শস্য বীমার অনিষ্পন্ন দাবি পরিশোধে ১২% সুদ প্রদানের নির্দেশ
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: শস্য বীমার অনিষ্পন্ন দাবি পরিশোধে ১২ শতাংশ সুদ প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন মাদ্রাজ হাইকোর্ট। একটি জনস্বার্থ মামলা (পিআইএল)'র প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারকে এ নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের ওই আদালত। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আদালতকে দাবি পরিশোধের অবস্থা সম্পর্কে জানাতে বলা হয়েছে।
২০১৬-১৭ অর্থ বছরে উত্থাপিত শস্য বীমার দাবি পরিশোধে বিলম্ব হওয়ায় রিট মামলা দায়ের করেন চাষীরা। ফার্মার্স লিগ্যাল মুভমেন্ট নামে চাষীদের একটি সংগঠন মামলাটি পরিচালনা করে। বিচারক এস মনি কুমার এবং বিচারক সুব্রামনিয়াম এর ডিভিশন বেঞ্চ সম্প্রতি মামলার রায় ঘোষণা করেন। টাইমস অব ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
তথ্য অনুসারে, প্রবল বৃষ্টি, বন্য, ঘূর্ণিঝড়, তীব্র খরা এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোকে ক্ষতিগ্রস্ত ফসল তথা কৃষকের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা (বিএমএফবিওয়াই) প্রকল্প চালু করে ইউনিয়ন সরকার। প্রকল্পের আওতায় বীমা কাভারেজ প্রদান করে নিউ ইন্ডিয়া অ্যাস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। কেন্দ্রিয় ও রাজ্য সরকারের এজেন্সিগুলোর সম্বয়ে এটি বাস্তবায়ন করা হয়।
এদিকে কম বৃষ্টিপাতের কারণে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে তীব্র খরা এবং বাধ দিয়ে সংরক্ষিত নদী থেকে প্রয়োজনীয় পানি না পাওয়ায় ওই সময়ে ৩৩টি রাজস্ব জেলার ধান ও সাম্বা চাষ প্রভাবিত হয় এবং সর্বনিম্ন ফসল উৎপাদন রেকর্ড করা হয়। আদালতকে এ তথ্য জানিয়েছেন রিট আবেদনকারী।
ফার্মার্স লিগ্যাল মুভমেন্ট জানিয়েছে, প্রকল্পের নিয়ম অনুসারে ক্ষতিগ্রস্ত এসব কৃষক হেক্টর প্রতি ৬২ হাজার ৫শ' রুপি বীমা দাবি উত্থাপন করেন। সঠিকভাবে প্রিমিয়াম পরিশোধ করা সকল বীমার দাবির নির্ধারিত অংশ ২০১৭ সালের জুনের মধ্যে নিষ্পত্তি করা বীমা কোম্পানির জন্য বাধ্যবাধকতা ছিল।
আবেদনকারীর অভিযোগ, বীমা দাবি উত্থাপনের পর কয়েক দফা তাগাদা দেয়ার পরও মাত্র ২৫ শতাংশ দাবি পরিশোধ করা হয়। দীর্ঘ ১০ মাস বিলম্বের পর চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসে এসব দাবি পরিশোধ করা হয়। তবে ন্যায্য দাবি পেতে আবেদনকারীদের প্রচেষ্টার পরও প্রত্যাশিত ফলাফল না পাওয়ায় আদালতের দ্বারস্থ হয় সংগঠনটি।