ন বীমা কোম্পানি বিশেষ স্বাস্থ্য কভারেজ ও রাইডার সুবিধা দিচ্ছে। সরকারি পর্যায়েও মাতৃত্বকালীন বীমা চালুর উদ্যোগ রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে নিম্ন আয়ের নারীরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন।
চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে
বীমা খাতে অগ্রগতি হলেও সচেতনতার অভাব এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক নারী বীমাকে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হিসেবে বিবেচনা করেন।
পলিসির শর্ত জটিল হওয়ায় সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা তৈরি হয়। গৃহিণীদের ক্ষেত্রে আয় বা টিআইএন না থাকায় বড় অঙ্কের বীমা গ্রহণে বাধা সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে কর্মজীবী নারীদের জন্য সঠিক পলিসি নির্বাচন করাও অনেক সময় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
সম্ভাবনা রয়েছে
বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মজীবী নারীদের জন্য বীমা কর সাশ্রয় ও বিনিয়োগের কার্যকর মাধ্যম। আর গৃহিণীদের জন্য এটি দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় ও পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তার ভিত্তি।
সঠিক তথ্য, সহজ প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনভিত্তিক বীমা পণ্য নিশ্চিত করা গেলে দেশে নারীদের মধ্যে বীমা গ্রহণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।



