ফিলিপাইনে সরকারি কৃষি বীমা সম্প্রসারণ: ২০২৬ সালে সুরক্ষা পাবেন ৩০ লাখ কৃষক-জেলে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও উৎপাদনঝুঁকির প্রেক্ষাপটে ফিলিপাইন সরকার ২০২৬ সালে সরকারি ভর্তুকিপ্রাপ্ত কৃষি বীমা কর্মসূচি উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারণ করছে। দেশটির কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আগামী বছর প্রায় ৩০ লাখ কৃষক ও মৎস্যজীবী এই বীমা সুবিধার আওতায় আসবেন- যা ২০২৫ সালের প্রায় ২৪ লাখ সুবিধাভোগীর তুলনায় বড় বৃদ্ধি।

২০২৬ সালের জেনারেল অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস অ্যাক্ট অনুযায়ী, ফিলিপাইন ক্রপ ইন্স্যুরেন্স করপোরেশন (পিসিআইসি) পেয়েছে ৬.৫ বিলিয়ন পেসো বরাদ্দ, যা ২০২৫ সালের ৪.৫ বিলিয়ন পেসো থেকে প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি। সরকারের মতে, এই অতিরিক্ত অর্থায়নের লক্ষ্য হলো বিনামূল্যের বীমা সুবিধা সম্প্রসারণ এবং বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক ও উপকূলীয় মৎস্যজীবীদের ঝুঁকি সুরক্ষা জোরদার করা।

নতুন ব্যবস্থায় ধান ও ভুট্টার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ফসলহানির সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ প্রতি হেক্টরে ২৫ হাজার পেসো নির্ধারণ করা হয়েছে (আগে ২০ হাজার পেসো)। পিসিআইসি-এর মাল্টি-পেরিল কাঠামোর আওতায় বন্যা, ঝড়, খরা, পোকামাকড়ের আক্রমণ ও রোগবালাইসহ একাধিক ঝুঁকি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

কর্মসূচিটি শুধু শস্যে সীমিত নয়; উচ্চমূল্যের ফসল, মৎস্য ও অ্যাকুয়াকালচার, গবাদিপশুসহ বিভিন্ন কৃষি সম্পদের ক্ষেত্রেও কভারেজ প্রযোজ্য হবে। পাশাপাশি নারিকেল খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ন্যাশনাল কোকোনাট ফার্মার্স রেজিস্ট্রি সিস্টেমে নিবন্ধিত কৃষকদের বীমা সুবিধা দেয়া হবে। ২০২৬ সালে আনুমানিক ৮ লাখ নারিকেল চাষিকে কভারেজের লক্ষ্য ধরা হয়েছে; এ জন্য কোকোনাট ফার্মার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ট্রাস্ট ফান্ড থেকে ৫০০ মিলিয়ন পেসো বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

সরকারি ভর্তুকিপ্রাপ্ত বীমা পেতে কৃষক ও মৎস্যজীবীদের কৃষি খাতের মৌলিক অংশগ্রহণকারীদের নিবন্ধন ব্যবস্থায় তালিকাভুক্ত থাকতে হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কৃষি বিভাগের হিসাবে, ২০২৬ সালে ভর্তুকিপ্রাপ্ত ও অ-ভর্তুকিপ্রাপ্ত মিলিয়ে মোট বীমাকৃত কৃষক ও মৎস্যজীবীর সংখ্যা প্রায় ৩৭ লাখে পৌঁছাতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে দ্রুত ক্ষতিপূরণ কৃষকদের উৎপাদনে ফিরে আসতে সহায়তা করবে, ঋণনির্ভরতা কমাবে এবং খাদ্য সরবরাহে স্থিতিশীলতা আনতে ভূমিকা রাখবে। (সংবাদ সূত্র: এশিয়া ইন্স্যুরেন্স রিভিউ)