কম প্রিমিয়ামে বেশি লাভ
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের প্রথম দেশি-বিদেশি যৌথ মালিকানার বীমা কোম্পানি লাইফ ইন্স্যুরেন্স করপোরেশন (এলআইসি) অব বাংলাদেশ লিমিটেড। ২০১৬ সালের ১৮ অক্টোবর এলআইসি বাংলাদেশ নামে প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষকে কম প্রিমিয়াম রেটে বীমা সুবিধা দিতে বাংলাদেশের বাজারে পাঁচ ধরনের বীমা পলিসি এনেছে এলআইসি।
গ্রাহকদের আর্থিক নিরপত্তা ও সর্বোচ্চ সেবা প্রদানে এলআইসি বাংলাদেশ লিমিটেড এনেছে জীবন রক্ষক নামে বীমা পলিসি । জীবন রক্ষক পলিসি মূলত লাভসহ মেয়াদী বীমা পরিকল্প। এই পরিকল্পে রয়েছে নুন্যতম প্রিমিয়ামে বীমা গ্রাহকদের আর্থিক নিরাপত্তা ও সর্বোচ্চ সেবা প্রদানের নিশ্চয়তা।
এতে রয়েছে প্রিমিয়ামে ছাড়সহ বীমা অংকের ভিত্তিতে বিশেষ ছাড়। ৩ বছর পর ঋণ সুবিধা ছাড়াও গ্রাহকদের দেয়া হচ্ছে নানান সুবিধা। জীবন রক্ষক পলিসি মূলত একটি প্রচলিত লাভসহ মেয়াদী বীমা পরিকল্প। এতে ডাক্তারি পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা নেই। গ্রাহকের জন্য এই পলিসির বিশেষ আকর্ষণ বীমা অংক থেকে মোট প্রিমিয়াম কম নেয়া হয়।
জীবন রক্ষক পরিকল্পের সম্পূর্ণ প্রিমিয়াম পরিশোধের পর অর্থাৎ মেয়াদ শেষে গ্রাহক তার জমাকৃত টাকার (বীমা অংক) সঙ্গে কোম্পানি ঘোষিত বোনাস ও অতিরিক্ত বোনাস পাবেন।
বীমা অংক ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বা তার বেশি হলে প্রতি হাজারে ১.৫ টাকা ছাড় দেয়া হয় এ পলিসিতে। অর্থাৎ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বীমা অংক হলে গ্রাহক পাবেন ২২৫ টাকা ছাড়। আর ২ লাখ টাকা বীমা অংক হলে ৩শ' টাকা ছাড় পাবেন গ্রাহক।
বাৎসরিক, ষান্মাসিক, ত্রৈমাসিক ও মাসিক ভিত্তিতে প্রিমিয়াম পরিশোধ করা যায়। তবে বাৎসরিক ভিত্তিতে প্রিমিয়াম পরিশোধ করলে ২ শতাংশ ছাড় পাওয়া যাবে। তাছাড়া ষান্মাসিক ভিত্তিতে প্রিমিয়াম পরিশোধেও ছাড় রয়েছে। এক্ষেত্রে ১ শতাংশ ছাড় পাওয়া যাবে। তবে ত্রৈমাসিক ও মাসিক মোডে কোন ছাড় নেই।
এছাড়া কোন কারণে গ্রাহক প্রিমিয়াম প্রদান করতে না পারলে পরবর্তী দু'বছরের মধ্যে পলিসি পুনরায় চালু করা যায়। অর্থাৎ শেষ অপরিশোধিত প্রিমিয়ামের দুই বছরের মধ্যে এই পলিসি পুনরায় চালুর সুযোগ রয়েছে।
পলিসির মেয়াদকালে গ্রাহকের অনাকাঙ্খিত মৃত্যুতে বোনাসসহ বীমা অংকের ১২৫ শতাংশ প্রদান করা হয়। যার পরিমাণ হবে বার্ষিক প্রিমিয়ামের নূন্যতম ১০ গুণ। ৭০ বছর বয়সের মধ্যে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হলে বীমা অংকের দ্বিগুণ পাওয়া যাবে। কোন অবস্থাতেই মৃত্যু দাবির পরিমাণ প্রদত্ত প্রিমিয়ামের ১০৫ শতাংশের কম হবে না। তবে পঞ্চম পলিসি বছরের পরে গ্রাহকের মৃত্যু হলে বীমরা অংক এবং অতিরিক্ত সুবিধা দেয়া হয়।
জীবন রক্ষক পরিকল্প গ্রহণের জন্য গ্রাহকের সর্বনিম্ন বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে শেষ জন্মদিন অনুসারে ৮ বছর। আর সর্বোচ্চ বয়স ধরা হয়েছে নিকটতম জন্মদিন অনুসারে ৫৫ বছর। এক্ষেত্রে ম্যাচুরিটির সর্বাধিক বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে নিকটতম জন্মদিন অনুসারে ৭০ বছর।
১০ থেকে ২০ বছর মেয়াদে এ প্লান নিতে পারবে গ্রাহক। এক্ষেত্রে ন্যুনতম বীমা অংক ৭৫ হাজার টাকা থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ৫ হাজার টাকার গুণিতকে নির্ধারণ করা হয়েছে। নিম্ন ও মধ্যম আয়সম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য জীবন রক্ষক একটি আদর্শ পলিসি।