২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বীমায় দীর্ঘস্থায়ী খরচচাপে প্রিমিয়াম বাড়ার শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বীমা খাত ২০২৬ সালে এমন এক বাস্তবতায় প্রবেশ করছে, যেখানে চাপটি আর স্বল্পমেয়াদি অস্বাভাবিকতা নয়, বরং কাঠামোগত ব্যয়-উর্ধ্বগতির ধারাবাহিকতা। হাসপাতাল ও প্রোভাইডারদের মূল্য নির্ধারণ ক্ষমতা, চিকিৎসা সেবার ইউনিট কস্ট, সেবার ব্যবহার (ইউটিলাইজেশন) বৃদ্ধি, স্পেশাল্টি ফার্মেসির বিস্তার এবং আচরণগত স্বাস্থ্যসেবার স্থায়ী চাহিদা- সব মিলিয়ে বীমাকারীদের সামনে আগামী বছরটি মুনাফা বাড়ানোর চেয়ে বেশি ক্ষতি সীমিত করার বছর হয়ে উঠতে পারে।

এই ব্যয়চাপের প্রভাব সাধারণত তিন জায়গায় দৃশ্যমান হয়: প্রিমিয়াম, কভারেজের শর্ত, এবং নেটওয়ার্কের পরিধি। অর্থাৎ খরচ বাড়লে হয় প্রিমিয়াম বাড়ে, নয়তো কভারেজ/বেনিফিট কাঠামো কঠোর হয়, কিংবা নেটওয়ার্ক সংকুচিত হয়- যার প্রতিটি সরাসরি গ্রাহকের অভিজ্ঞতা ও অ্যাক্সেসের সঙ্গে জড়িত। ফলে ২০২৬ সালে বীমাকারীরা বাজারের হিসাবের পাশাপাশি নীতিগত অনিশ্চয়তা ও জনমত- দুইয়ের মধ্যেই ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা করতে বাধ্য হতে পারে।

কমার্শিয়াল বাজারে চাপ সবচেয়ে তীব্র

বিশেষ করে কমার্শিয়াল গ্রুপ সেগমেন্টে মেডিক্যাল কস্ট ট্রেন্ড উচ্চ-সিঙ্গেল ডিজিটে যাওয়ার আশঙ্কা নিয়ে আলোচনা আছে, যা প্রিমিয়াম বৃদ্ধির চাপ বাড়াতে পারে। হাসপাতালে ভর্তি, আউটপেশেন্ট সার্জারি এবং জটিল কেস ম্যানেজমেন্ট- এসব খাতে দাবি (ক্লেইমস) আগের তুলনায় বেশি ব্যয়বহুল হচ্ছে। একই চিকিৎসা পথেও খরচের সেভিয়ারিটি বাড়ছে। প্রোভাইডার কনসোলিডেশন এবং বড় হাসপাতাল সিস্টেমগুলোর দরকষাকষির ক্ষমতা এই প্রবণতাকে আরও শক্তিশালী করে, কারণ বাজার যত বেশি কনসোলিডেটেড হয়, রেট নেগোসিয়েশনে ইন্স্যুরারের ক্ষমতা তত কমে।

এসিএ মার্কেটপ্লেসে নীতিগত অনিশ্চয়তা

২০২৬ সালের আরেকটি বড় অনিশ্চয়তা হলো বর্তমান আইন অনুযায়ী ২০২৫ সালের শেষে উন্নত এসিএ মার্কেটপ্লেস ট্যাক্স ক্রেডিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা। সহায়তা কমলে অনেকের আউট-অফ-পকেট প্রিমিয়াম বাড়তে পারে এবং বাজার আচরণও বদলাতে পারে। তুলনামূলক স্বাস্থ্যবান ও মূল্য-সংবেদনশীল সদস্যরা কভারেজ ছাড়লে রিস্ক পুলে অপেক্ষাকৃত বেশি চিকিৎসা-প্রয়োজনীয় সদস্যের অনুপাত বাড়তে পারে (অ্যাডভার্স সিলেকশন)। এর ফলে দাবি খরচ বাড়ে, প্রিমিয়াম বাড়ানোর চাপ বাড়ে এবং প্রিমিয়াম বাড়লে আরও মানুষ বাজার ছাড়ে- এই নেগেটিভ ফিডব্যাক লুপ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই ২০২৬ সালে মূল প্রশ্ন কেবল এনরোলমেন্ট কত কমবে তা নয়। বরং কারা কভারেজে থাকবে এবং সদস্যদের রিস্ক মিক্স কেমন হবে সেটাই প্রিমিয়ামের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে।

মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ: রেট বনাম খরচের দৌড়

মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ বাজারে রেট আপডেট ইতিবাচক হলেও ২০২৬ সালে বাস্তব প্রতিযোগিতা হবে রাজস্ব বৃদ্ধির গতি বনাম মেডিক্যাল কস্ট বৃদ্ধির গতির মধ্যে। ইউটিলাইজেশন ও ইউনিট কস্ট যদি দ্রুত বাড়ে, তাহলে পরিকল্পনাগুলো বেনিফিট-উদারতা থেকে সরে এসে কস্ট-কন্ট্রোল, ইউটিলাইজেশন ম্যানেজমেন্ট, নেটওয়ার্ক টাইট করা, বা প্রায়োর অথরাইজেশন বাড়ানোর পথে যেতে পারে। এতে গ্রাহকের কাছে অ্যাক্সেসের অভিজ্ঞতা বদলাতে পারে- ডাক্তারের পছন্দ কমা, কিছু সেবায় অনুমোদন-নির্ভরতা বাড়া, বা আউট-অফ-পকেট চাপ বৃদ্ধি- এসব বাস্তবতা বেশি দৃশ্যমান হতে পারে।

মেডিকেইড: নীরব চাপ, কিন্তু বড় ঝুঁকি

মেডিকেইড-এ চাপ অনেক সময় নীরব থাকে। রাজ্যভেদে যোগ্যতা যাচাই, নীতিগত পরিবর্তন বা প্রশাসনিক কড়াকড়িতে এনরোলমেন্ট কমতে পারে। একই সঙ্গে যারা কভারেজে থাকবে, তাদের মধ্যে তুলনামূলক বেশি চিকিৎসা-প্রয়োজনীয় সদস্যের অনুপাত বাড়লে প্রতি সদস্যে ব্যয় বাড়ে। প্রোভাইডার ট্যাক্স বা রাজ্য-সমর্থনের উৎস দুর্বল হলে এবং রিইম্বার্সমেন্ট বাস্তব কস্ট বৃদ্ধির সঙ্গে তাল না মিললে ম্যানেজড মেডিকেইড প্ল্যানগুলোর মার্জিনে চাপ তৈরি হতে পারে। নেটওয়ার্ক সংকুচিত হলে সেফটি-নেট সেবায় চাপ বাড়তে পারে, যার পরোক্ষ প্রভাব জরুরি সেবা ও আনকম্পেনসেটেড কেয়ারের বৃদ্ধির মাধ্যমে পুরো সিস্টেমে ফিরেও আসতে পারে।

সব মিলিয়ে ২০২৬ সালে স্বাস্থ্য বীমা শিল্পের সম্ভাব্য গতিপথ হলো: বীমাকারীরা খরচ নিয়ন্ত্রণে আরও আক্রমণাত্মক হবে, আর নিয়ন্ত্রণ যত কড়াকড়ি হবে, অ্যাক্সেস বনাম অ্যাফোর্ডেবিলিটি ঘিরে সামাজিক টানাপোড়েন ততই বাড়বে। প্রিমিয়াম সমন্বয়, নেটওয়ার্ক সংকোচন, বেনিফিট শর্ত কঠোরকরণ এবং স্পেশাল্টি ড্রাগ ব্যবস্থাপনায় কঠিন সিদ্ধান্ত- এসবই বাজারের স্বাভাবিক কৌশলে পরিণত হতে পারে। (সংবাদ সূত্র: বিইনশিউর)