ইন্দোনেশিয়ায় বিদেশি পর্যটকদের জন্য ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইন্দোনেশিয়ায় বিদেশি পর্যটকদের জন্য ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগকে দেশটির আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস অথরিটি (ওজেকে) আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানিয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় অধিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এ পদক্ষেপ ইন্দোনেশিয়ার বীমা শিল্পে নতুন বাজার, বিনিয়োগ এবং উদ্ভাবনের সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক লিখিত বিবৃতিতে ওজেকে-এর ইন্স্যুরেন্স, গ্যারান্টি ও পেনশন ফান্ড তদারকি বোর্ডের প্রধান ওগি প্রাস্তোমিয়োনো বলেন, বিদেশি পর্যটকদের জন্য ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স বাধ্যতামূলক করা হলে ভ্রমণের সময় যে কোনো সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় তারা কার্যকর সুরক্ষা পাবেন। এই বীমা কাভারেজ দুর্ঘটনা, হঠাৎ স্বাস্থ্যগত জরুরি পরিস্থিতি কিংবা অপ্রত্যাশিতভাবে ভ্রমণ বাতিল হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থায় পর্যটকদের আর্থিক চাপ কমাতে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তবে ওজেকে স্পষ্ট করেছে যে, প্রস্তাবটি এখনো পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং নীতি বাস্তবায়নের আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গভীরভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। ওগি প্রাস্তোমিয়োনো বলেন, ইকোসিস্টেমের প্রস্তুতি- অর্থাৎ বীমা খাত, পর্যটন খাত, স্বাস্থ্যসেবা এবং অভিবাসন ব্যবস্থার সমন্বিত সক্ষমতা-বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং পর্যটক ও ভোক্তা সুরক্ষার দিকগুলো বিবেচনায় নিয়ে এমন একটি কাঠামো তৈরি করতে হবে, যাতে নীতিটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই থাকে। তিনি বলেন, এই নীতির বাস্তবায়নের জন্য আরও অধ্যয়ন করা প্রয়োজন, যাতে প্রস্তুতি ও প্রক্রিয়ার ঘাটতি থাকলে তা আগেই শনাক্ত করে সমাধান করা যায় এবং ভোক্তা সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ইন্দোনেশিয়ার পর্যটন শিল্পে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্যটক প্রবেশ করেন; ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি, দুর্ঘটনা বা জরুরি চিকিৎসার মতো পরিস্থিতি সামলাতে একটি নির্ভরযোগ্য আর্থিক সুরক্ষা কাঠামোর প্রয়োজন দিন দিন আরও স্পষ্ট হচ্ছে। কোনো পর্যটকের বড় ধরনের চিকিৎসা ব্যয় বা জরুরি পরিবহন খরচ- যেমন হাসপাতালে ভর্তি, অস্ত্রোপচার বা বিশেষায়িত সেবা- যদি বীমার আওতায় আসে, তাহলে সংকট মুহূর্তে দ্রুত সেবা পাওয়া সহজ হয় এবং স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উপর অতিরিক্ত চাপও কমতে পারে। একই সঙ্গে এমন বাধ্যতামূলক কাভারেজ ইন্দোনেশিয়ার পর্যটন খাতের ‘নিরাপদ গন্তব্য’ ভাবমূর্তি জোরদার করতে সহায়ক হতে পারে।

ওজেকে-এর মূল্যায়নে, এই নীতি বাস্তবায়িত হলে ইন্দোনেশিয়ার বীমা শিল্পের জন্যও এটি বড় সম্ভাবনার দরজা খুলে দেবে। আন্তর্জাতিক পর্যটকদের প্রয়োজন অনুযায়ী স্বল্পমেয়াদি এবং কাস্টমাইজড পলিসি- যেখানে জরুরি চিকিৎসা, দুর্ঘটনা, ট্রিপ বাতিল, লাগেজ ক্ষতি বা ফ্লাইট বিলম্বের মতো সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকবে- এ ধরনের পণ্য উদ্ভাবনের সুযোগ বাড়বে। পর্যটন-সম্পর্কিত বীমা পণ্যের চাহিদা তৈরি হলে বীমা কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা, ডিজিটাল সেবা, দ্রুত ক্লেইম সেটেলমেন্ট ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা নেটওয়ার্ক গড়ার ক্ষেত্রেও প্রতিযোগিতা বাড়বে- যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তা ও পর্যটক উভয়ের জন্য লাভজনক হতে পারে।

তবে নীতিটি কার্যকর করতে গেলে ন্যূনতম কাভারেজ মানদণ্ড, প্রিমিয়ামের যৌক্তিকতা, বীমা কেনার প্রক্রিয়া কতটা সহজ হবে, এবং জরুরি অবস্থায় পর্যটক কত দ্রুত সহায়তা পাবেন- এসব প্রশ্নের উত্তরও নীতির কাঠামোর অংশ হয়ে উঠবে। বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হবে যেন এটি কেবল আনুষ্ঠানিকতা না হয়ে যায়; বরং বাস্তবে পর্যটকরা উপকার পান এবং কোনো ধরনের অস্বচ্ছতা বা অতিরিক্ত ভোগান্তির সৃষ্টি না হয়। পর্যটকদের তথ্য সুরক্ষা এবং বীমা সেবাদাতাদের জবাবদিহিতাও এখানে বড় বিবেচ্য।

ওজেকে বলছে, এই প্রস্তাব বাস্তবায়নযোগ্য হলে তা পর্যটক সুরক্ষার ক্ষেত্রে ইন্দোনেশিয়াকে আরও সুসংগঠিত, আধুনিক ও দায়িত্বশীল গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরতে পারে। পাশাপাশি এটি জাতীয় বীমা শিল্পে নতুন গতি এনে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন একটি উপখাতও তৈরি করতে পারে। এখন নীতিটি কীভাবে চূড়ান্ত হয়, কোন শর্তে বিদেশি পর্যটকদের জন্য এটি বাধ্যতামূলক করা হয় এবং বাস্তবায়নে কতটা দক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়- সেদিকেই তাকিয়ে আছে পর্যটন ও আর্থিক খাতের সংশ্লিষ্টরা। (সংবাদ সূত্র: এশিয়া ইন্স্যুরেন্স রিভিউ)