লাইসেন্স পাওয়ার কোন শর্তই পূরণ করেনি শান্তা লাইফ, এরপরও অনুমোদন দিয়েছে আইডিআরএ

আবদুর রহমান আবির: নতুন লাইফ বীমা কোম্পানির লাইসেন্স পাওয়ার প্রধান শর্তই হলো ১৮ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন থাকা। কিন্তু সেই আইনী বাধ্যবাধকতাকে উপেক্ষা করে দেড় কোটি টাকা ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও শান্তা লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডকে ব্যবসা করার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।

শুধু মূলধন ঘাটতিই নয়, বীমা আইন লঙ্ঘন করে কোম্পানিটির ৭২ শতাংশ শেয়ার রাখা হয়েছে দুটি পরিবারের হাতে। এমনকি উদ্যোক্তাদের নিজ নিজ অংশের মূলধনের টাকা নিজস্ব ব্যাংক হিসাব থেকে কোম্পানির নামে জমা করার বিধান থাকলেও ১৪ জন পরিচালকের টাকা জমা দিয়েছে ৪টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে। তাছাড়া জামানতের শর্তও লঙ্ঘন করেছে কোম্পানিটি।

অথচ এসব শর্ত পূরণ না হলে লাইসেন্স না দেয়ার স্পষ্ট বিধান রয়েছে বীমা আইনে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার হাতে শর্তপূরণ না হওয়ার সকল প্রমাণ থাকার পরও ২০২৩ সালের ৭ নভেম্বর শান্তা লাইফ ইন্স্যুরেন্সকে লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। ইন্স্যুরেন্স নিউজ বিডির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এই অনিয়মের চিত্র।

কাগজে ১৮ কোটি টাকা, ব্যাংকে সাড়ে ১৬: মূলধন ঘাটতি দেড় কোটি

নতুন বীমা কোম্পানির লাইসেন্স পাওয়ার প্রধান শর্তই হলো পরিশোধিত মূলধন। অথচ দেড় কোটি টাকার মূলধন ঘাটতি থাকার পরও শান্তা লাইফ ইন্স্যুরেন্সকে লাইসেন্স দিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০২৩ সালের ১ নভেম্বর প্রাইম ব্যাংকের তেজগাঁও শাখায় শান্তা লাইফের একাউন্টে ১৮ কোটি টাকা জমা দেখিয়ে ব্যালান্স সার্টিফিকেট নেয়া হয়। একইদিনে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান আজাদ আবুল কালাম এন্ড কোং সনদ দেয় যে, পরিশোধিত মূলধন হিসেবে ব্যাংকে ১৮ কোটি টাকা জমা আছে।

কিন্তু এর ৪ দিন পর ৫ নভেম্বর প্রাইম ব্যাংক আইডিআরএ’কে চিঠি দিয়ে জানায়, শান্তা লাইফের নামে সাড়ে ১৬ কোটি টাকার এফডিআর করে তা লিয়েন করা হয়েছে।

অপরদিকে আইনের ২৩ ধারা অনুসারে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৫ বছর মেয়াদি দেড় কোটি টাকা ট্রেজারি বন্ড ক্রয় করা হয় ২ নভেম্বর ২০২৩।

অর্থাৎ শান্তা লাইফের অনুমোদন পাওয়ার আগে পরিশোধিত মূলধনের ১৮ কোটি টাকার মধ্যে সাড়ে ১৬ কোটি টাকা এফডিআর ক্রয় ও দেড় কোটি টাকার ট্রেজারি বন্ড ক্রয় করে আইডিআরএ’র অনুকূলে লিয়েন করা হয়। এই হিসেবে মূলধন ঘাটতি দাঁড়ায় দেড় কোটি টাকা।

কোম্পানিটির ২০২৪ ও ২০২৫ সালের আর্থিক প্রতিবেদনের ব্যালান্স শীটে পেইড-আপ ক্যাপিটাল ১৮ কোটি টাকা দেখানো হলেও শেয়ার ক্যাপিটাল ও বিনিয়োগ শিরোনামে ট্রেজারী বন্ড দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ও এফডিআর দেখানো হয়েছে ১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

বীমা আইন ২০১০ এর ২১ ও ২৩ ধারা অনুসারে পরিশোধিত মূলধন হিসেবে ১৮ কোটি টাকা ও জামানত দেড় কোটি টাকা সিকিউরিটিজ বন্ড ক্রয় করে তা আইডিআরএ’র অনুকূলে লিয়েন করতে হয়। 

বীমা আইন ২০১০ এর ২১(১) ধারায় বলা হয়েছে, ...উদ্যোক্তাগণ নিবন্ধনের আবেদন করার পূর্বে পরিশোধিত মূলধনে তাদের নিজ নিজ অংশ দায় মুক্তভাবে বাংলাদেশে কোন তফসিলী ব্যাংকে কোম্পানির নামে জমা করবেন এবং উক্ত অর্থ দায়মুক্তভাবে জমা হিসাবে থাকবে।

একইধারার (২) উপ-ধারায় বলা হয়েছে, বীমাকারী কর্তৃক নিবন্ধনের আবেদন দাখিলের পর বা ভবিষ্যতে কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ব্যতিরেকে উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত পরিশোধিত মূলধন জমার হিসাব হতে জমার উপর অর্জিত সুদ ব্যতীত কোন অর্থ উত্তোলন করা যাবে না এবং কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ব্যতিরেকে কর্তৃপক্ষের অনুকূলে ছাড়া পরিশোধিত মূলধনের উপর কোনরূপ লিয়েন লিপিবদ্ধ করা যাবে না।

পরিশোধিত লধন ১৮ কোটি টাকা দেখাতে যেভাবে কারসাজি করা হয়

পরিশোধিত মূলধন হিসেবে ১৮ কোটি টাকা দেখানো হয়- ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ব্যালান্স সার্টিফিকেট ও নিরীক্ষকের সনদে। কিন্তু এই ১৮ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন হিসেবে আইডিআরএ’র অনুকূলে তা লিয়েন করা হয় না। পরিশোধিত মূলধন হিসেবে লিয়েন করা হয় সাড়ে ১৬ কোটি টাকা।

এই কারসাজিতে ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ব্যালান্স সার্টিফিকেট ও নিরীক্ষকের সনদ দেখানো হয় পরিশোধিত মূলধন ১৮ কোটি টাকা জমা আছে। এই ঘটনা ২০২৩ সালের ১ নভেম্বর। পরেদিন ২ নভেম্বর জামানত হিসেবে ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকার বন্ড ক্রয় করে তা আইডিআরএ’র অনুকূলে লিয়েন করা হয়।

দেড় কোটি টাকা জামানত রাখার নথি ও ১৮ কোটি টাকার ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ব্যালান্স সার্টিফিকেটও নিরীক্ষকের সনদ আইডিআরএ’র কাছে দাখিল করেন কোম্পানির প্রস্তাবিত চেয়ারম্যান খন্দকার মুনির উদ্দিন।

আর এর ৩ দিন পর ৫ নভেম্বর প্রাইম ব্যাংক ১৬ কোটি টাকার এফডিআর কিনে তা আইডিআরএ’র অনুকূলে লিয়েন করে। এই লিয়েনের বিষয়টি আইডিআরএ’কে চিঠি দিয়ে জানায় প্রাইম ব্যাংক। ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেন প্রাইম ব্যাংকের করপোরেট এন্ড ইনিস্টিটিউশনাল ব্যাংকিং এর এরিয়া প্রধান সাজিদ রহমান ও  সিনিয়র রিলেশনশীপ ম্যানেজার মো. আসাদ হোসাইন। কিন্তু শান্তা লাইফ থেকে পরিশোধিত মূলধন বাবদ ১৮ কোটি টাকা আইডিআরএ’র অনুকূলে লিয়েন করা হয়েছে এই তথ্য জানানো হয় না। অর্থাৎ খুব কৌশলেই এই কারসাজি করা হয়।

অপরদিকে বীমা কোম্পানির অনুমোদন দেয়ার অন্যতম শর্ত পরিশোধিত মূলধন হিসেবে ১৮ কোটি টাকা জমা আছে কি না তা যাচাইয়েরও প্রয়োজন মনে করেনি আইডিআরএ।

উদ্যোক্তা ১৪ জন, লধনের টাকা জমা হয় ৪টি ব্যাংক একাউন্ট থেকে

পরিশোধিত মূলধন জমার বিষয়ে আইনে বলা হয়েছে, প্রত্যেক উদ্যোক্তার নিজ নিজ অংশের শেয়ারের মূলধন নিজস্ব ব্যাংক একাউন্ট থেকে কোম্পানির একাউন্টে জমা করবে। এই আইনের মূল উদ্দেশ্য উদ্যোক্তাদের অর্থের উৎস নিশ্চিত করা।

শান্তা লাইফের নামে খোলা মূলধন একাউন্টের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কোম্পানির অনুমোদন নেয়ার সময় উদ্যোক্তা পরিচালক দেখানো হয় ১৪ জন। এই ১৪ জনের মধ্যে- ৭ জন ব্যক্তি ও ৭টি প্রতিষ্ঠান। মূলধন একাউন্টে ১৪টি ট্রান্সফারের মাধ্যমে টাকা জমা হয়েছে। কিন্তু টাকার উৎস ছিল ৪টি ব্যাংক একাউন্ট।

শান্তা লাইফের নামে মূলধন একাউন্টটি খোলা হয় প্রাইম ব্যাংকের তেজগাঁও শাখায়। একাউন্টটি খোলা হয় ২০২৩ সালের ১ নভেম্বর। ওইদিনই একউন্টটিতে ১৮ কোটি টাকা জমা করা হয়।

নথি অনুযায়ী, সবচেয়ে বড় অঙ্কের অর্থ অর্থাৎ ৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা আসে ২১৩৫৭৩৪০০৫৮৬০ নম্বর ব্যাংক হিসাব থেকে। দ্বিতীয় বৃহৎ অঙ্ক ৫ কোটি ৭ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয় ২২০৭১১১০০৫৭৭০ নম্বর হিসাব থেকে। এছাড়া ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা জমা হয় একটি আরটিজিএস ট্রান্সফারের মাধ্যমে এবং ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা আসে ২২০৭১৭৪০০৬৫২২ নম্বর হিসাব থেকে।

নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান আজাদ আবুল কালাম এন্ড কোং এর প্রত্যয়নপত্র অনুযায়ী, খন্দকার মনির উদ্দিন, শান্তা হোল্ডিং লিমিটেড, শান্তা লাইফ স্টাইল লিমিটেড, শান্তা মাল্টিভার্স লিমিটেড, শান্তা সিকিউরিটিজ লিমিটেড এবং নাসা হোল্ডিং-প্রত্যেকের নামে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা করে মোট ১০ কোটি ৮০ লাখ শেয়ার মূলধন জমা দেখানো হয়েছে।

অন্যদিকে শান্তা প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড এর নামে জমা দেখানো হয় ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা। এছাড়া ফারজানা হাসান, রেভেন হাসান, ফার অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড, ইফতেখার রহমান, আবরার আলম আনওয়ার, হোসাম মো. সিরাজ এর নামে ৯০ লাখ টাকা করে মোট ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা জমা দেখানো হয়। একইসঙ্গে এম আনিসুল হকের নামে জমা দেখানো হয় ৫৪ লাখ টাকা।

পরিবারের হাতে শান্তা লাইফের ৭২ শতাংশ শেয়ার

আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা তার পরিবার বা প্রতিষ্ঠানের নামে সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে পারবে। অথচ শান্তা লাইফের প্রস্তাবিত চেয়ারম্যান খন্দকার মনির ও তার মালিকানাধীন ৪ প্রতিষ্ঠানে নাম শেয়ার রয়েছে ৪৭ শতাংশ। আর রেইভেন হাসান ও তার মা ফারজানা হাসান এবং তাদের মালিকানাধীন ২ প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে শেয়ার রয়েছে ২৫ শতাংশ।

খন্দকার মনির উদ্দিন ও তার প্রতিষ্ঠানের হাতে ৪৭ শতাংশ শেয়ার

শান্তা লাইফের প্রস্তাবিত চেয়ারম্যান ছিলেন খন্দকার মুনির উদ্দিন। তার নিজ নামে রয়েছে শান্তা লাইফের ১০ শতাংশ শেয়ার। শান্তা প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের প্রতিনিধি হিসেবেও তিনি কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের রয়েছেন। এ ছাড়াও পরিচালনা পর্ষদে খন্দকার মনির উদ্দিনের ছেলে সাইফ খন্দকার রয়েছেন শান্তা হোল্ডিংস এর প্রতিনিধি হিসেবে। তার স্ত্রী জেসমিন সুলতানা শান্তা লাইফ স্টাইল লিমিটেডের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন। আর শান্তা মাল্টিভার্স লিমিটেডের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন তার মেয়ে মাইশা খন্দকার।

শান্তা লাইফ ইন্স্যুরেন্সে খন্দকার মনির উদ্দিনের ১০ শতাংশ শেয়ার ছাড়াও তার স্ত্রী ও ছেলে-মেয়ের মালিকানাধীন ৪টি প্রতিষ্ঠানের নামে রয়েছে ৩৭ শতাংশ শেয়ার। প্রত্যেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে- ১৪, দূতাবাস রোড, বাড়িধারা, গুলশান, ঢাকা -১২১২।

প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে- শান্তা  হোল্ডিংস এর নামে শেয়ার রয়েছে ১৮ লাখ বা মোট শেয়ারের ১০ শতাংশ। শান্তা হোল্ডিংস এর মালিকানা রয়েছে খন্দকার মুনির উদ্দিন নিজে ও তার স্ত্রী মিসেস জেসমিন সুলতানা। শান্তা হোল্ডিংস এর মালিকানার মধ্যে ৪ লাখ শেয়ারের মালিক খন্দকার মনির উদ্দিন ও স্ত্রী জেসমিন সুলতানার রয়েছে ১ লাখ শেয়ার।

শান্তা লাইফের আরো ১৮ লাখ বা ১০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে খন্দকার মনির উদ্দিনের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান শান্তা লাইফ স্টাইল লিমিটেড নামে। শান্তা লাইফস্টাইল লিমিটেডের ৯৫ লাখ শেয়ারের মালিক আবার শান্তা হোল্ডিংস, যার প্রতিনিধি হিসেবে আছেন জেসমিন সুলতানা। বাকি ৫ লাখ শেযারের মালিক খন্দকার মনির উদ্দিন নিজে।

খন্দকার মনির উদ্দির, তার মেয়ে মাইশা খন্দকার ও তার স্ত্রী জেসমিন সুলাতানার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান শান্তা মাল্টিভার্স লিমিটেডের নামে রয়েছে শান্তা লাইফের ১৮ লাখ বা ১০ শতাংশ শেয়ার। শান্তা মাল্টিভারস লিমিটেডের ৩০ হাজার শেয়ারের মালিক মাইশা খন্দকার, ১০ হাজার শেয়ারে মালিক খন্দকার মনির উদ্দিন ও জেসমিস সুলতানার শেয়ার রয়েছে ১০ হাজার।

শান্তা প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের নামে রয়েছে শান্তা লাইফের ১২ লাখ ৬০ হাজার বা ১০ শতাংশ শেয়ার। শান্তা প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের মালিকানায় রয়েছে শান্তা হোল্ডিংস লিমিটেড ও খন্দকার মনির উদ্দিন নিজে। এর শান্তা হোল্ডিংস এর নামে রয়েছে শান্তা প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডে ৯৫ হাজার শেয়ার ও বাকি ৫ হাজার শেয়ার খন্দকার মনিরের নিজের নামে।

রেইভেন হাসান ফারজানা হাসান এবং তাদের প্রতিষ্ঠানের নামে রয়েছে ২৫ শতাংশ শেয়ার

শান্তা লাইফ অনুমোদন নেয়ার জন্য প্রথম আবেদন করেন শান্তা লাইফের পরিচালক রেইভেন হাসান। রেইভেন হাসান যুক্তরাষ্টের ওয়েনস্টেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একচুরিয়াল সায়েন্সে স্নাতক করেন। রেইভেন হাসানের নামে শান্তা লাইফের শেয়ার রয়েছে ৯ লাখ ও তার মা ফারজানা হাসানের নামে রয়েছে ৯ লাখ শেয়ার। এছাড়া রেইভেন হাসান ও ফরজানা হাসানের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ফার-এ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড নামে রয়েছে ৯ লাখ শেয়ার এবং নাসা হোল্ডিংসের নামে রয়েছে ১৮ লাখ শেয়ার।

এই ২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ফার-এ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডে রেইভেন হাসানের শেয়ার রয়েছে ৩০ লাখ ও কবির হোসেনের নামে রয়েছে বাকি ২০ লাখ শেয়ার। অপর প্রতিষ্ঠান নাসা হোল্ডিংসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেইভেন হাসান প্রতিষ্ঠানটিতে তার শেয়ার রয়েছে ১০ লাখ ও তার মা ফারজানা হাসানের শেয়ার রয়েছে ১০ লাখ।

এই ২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে- নাসা হোল্ডিংস প্রতিষ্ঠা করা হয় ২০২৩ সালের ৪ সেপ্টেম্বর। আর আইডিআরএ শান্তা লাইফের নামে ছাড়পত্র প্রদান করে ২৫ মে ২০২৩ ইং তারিখ।

অর্থাৎ শান্তা লাইফ ইন্স্যুরেন্স অনুমোদন দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার পর নাসা হোল্ডিংস নামে প্রতিষ্ঠানটি গঠন করা হয়।

এসব অসঙ্গতির বিষয়ে জানতে শান্তা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তাদের দাপ্তরিক হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে লিখিত প্রশ্নমালা পাঠানো হলেও কোন জবাব বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরে সরাসরি কোম্পানির কার্যালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

শর্ত পূরণ না করেই শান্তা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের লাইসেন্স বা অনুমোদন পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)’র পরামর্শক (মিডিয়া ও কমিউনিকেশন) ও মুখপাত্র সাইফুন্নাহার সুমি বলেন, প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদন দিয়েছে আইডিআরএ’র সাবেক কর্তৃপক্ষ। তবে এর অনুমোদন প্রক্রিয়ায় আইন পরিপালনে কোনো ধরনের ঘাটতি বা অনিয়ম চিহ্নিত হলে, বর্তমান কর্তৃপক্ষ আইনানুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।