অস্ট্রেলিয়ায় দাবালনে বীমাখাতের লোকসান ১.৭২ বিলিয়ন ডলার

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ায় গেলো বছরের দাবানলে বীমাখাতের লোকসান হয়েছে ২.৪ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার তথা ১.৭২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বীমা দাবির দিক দিয়ে এটি শীর্ষ পাঁচটি ব্যয়বহুল বিপর্যয়ের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। ইন্স্যুরেন্স কাউন্সিল অব অস্ট্রেলিয়া (আইসিএ) সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

দেশটির বীমাখাতের শীর্ষ এ সংস্থা জানিয়েছে, লিগ্যাল এইড এনএসডব্লিউ’র তিনটি প্রান্তিকের হিসাব অনুসারে বীমা কোম্পানিগুলো ৩০ হাজার বীমা দাবি গ্রহণ করেছে। এ ছাড়াও দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত হাজার হাজার অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক এখনো তাদের বীমা দাবি নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছেন বলেও জানিয়েছে বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইসিএ।

ইন্স্যুরেন্স কাউন্সিল অব অস্ট্রেলিয়ার রিস্ক এন্ড অপারেশন্স বিভাগের প্রধান কার্ল সালিভান বলেছেন, অস্থায়ী আবাসনসহ নগদ এবং সুযোগ-সুবিধা প্রদানের দিক দিয়ে এখন পর্যন্ত সর্বমোট ১.৮ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার অর্থ প্রদান করা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার বীমা শিল্প জানিয়েছে যে, ছোট বীমা দাবিগুলো নিষ্পত্তি হতে তিন থেকে পাঁচ মাস সময় লেগেছিল এবং কোভিড-১৯ এর কারণে কিছু কিছু বাড়ির ক্ষেত্রে এই সহযোগিতা করাটা ছিল কষ্টসাধ্য। ফলে আরও জটিল বিল্ডিং সম্পর্কিত কিছু বীমা দাবি জন্য ১২ থেকে ১৮ মাস সময় নিতে পারে বলে জানিয়েছেন কার্ল সালিভান।

বিপর্যয়ের সময় এবং পরবর্তী কয়েক মাসে লিগ্যাল এইড এনএসডব্লিউ দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সরকারের মাধ্যমে ৬৫ জন পরামর্শক নিয়োগ করে এবং ৮৩৫ জন বাসিন্দাকে পরামর্শ প্রদান করে। সহযোগিতার জন্য তাদের করা আবেদনের প্রায় অর্ধেকই ছিল বীমার সাথে সম্পর্কিত। এইসিএ’র আনুমানিক হিসাবে দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের ২০ থেকে ৪০ শতাংশই বীমার আওতায় ছিল।

কার্ল সালিভান বলেন, কিছু লোক পর্যাপ্ত পরিমাণ বীমা কেনেনি। খুব তাড়াতাড়ি দেখা যাবে, তারা যে পরিমাণ বীমা কিনেছে কাজের ক্ষেত্র বা পুনর্নির্মাণ ব্যয় তার চেয়ে বেশি হবে। এই পরিস্থিতিতে দুঃখজনকভাবে আলাপ-আলোচনার খুব একটা সুযোগ নেই।

এক বছর আগে আগস্টের মাঝামাঝিতে রাজ্যের উত্তরে ফার্স্ট হোমে অগ্নিকাণ্ডের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল দাবানল। অগ্নিকাণ্ডটি মধ্য-উত্তর উপকূল, হান্টার, দক্ষিণ উচ্চভূমি, মধ্য পশ্চিম, নীল পর্বতমালা, হকসবারি, তুষার পর্বতমালা, রিভারিনা, শোয়ালহ্যাভেন এবং দক্ষিণ উপকূলের বৃহতৎ অঞ্চলগুলোতে আঘাত হানে এবং ২ হাজার ৪শ’রও বেশি বাড়িঘর ধ্বংস করে দেয়। (সূত্র: এআইআর)