২০১৭-১৮ খরিফ মৌসুম

মোদির শস্য বীমা প্রকল্পে মুনাফা ৮৫%

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ২০১৭-১৮ খরিফ মৌসুমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শস্য বীমা প্রকল্পে ৮৫ শতাংশ মুনাফা হয়েছে। প্রিমিয়াম আয় হয়েছে ১৭৭.৯৬ বিলিয়ন রুপি। আর প্রশাসনিক খরচসহ পুনর্বীমা ও বীমা দাবি পরিশোধ বাবদ ব্যয় হয়েছে ২৭.৬৭ বিলিয়ন রুপি। অর্থাৎ শস্য বীমার এ প্রকল্পে ১৫০.২৯ বিলিয়ন রুপি লাভ হয়েছে।

অন্যদিকে এই শস্য বীমা প্রকল্পে ২০১৬-১৭ খরিফ মৌসুমে বীমা কোম্পানিগুলোর লাভ ছিল ৪৪ শতাংশ। সে সময় প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে সর্বমোট ১৫৭.৩৫ বিলিয়ন রুপি। এর বিপরীতে দাবি পরিশোধ করে ৮৮.৬২ বিলিয়ন রুপি। ভারতের কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ইন্দো এশিয়ান নিউজ সার্ভিস।

২০১৭-১৮ খরিফ মৌসুমে আরেকটি শস্য বীমা প্রকল্পে বীমা কোম্পানিগুলো ৯৬ শতাংশ মুনাফা করেছে। এ প্রকল্পে কোম্পানিগুলো ১৬.৯৪ বিলিয়ন রুপি প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে। তবে বীমা দাবি পরিশোধ করতে কোম্পানিগুলোকে ব্যয় করতে হয় ৬৯৯.৩ মিলিয়ন রুপি।

অলাভজনক প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর সায়েন্স এন্ড এনভায়রনমেন্ট'র উপ-পরিচালক চন্দ্র ভূষণ বলেন, বীমা দাবি কম উত্থাপিত হওয়ায় সরকার ও বীমাখাত এ মৌসুমকে 'শুভ মৌসুম' ও 'অধিক উৎপাদন' এর মৌসুম হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তবে দেশের নানা স্থানে জলবায়ুর বিরূপতা ও খরার মতো অবস্থা বিরাজ করেছে এবং বন্যাও হয়েছে।

বীমা দাবি কম পরিশোধ করতে হওয়ায় এটাকে ভালো বছর বলা যাবে না। কেননা, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আবহাওয়ার বিরূপতা এবং বন্যার তথ্য এসেছে। এ ছাড়াও প্রযুক্তির বিষয়াদিসহ মূল্যায়ন ও পাওনা পরিশোধের প্রক্রিয়াও প্রভাব ফেলেছে।

যদি সংগৃহীত প্রিমিয়ামের ১‌৫ শতাংশ বীমা দাবি উত্থাপন করা হয়ে থাকে তাহলে দেশের কৃষিখাতের কোন সমস্যা নেই। তাহলে এ ধরণের শস্য বীমা প্রকল্পেরও প্রয়োজন নেই, বলেন চন্দ্র ভূষণ।

প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা (পিএমএফবিওয়াই) নামের এই প্রকল্পে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ৫টি বীমা কোম্পানি এবং বেসরকারি মালিকানাধীন ১২টি বীমা কোম্পানি শস্য বীমা কভারেজ প্রদান করেছে। কৃষকদের সহায়তায় ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনায় ২০১৭-১৮ খরিফ মৌসুমে ৩৩.২ মিলিয়ন কৃষক শস্য বীমা গ্রহণ করে। যাদের ৩৩.৫ মিলিয়ন হেক্টর জমি বীমার আওতায় ছিল।