বীমা খাত শক্তিশালী করতে একসঙ্গে কাজ করবে থাইল্যান্ড ও লাওস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: থাইল্যান্ড ও লাও পিপলস ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক (লাওস) তাদের বীমা খাতের সম্প্রসারণ, আধুনিকায়ন ও নিয়ন্ত্রক সক্ষমতা জোরদারে একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দুই দেশ স্বাস্থ্য বীমা ব্যবস্থার উন্নয়ন, বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) বীমার জন্য কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন এবং ইলেকট্রনিক বীমা পলিসি (ই-পলিসি) বাস্তবায়নে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াবে।
সমঝোতার পটভূমি
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে থাইল্যান্ডের বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফিস অব দ্য ইন্স্যুরেন্স কমিশন (ওআইসি) এবং লাওসের ডিপার্টমেন্ট অব ফিনান্সিয়াল এন্টারপ্রাইজ প্রোটেকশন-এর প্রতিনিধিদের মধ্যে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের বীমা খাতের বর্তমান অবস্থা, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামো আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
ওআইসি এক মিডিয়া বিবৃতিতে জানায়, বৈঠকে লাওসের প্রতিনিধিদের থাইল্যান্ডের বীমা খাতের সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে লাওসে থাই বীমা কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ বাড়ায় দুই দেশের মধ্যে নিয়ন্ত্রক সহযোগিতা গভীর করার প্রয়োজনীয়তাও গুরুত্ব পায়।
সহযোগিতার তিনটি কৌশলগত ক্ষেত্র
বৈঠকে উভয় পক্ষ ভবিষ্যৎ সহযোগিতাকে মূলত তিনটি খাতকে কেন্দ্র করে এগিয়ে নেয়ার বিষয়ে একমত হয়-
- অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্য বীমা
দুই দেশ এমন একটি স্বাস্থ্য বীমা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যা হবে টেকসই, সহজলভ্য এবং বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জন্য গ্রহণযোগ্য। স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বৃদ্ধি ও জনসেবার চাপ বাড়ার প্রেক্ষাপটে কার্যকর স্বাস্থ্য বীমা কাঠামো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জন্য নীতিগত অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে থাইল্যান্ড-লাওস যৌথ উদ্যোগকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
- ইভি বীমার জন্য নীতিমালা ও তদারকি জোরদার
ইভি ব্যবহারের বিস্তারের সঙ্গে দুর্ঘটনা ঝুঁকি, ব্যাটারি ক্ষতি, চার্জিং অবকাঠামো সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি এবং উচ্চ মেরামত ব্যয়ের মতো নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। এসব ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ইভি বীমার জন্য উপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন ও তদারকি কাঠামো শক্তিশালী করাকে সহযোগিতার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
- ই-পলিসি (ইলেকট্রনিক পলিসি) প্রচার
বীমা সেবা দ্রুততর করা, জালিয়াতির ঝুঁকি কমানো এবং পলিসি বিতরণ ও ক্লেইম প্রক্রিয়া সহজ করতে ডিজিটাল পলিসির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে দুই দেশ ই-পলিসি প্রচার ও বাস্তবায়নে যৌথভাবে কাজ করবে।
কেন এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ
এই সহযোগিতার মাধ্যমে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুফল পাওয়া যেতে পারে-
- নিয়ন্ত্রক সক্ষমতা বৃদ্ধি: জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার আদান-প্রদানের ফলে নিয়মকানুন হালনাগাদ ও তদারকি দক্ষতা বাড়বে।
- আঞ্চলিক বাজার সংযোগ: সীমান্ত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বীমা সেবার বিস্তার সহজ হবে।
- গ্রাহক আস্থা ও বাজার স্থিতিশীলতা: স্বচ্ছতা, আধুনিক পণ্য ও শক্তিশালী তদারকি দীর্ঘমেয়াদে বাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।
ওআইসির মতে, এই সহযোগিতার মাধ্যমে আঞ্চলিক পর্যায়ে বীমা ব্যবস্থার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে দুই দেশের বীমা খাতে স্থিতিশীলতা ও গ্রাহক আস্থা আরও দৃঢ় হবে। (সংবাদ সূত্র: এশিয়া ইন্স্যুরেন্স রিভিউ)




