হিমালয়ে পবর্তারোহী উদ্ধার নিয়ে বীমা প্রতারণা, ব্যবস্থা নিচ্ছে নেপাল

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: হিমালয় পর্বতমালার আরোহীদের নিয়ে বীমা প্রতারণার ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে নেপাল। বীমা কোম্পানিগুলোর দাবির প্রেক্ষিতে এরইমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে সরকার। ট্রেকিং এবং মাউন্টেইনিয়ারিং সংস্থাগুলো বীমা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে প্রতারণা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বীমা কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে করা একটি তদন্তে দেখা গেছে, ২০১৮ সালে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ১ হাজার ৬শ'র বেশি উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার প্রায় ৩৫ শতাংশই প্রতারণা বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রতারণার এসব ঘটনায় বীমা কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে ৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার হাতিয়ে নিয়েছে এসব চক্র।

হিমালয়ের এভারেস্ট ও অন্যান্য পর্বতে আরোহন করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়া আরোহীদের হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে জীবনের ঝুঁকি না থাকলেও সামান্য ঠাণ্ডা বা মাথা ব্যাথার মতো ছোট্ট কারণেই তাদের গাইড বা সহায়তাকারীরা জরুরি ভিত্তিতে হেলিকপ্টার তলব করেন বলে পর্বতারোহীদের অনেকে জানিয়েছেন।

পর্বত থেকে আরোহীদের উদ্ধারের পরে স্থানীয় বেসরকারি কোন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অপ্রয়োজনীয় ও ব্যয়বহুল চিকিৎসা দেয়া হয়। হেলিকপ্টারে একসঙ্গে কয়েকজন আরোহীকে উদ্ধার করা হলেও বিল ধরা হয় আলাদাভাবে। তাছাড়া হাসপাতালের পক্ষ থেকেও অতিরিক্ত বিল ধরা হয়। ট্রাভেল গাইড, হেলিকপ্টার ব্যবসায়ী এবং হাসাপাতাল কর্তৃপক্ষ মিলে এ প্রতারণা করে থাকে।

নেপাল ট্যুরিজম এন্ড সিভিল এভিয়েশন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঘানাশ্যাম উপধ্যায় জানিয়েছেন, প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ট্যুর এজেন্সি, হাসপাতাল এবং হেলিকপ্টার ব্যবসায়ীসহ ১৫টি কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক বীমা প্রতিষ্ঠান নেপাল সরকারকে সতর্ক করে জানায় যে, ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কোন ব্যবস্থা না নেয়া হলে নেপাল থেকে তাদের বীমা ব্যবসা গুটিয়ে নেবে। এমন হুমকির প্রেক্ষিতে নেপাল সরকার প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বর্তমানে নেপাল তার পর্যটন ব্যবসাকে আরো জোরদার করতে চাচ্ছে। ২০২০ সাল নাগাদ ২ মিলিয়ন পর্যটককে আকৃষ্ট করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এদিকে নেপালে ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোর জন্য কষ্টের জায়গা হচ্ছে দেশটির ভাষাগত বাধা, জটিল ও ব্যয়বহুল চিকিৎসা সেবা, নগন্য স্বাস্থ্যবিধি প্রতিবেদন ইত্যাদি। (সূত্র: গার্ডিয়ান, সিএনএন, আউটসাইড, নিউ ইয়র্ক টাইমস)