ভিয়েতনামে নতুন স্বাস্থ্য বীমা নীতিমালায় ব্যাপক ভর্তুকি ও সচেতনতা কর্মসূচি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভিয়েতনাম সরকার চলতি বছরের জুলাইয়ে জারি করেছে ডিক্রি নং ১৮৮/২০২৫/এনডি-সিপি, যা স্বাস্থ্য বীমা আইন বাস্তবায়নের নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করছে। এই নীতিমালা দেশের জনগণের মধ্যে ব্যাপক সমর্থন অর্জন করেছে, বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের কাছে। কারণ, এটি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আর্থিক বোঝা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনবে।
নতুন ডিক্রির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য বীমার প্রিমিয়ামে রাষ্ট্রের সহায়তা ৩০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে অন্তত ৫০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। এর ফলে— এখন থেকে একজন শিক্ষার্থীকে মাসে মাত্র ৫২,৬৫০ ভিএনডি প্রদান করতে হবে, যা আগের তুলনায় প্রায় ২১,০০০ ভিএনডি কম। এতে বার্ষিক প্রিমিয়াম দাঁড়াবে ৬৩১,৮০০ ভিএনডি, যা আগের চেয়ে প্রায় ২,৫৩,০০০ ভিএনডি কম।
শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বীমার অর্থ প্রদান করবে এবং তিন মাস, ছয় মাস কিংবা বার্ষিক ভিত্তিতে পরিশোধের সুযোগ থাকবে। এই নমনীয় পদ্ধতি অভিভাবকদের জন্যও সাশ্রয়ী ও সহজসাধ্য হবে।
শুধু শিক্ষার্থী নয়, নতুন এই নীতিমালায় আরও বিভিন্ন পেশাজীবী ও জনগোষ্ঠীকে ভর্তুকির আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গ্রামীণ ও পল্লী এলাকার স্বাস্থ্যকর্মী ও ধাত্রী, স্থানীয় নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, গ্রাম ও আবাসিক এলাকায় খণ্ডকালীন কর্মরত ব্যক্তিসহ রাষ্ট্র কর্তৃক প্রদত্ত সম্মানজনক উপাধি পাওয়া শিল্পীরা।
একই সঙ্গে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুবিধাও নিশ্চিত করা হয়েছে। যেমন— দরিদ্র এলাকার নিকট-দরিদ্র পরিবারগুলোকে ১০০ শতাংশ প্রিমিয়াম সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া সাধারণ নিকট-দরিদ্র পরিবার এবং সম্প্রতি দুর্গম এলাকা থেকে উত্তীর্ণ জাতিগোষ্ঠীকে অন্তত ৭০ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়া হবে, যা পুনঃশ্রেণিকরণের পর থেকে টানা ৩৬ মাস কার্যকর থাকবে।
থো লাই সামাজিক বীমা বিভাগের উপ-পরিচালক লি কোয়াক ভিয়েত বলেন, ‘এই নীতিমালা স্পষ্টভাবে ভিয়েতনামের পার্টি ও সরকারের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে। আমাদের অঙ্গীকার হলো— কাউকে পিছিয়ে রাখা হবে না।’ তার মতে, শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকেও এই ভর্তুকির আওতায় আনা সমাজকল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য একটি বড় পদক্ষেপ।
আসন্ন ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে কান থো সিটির সামাজিক বীমা বিভাগ বিশেষ কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শতভাগ শিক্ষার্থীকে স্বাস্থ্য বীমার আওতায় আনার লক্ষ্যে কাজ করছে।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে বীমা গ্রহণের আগ্রহ বাড়াতে শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রচারণা বুথ, পরামর্শ কেন্দ্র ও তথ্য স্টল চালু করা হবে। এসব স্থানে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের জন্য স্বাস্থ্য বীমা সম্পর্কিত তথ্য, প্রশ্নোত্তর ও পরামর্শ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে শুধু বীমা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করাই নয়, বরং স্বাস্থ্য বীমা যে একটি অধিকার ও সামাজিক দায়িত্ব— সেটি সম্পর্কেও সচেতনতা তৈরি করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন এই নীতিমালা শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আর্থিক চাপ কমাবে। একই সঙ্গে এটি তরুণ প্রজন্মকে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধে উদ্বুদ্ধ করবে। দীর্ঘমেয়াদে এই নীতি ভিয়েতনামের স্বাস্থ্যখাতকে আরও শক্তিশালী করবে এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে ইতিবাচক অবদান রাখবে। (সংবাদ সূত্র: এশিয়া ইন্স্যুরেন্স রিভিউ)