বিশ্বে বাড়ছে বন্যা বীমা বাজার, বাংলাদেশে কভারেজ সীমিত

সংবাদ ডেস্ক: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বন্যার ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে। এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে সম্প্রসারিত হচ্ছে বৈশ্বিক বন্যা বীমা বাজার। তবে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে এই খাতে কভারেজ এখনও সীমিত। ফলে দেশের লাখো মানুষ আর্থিকভাবে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২০২৫ সময়ে বৈশ্বিক বন্যা বীমা বাজারের আকার ছিল প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার। আগামী এক দশকে এটি ৫০ বিলিয়ন থেকে ১৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। বাজারটি বছরে গড়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হারে বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই প্রবৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো জলবায়ু ঝুঁকি বৃদ্ধি, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং উন্নত দেশে শক্তিশালী নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো।
বিশ্বব্যাপী প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ক্ষতির মধ্যে বন্যা অন্যতম ব্যয়বহুল। তবে এসব ক্ষতির বড় অংশই বীমার আওতায় আসে না। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ৫০ থেকে ৯০ শতাংশ বন্যা ক্ষতি বীমাবিহীন থাকে। ফলে একটি বড় প্রোটেকশন গ্যাপ (বীমা সুরক্ষার ঘাটতি) তৈরি হয়েছে।
২০২৫ সালে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বিশ্বব্যাপী বীমাকৃত ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ১০৭ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে বন্যা ও অন্যান্য গৌণ ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। তবে বীমাবিহীন ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি, যা সরকার, পরিবার ও পুনর্বাসন ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
বন্যা বীমা সাধারণত ভবন এবং এর ভেতরের সম্পদের ক্ষতি কভার করে। ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী প্রিমিয়াম ভিন্ন হয়। যুক্তরাষ্ট্রে, যেখানে বাজারটি তুলনামূলকভাবে পরিণত, সেখানে বছরে সাধারণ বীমা প্রিমিয়াম ৯০০ থেকে ১,২০০ ডলারের মধ্যে থাকে। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় এলাকায় এটি ২,০০০ ডলারের বেশি হতে পারে। দেশটিতে সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত ন্যাশনাল ফ্লাড ইনস্যুরেন্স প্রোগ্রাম (এনএফআইপি) এবং বেসরকারি খাতের উন্নত ঝুঁকি বিশ্লেষণ প্রযুক্তি এই বাজারকে শক্তিশালী করেছে।
বিশ্বব্যাপী সম্পত্তি ও দুর্ঘটনা বীমা খাতের তুলনায় বন্যা বীমার অংশ এখনও ২ শতাংশের কম। তবে এটি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। উত্তর আমেরিকা এই বাজারের প্রায় ৪৫ শতাংশ দখল করে রেখেছে, যেখানে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব এবং উচ্চ বীমা প্রবেশ হার বড় ভূমিকা রাখছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের পরিস্থিতি ভিন্ন। বিশ্বের অন্যতম বন্যাপ্রবণ দেশ হওয়া সত্ত্বেও এখানে বন্যা বীমার বাজার অত্যন্ত সীমিত। দেশে সামগ্রিক বীমা প্রবেশ হার জিডিপির ০.৫ শতাংশেরও নিচে। পাশাপাশি উন্নত দেশের মতো বড় কোনো সরকার-সমর্থিত বন্যা বীমা কর্মসূচিও নেই।
ফলে বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন ও ক্ষতি মোকাবিলায় বাংলাদেশে এখনও প্রধানত নির্ভর করতে হয় সরকারি সহায়তা ও বৈদেশিক অনুদানের ওপর। এতে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত হয় না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশে টেকসই আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বন্যা বীমা খাতের দ্রুত উন্নয়ন জরুরি। এজন্য সরকারি নীতিগত সহায়তা, বেসরকারি বিনিয়োগ এবং জনসচেতনতা সমন্বিতভাবে বাড়ানো প্রয়োজন।



