বীমার টাকা পেতে গ্রাহকের মামলা

রাজবাড়ির আদালতে গিয়ে জামিন নিলেন ফারইষ্ট লাইফের চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজবাড়ির আদালতে গিয়ে জামিন নিলেন ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম। আজ মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে তিনি আদালতে হাজির হন। রাজবাড়ির সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুজ্জামান তার জামিন মঞ্জুর করেন। একইসঙ্গে মামলাটি বিচারিক আদালতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাদীর আইনজীবী লিয়াকত আলী জানান, মামলাটি জামিনযোগ্য এ কারণেই আদালত জামিন মঞ্জুর করেছে। একইসঙ্গে মামলাটি বিচারিক আদালতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন।

বাদী রফিকুল ইসলাম জানান, বেলা ১২টার দিকে আদালতে হাজির হন নজরুল ইসলাম। তিনি হাইকোর্টের ১৫ থেকে ২০ জন আইনজীবী নিয়ে সেখানে যান। আদালত চত্বরে ১৫/২০টি গাড়ির বহর দেখে সাধারণ মানুষের মধ্যে গুঞ্জণ শুরু হয়। গোটা রাজবাড়ী শহরেই মামলাটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। জামিন মঞ্জুর হওয়ার পরই আইনজীবীদের বহর নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন নজরুল ইসলাম। তবে বীমা দাবির টাকা পরিশোধের বিষয়ে তার সঙ্গে কোনো আপস হয়নি বলেও জানান রফিকুল ইসলাম।

তিনি আরো জানান, গতকাল থেকেই রাজবাড়ীতে ফারইষ্ট ইসলামী লাইফের কর্মকর্তাদের আনাগোনা ছিল। কোম্পানিটির একাধিক কর্মকর্তাকে গাড়ি নিয়ে এদিক সেদিক ঘোরাফেরা করতে দেখ গেছে।

এর আগে গত রোববার রাজবাড়ীর রাজবাড়ীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আদালতে হাজির না হওয়ায় নজরুল ইসলামকে পলাতক বিবেচনা করে তার বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করা হয়। আদালতে হাজির না হওয়ায় আদালতের দৃষ্টিতে তিনি পলাতক। এ বিবেচনায় ফৌজদারি কার্যবিধির ৮৭ ও ৮৮ ধারা মতে নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে হুলিয়া জারির আদেশ দেন রাজবাড়ীর ১ নং আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফরহাদ মামুন। আদেশে আরও বলা হয়, পুলিশ প্রয়োজন হলে তার মালামাল ক্রোক করতে পারবে ।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শামসুজ্জামান। ১৮ এপ্রিল ডাকযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা পাঠানো হয় ঢাকার পল্টন থানায়। তবে পল্টন থানা জানায়, গ্রেফতারি পরোয়ানা তারা পায়নি।

সূত্র মতে, বীমা দাবি বাবদ ২৫ লাখ ২০ হাজার টাকা পাওনা পরিশোধ না করায় ফারইষ্ট ইসলামী লাইফের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ও ব্রাঞ্চ কো-অর্ডিনেটর মো. মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ৪১৮/৪২০ ধারায় মামলা করেন রাজবাড়ী পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের মো. রফিকুল ইসলাম বাবু। মামলা নং-সি/আর ১৭৩/১৭।

বাদীর দাখিল করা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বিচার বিশ্লেষণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ দেন আদালত।

মামলার বাদী রফিকুল ইসলাম জানান, তার স্ত্রী স্বপ্না পারভীন ২০১৫ সালের ২৮ জুন ফারইষ্ট ইসলামী লাইফে ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকার একটি পলিসি করেন। পলিসি নং ১২৬০০০০২০১-৩। এর ৭ মাস পরে ২০১৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি স্বপ্না পারভীন মারা যান। মারা যাওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে মৃত্যুদাবির টাকা আদায়ে ফারইষ্ট ইসলামী লাইফের ফরিদপুর সার্ভিসিং সেলে আবেদন করে। এর ৫ মাস পর গত বছরের ১৯ জুলাই ফারইষ্ট ৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করে। অথচ পলিসির শর্ত অনুসারে ২৫ লাখ ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করার কথা।

পরবর্তীতে বাকি টাকা আদায়ে কোম্পানিতে যোগাযোগ করেন রফিকুল। এ সময় এত বড় অংকের টাকা একবারে দিতে পারবে না বলে জানায় ফরিদপুর সার্ভিসিং সেলের কর্মকর্তারা। কিন্তু এর কিছু দিন পরেই আবার কর্মকর্তারা জানান তিনি আর কোনো টাকা পাবেন না।

পরবর্তীতে দাবির টাকা আদায়ে ২ বার উকিল নোটিশ করেন রফিকুল।

এতেও কোম্পানি থেকে টাকা পরিশোধ না করায় গত ১৪ মার্চ মঙ্গলবার রাজবাড়ীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নং আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন। ওই দিন সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই শেষে গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ দেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শামসুজ্জামান।