পদ্মা ইসলামী লাইফের লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত বিনিয়োগকারীরা
আরেফিন ফয়সাল:
২০১২ সালে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারীদের থেকে ৩২ কোটি ৪০ লাখ টাকা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোন লভ্যাংশ দেয়নি ঢাকা স্টক এক্সেঞ্জের তালিকাভুক্ত বীমাখাতের কোম্পানি পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড। এমনকি বাৎসরিক আর্থিক মূল্যমান না থাকায় বঞ্চিত হচ্ছে পলিসিহোল্ডাররা।
বিনিয়োগকারীদের শেয়ার প্রতি আয়, চলমান ব্যবসা এমনকি বছর ভিত্তিক কোম্পানিটির কোন আর্থিক বিবরণী দেয়া নেই ডিএসই’তে। কোম্পানিটিতে বিনিয়োগকারীদের শেয়ারে টাকা দিয়ে কি করা হচ্ছে, কোথায় কিভাবে টাকাগুলো আছে, কিভাবে ব্যয় করা হচ্ছে তার কোন সংবেদনশীল তথ্য নেই ডিএসই’তে।
বছর ভিত্তিক ব্যয়ের হিসাবে দেখা যায়, প্রশাসনিক এবং অন্যান্য ব্যয় বাবদ ২০১৪ সালে কোম্পানিটি খরচ করেছে ৫৮ কোটি টাকা এবং ২০১৫ সালে ব্যয় করেছে ৪২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এছাড়া ব্যবস্থাপনা ব্যয় বাবদ ২০১৪ সালে খরচ করে ৫২ কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং ২০১৫ সালে খরচ করে ৩৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা।
ডিএসই তথ্য অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বরকে সমাপ্ত বছর ধরে শুধুমাত্র ২০১২ সালের সমাপ্ত হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৮ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। এরপর ২০১৩, ২০১৪, ২০১৫ এবং ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত বছর চলে গেলেও কোম্পানির পক্ষ থেকে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ ফেরত দেবার কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।
৪ বছর হয়ে গেলেও বিনিয়োগকারীদের শেয়ারের লভ্যাংশ কেন দেয়া হচ্ছে না জানতে চাইলে কোম্পানির সিনিয়র সহযোগী ম্যানেজার এবং সহযোগী সেক্রেটারি আবু সাঈদ সরকার ইন্স্যুরেন্সনিউজবিডি’কে জানান তারা বেসিস এবং বাৎসরিক আর্থিক মূল্যায়ণ তৈরি করতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০১৩ সালে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ তাদের লভ্যাংশ প্রদানের অনুমোদন দেয়নি।
এরপর ২০১৪ এবং ২০১৫ সালেও তারা বাৎসরিক আর্থিক মূল্যায়ণ তৈরি করতে ব্যর্থ হওয়ায লভ্যাংশ প্রদানে অনুমতি পায়নি। তবে খুব অল্প সময়ের মধ্যে বাৎসরিক আর্থিক মূল্যায়ণ তৈরি করে তারা ২০১৬ সালসহ ১৩, ১৪ এবং ১৫ সালের লভ্যাংশ খুব দ্রুত দিতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আবু সাঈদ।
শেয়ারদর পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত দুই বছরে পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর সর্বনিম্ন ২৪ টাকা ৯ পয়সা এবং সর্বোচ্চ ৪৩ টাকা ২ পয়সায় বেচাকেনা হয়। গত এক মাসে কোম্পানিটির শেয়ারদর সর্বনিম্ন ৩০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৪৩ টাকা ২ পয়সায় বেচাকেনা হয়েছে।
২০১২ সালে তালিকাভুক্ত হওয়া ‘জেড’ ক্যাটাগরির এই কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। ২০১৫ সালে লাইফ ফান্ডের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ারের সংখ্যা ৩ কোটি ২৪ লাখ। এরমধ্যে পরিচালকদের কাছে ৫৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১২ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।