গাছের জন্য বীমা চালুর দাবি দক্ষিণ কোরিয়ায়
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: গাছের জন্য বীমা পলিসি চালু করার দাবি জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার বন নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো। সম্প্রতি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে গাছ-পালা তথা বন বা অরণ্য ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই দাবি তোলা হয়েছে। সংগঠনগুলো বলছে, ট্রি ইন্স্যুরেন্স চালু করা হলে গাছ মালিকরা তথা বনায়ণকারিরা আর্থিক লোকসান থেকে সুরক্ষা পাবে।
ফরেস্ট্রি কো-অপারেটিভ ইন কোরিয়া ও কোরিয়া ফরেস্ট সার্ভিস জানিয়েছে, দাবানল, ভূমিধস, এবং কীটপতঙ্গ উপদ্রবের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে গাছ-পালা তথা অরণ্য ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কিন্তু দেশে বর্তমানে এমন কোন কৃষি দুর্যোগ বীমা নেই, যার মাধ্যমে এসব বন মালিকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
দক্ষিণ কোরিয়ায় দুই মিলিয়ন বেসরকারি বন মালিকের পক্ষে যুক্তি উত্থাপন করছে ফরেস্ট্রি কো-অপারেটিভ ইন কোরিয়া। তারা বলছে, বনায়ণকারীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রাসঙ্গিক বীমা পলিসির অভাব রয়েছে, যা তাদের ব্যাপকভাবে অনুৎসাহ কাজ করছে।
২০১৬ সালে পাইন উড নিমাটোড'র উপদ্রবে ১৩ লাখ ৭০ হাজার গাছ কাটা পড়েছে। কিন্তু এসব লোকসানের জন্য গাছ মালিকরা কোন ক্ষতিপূরণ পায়নি। ফরেস্ট্রি কো-অপারেটিভ মনে করে, ২০১১ সালের কৃষি ও মৎস্য দুর্যোগ বীমা সংস্কার বিল অনুসারে ট্রি ইন্স্যুরেন্স সুবিধা পাওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করার তাদের আইনি অধিকার রয়েছে।
বন মালিকদের সেবা দেয়ার জন্য একটি বীমাখাত তথা বীমা প্রকল্প সৃষ্টিতে সংগঠন দু'টি আগামী ৩ বছর একসঙ্গে কাজ করবে বলেও জানিয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে পাইন এবং সাইপ্রেস গাছসহ ৭ প্রকার গাছের বীমা কভারেজ প্রদান করা হবে।
অন্যদিকে কতিপয় সরকারি সংস্থা ট্রি ইন্স্যুরেন্সের প্রস্তাবের বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, গাছ-পালা খুব বেশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রবণ না হওয়ায় এখন ট্রি ইন্স্যুরেন্সের জরুরি প্রয়োজন নেই বলে তারা বিশ্বাস করে। (সূত্র: আইবি)