বীমা পলিসিতে আত্মহত্যার ধারা, ব্যাখ্যা চাইলেন আয়ারল্যান্ডের অর্থমন্ত্রী

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: লাইফ বীমা পলিসিতে আত্মহত্যা নিয়ে বিশেষ ধারা আরোপের বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছেন আয়ারল্যান্ডের অর্থমন্ত্রী পাসচাল দোনোহে। বীমা পলিসিতে লিয়েন হিসেবে আত্মহত্যার ধারাগুলোকে অবৈধ ঘোষণা করে নীতিমালা সংশোধনের পরিকল্পনা নিয়েছেন দোনোহে।

দোনোহে বলেন, তিনি কোনো বীমা কোম্পানির চুক্তি নির্ধারণের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারেন না। কিন্তু তিনি বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোতে তাদের কার্যকলাপগুলো পর্যবেক্ষণ করতে চান। এরইমধ্যে সরকারি কর্মকর্তারা ইন্স্যুরেন্স আয়ারল্যান্ডে তদারকিও শুরু করেছেন।

লাইফ বীমার পলিসিতে লিয়েন বা বিশেষ আরোপিত শর্তের কারণে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি কেউ আত্মহত্যা করে তবে বীমাকারীকে কোনও অর্থ প্রদান করতে হয় না। তবে শুধুমাত্র জমাকৃত বা মোট প্রিমিয়ামের টাকা প্রদান করতে হয়।

লাইফ বীমা পলিসিতে অর্থপ্রদানকে অনিশ্চিত কিংবা বিতর্কিত করে এমন ধারাগুলোর মধ্যে এটি একটি। এক্ষেত্রে বীমা গ্রহীতা সম্পর্কে বীমা কোম্পানির কাছ থেকে তথ্য গোপনের সন্দেহ পোষণ করতে পারে। এছাড়া বীমা প্রদানকারী মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বীমাকারীর চুক্তি বাতিল করতে পারে।

মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ফিয়েনা ফ্যাল এর মুখপাত্র জেমস ব্রাউন মন্ত্রীকে বলেছেন, কিছু বীমা কোম্পানি বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। এছাড়া মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে বীমাকারীদের চিন্তা-চেতনা সেকেলের-ই রয়ে গেছে, যা অচিরেই বন্ধ করা উচিত।

জেমস ব্রাউন বলে, তিনি এমন একটি মামলা পেয়েছেন যেখানে মানসিকভাবে সুস্থ হওয়া এক ব্যক্তি তার লাইফ বীমাটি বাতিল করেছেন।

একইভাবে আত্মহত্যা মামলার ক্ষেত্রে মন্ত্রী দোনোহে বলছেন, বীমা কোম্পানি যে ঝুঁকি গ্রহণ করছে তা আমার পক্ষে হস্তক্ষেপ করা সম্ভব না।

তিনি বলেন, আমি বীমা কোম্পানিগুলোর শর্তাবলী বা নীতিমালা বা বিশেষ পণ্যগুলির ক্ষেত্রে সরাসরি কোনো পরিবর্তন আনতে পারি না। তবে বিষয়গুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কোম্পানিগুলো কীভাবে পরিচালিত হয় তা আরও স্পষ্ট হওয়া উচিত।

এদিকে বীমা আয়ারল্যান্ড তাদের আত্মহত্যার ধারাগুলি স্পষ্ট করতে একটি জরিপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।