জেনিথ ইসলামী লাইফ সঠিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে: বিআইএ প্রেসিডেন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক: জেনিথ ইসলামী লাইফ সঠিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বীমা মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশন (বিআইএ)’র প্রেসিডেন্ট সাঈদ আহমেদ। তিনি বলেন, এনবিআর চেয়ারম্যানের সাথে আমাদের কথা হলো, সে প্রথমেই আমাদের সমালোচনা করলেন, এই খাতের সমালোচনা করলেন। তবে এই সমস্যা ইনশাআল্লাহ আশা করি আর থাকবে না। সেটার একটি বড় প্রমাণ, এখানে লাইফ বীমার প্রথম প্রজন্মের সিইও ও বর্তমান প্রজন্মের সিইও এখানে উপস্থিত আছেন। এই দুই সিইও-ই তারা তাদের জায়গা থেকে সঠিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আসলে যদি ইচ্ছা থাকে তাহলে সবই সম্ভব।

বুধবার (১৯ মার্চ) রাজধানীর ইআরএফ মিলনায়তনে জেনিথ ইসলামী লাইফের দিনব্যাপী ম্যানেজার কনফারেন্স ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাঈদ আহমেদ এসব কথা বলেন। কোম্পানিটির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম নুরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী বি এম ইউসুফ আলী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন জেনিথ ইসলামী লাইফের ভাইস চেয়ারম্যান এটিএম এনায়েত উল্যাহ, বিনিয়োগ কমিটির চেয়ারম্যান মো. ছায়েদুর রহমান, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নুরে আলম সিদ্দিকী।

বিআইএ প্রেসিডেন্ট সাঈদ আহমেদ বলেন, জেনিথ ইসলামী লাইফের যে স্ট্যাটিস্টিকস দেখলাম সেটা সত্যি প্রশংসার দাবিদার। আমি বিশ্বাস করি, শেষ পর্যন্ত জেনিথ পরিবার এভাবেই এগিয়ে যাবে। জেনিথ ইসলামী লাইফের যে ব্যবসার গ্রোথ, তা আরো বেশি উন্নত হতে পারত। কিন্তু সমাজে বীমা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা থাকার কারণে সেটি হয়নি। আমাদের (বীমা কোম্পানি) সম্পর্কে একটা কথা আছে যে, আমরা মানুষের প্রিমিয়াম নিচ্ছি কিন্তু সেটা দিচ্ছি না, পকেটে রেখে দিচ্ছি। এগুলো থেকে আমাদেরকে বেরিয়ে আসতে হবে। বিভিন্ন জায়গাতে যারা বিশেষ করে এই অপকর্মের সাথে জড়িত তারাও কিন্তু এর পেছনে কাজ করে যাতে নতুনরা মাঠে টিকতে না পারে।

সাঈদ আহমেদ বলেন, আমি জেনিথ ইসলামী লাইফকে বলব, বিশেষ করে সারা বাংলাদেশব্যাপী তাদের এই যে গ্রোথের পরিমাণ, এটা যদি বিভিন্ন মিডিয়াতে এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে এটা সার্কুলার করে। তাহলে তাদের ফলাফল হয়তো আরো বেশি আসবে। যারা মাঠপর্যায়ে প্রিমিয়াম আহরণে কাজ করছেন তাদের প্রিমিয়াম আহরণ আরো সহজ হবে।

সাঈদ আহমেদ বলেন, কোন কোম্পানি মানুষের কষ্টার্জিত প্রিমিয়াম বা তাদের সারা জীবনের অর্জন ১২ বছর থেকে ১৫ বছর বা ১৮/২০ বছর ধরে সঞ্চিত টাকাটা ফেরত দেবে না এবং তারা তছরুপ করে নিয়ে যাবে- বিআইএ তা হতে দেবে না। বিআইএ এ বিষয়ে সোচ্চার এবং আমরা যারা এবার বিআইএ’র নির্বাচিত তারা অঙ্গীকারবদ্ধ যে, আমরা এটা আর হতে দেব না। আমরা নিজেরাও এটা করব না এবং অন্যদেরও করতে দেব না। যেখানেই তারা সমস্যা করবে আমরা (বিআইএ) সেখানেই হস্তক্ষেপ করব।

বিআইএ প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, আমরা আপনাদের (জেনিথ ইসলামী লাইফের) পাশে আছি। আমাদের (বিআইএ) এই কমিটির যেখানে আপনাদের প্রয়োজন আমাদের কমিটি আপনাদের পাশে থাকবে। যেখানেই যে সমস্যা হবে আমরা সেটা সমাধান করতে যাবো। প্রয়োজনে আমাদের এই কমিটি, যদিও আমাদের সবার নিজস্ব প্রতিষ্ঠান আছে, কিন্তু তারপরও এর বাইরে এই বীমা খাতকে কিভাবে আরো উন্নত জায়গায় নেয়া যেতে পারে এবং যে দুর্নাম আছে তা ঘুচোনো যেতে পারে সেজন্য দেশের যেই প্রান্তে আপনারা অনুষ্ঠান করেন না কেন আমাদের বিআইএ’কে আহবান করলে আমরা অবশ্যই অংশগ্রহণ করব।

তিনি আরো বলেন, বিআইএ’র মেসেজগুলো আমরা মাঠপর্যায়ে আপনাদের দেব। আমরা এই খাতকে একটি পর্যায়ে আমরা নিতে চাই। আমরা আইডিআরএ ও এনবিআর’র সাথে বৈঠক করেছি। সেখানে আমাদের একটাই কথা ছিল যে, আজকে আমরা লাইফ ও নন-লাইফ মিলে মোট ৫ হাজার কোটি টাকার প্রিমিয়াম আয় হয়, সেটা কেন আমরা ২৫ হাজার কোটি টাকা করতে পারব না। এটা আসলেই সম্ভব।

জেনিথ ইসলামী লাইফ কম্পিউটারাইজড পদ্ধতিতে কাজ করে উল্লেখ করে বিআইএ প্রেসিডেন্ট বলেন, আপনারা যারা ডিজিটাল বেজড কাজ করছেন সেখানে যদি কোন সমস্যা হয় সেটা নিয়েও বিআইএ কাজ করবে। কোন কোম্পানির যদি এক্ষেত্রে কোন দুর্বলতা থাকে তাহলে বিআইএ’র পক্ষ থেকে আমরা তাদের সহায্য-সহযোগিতা করব। নিয়ন্ত্রক সংস্থাকেও আমরা বলব কম্পিউটারাইজ করার জন্য যাতে কেউ প্রিমিয়ামের টাকা নিজেদের পকেটে রাখতে না পারে, সে ব্যাপারে আমরাও সোচ্চার ভূমিকা রাখব।

সাঈদ আহমেদ বলেন, আমিও একটি লাইফ বীমায় সম্পৃক্ত তবে আপনাদের (জেনিথ লাইফের) উপস্থিতি এবং আগ্রহ দেখে বুঝা যাচ্ছে কাজে আপনারা খুবই এক্টিভ, ডায়নামিক। আপনাদের লিডার বা মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাও (এস এম নুরুজ্জামান) একজন এক্টিভ ব্যক্তি, তিনি সততার সাথে কাজ করেন। আমি তাকে যতটুকু জেনেছি, যখনি কিছু বলা হয় তিনি কাজ শুরু করে দেন। এমন লিডার পাওয়া ভাগ্যের বিষয়।

তিনি বলেন, আমরা এসোসিয়েশনের দায়িত্বটাকে একটা যুদ্ধ হিসেবে নিয়েছি। বীমা খাতের উন্নয়নে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবো। আমরা এই খাতের উন্নয়নে যা প্রয়োজন করবো। যাতে মানুষের মধ্যে হতাশা দুর হয়।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিআইএফ’র প্রেসিডেন্ট ও পপুলার লাইফের মুখ্য নির্বাহী বি এম ইউসুফ আলী বলেন, বীমা খাতের সমস্যা সমাধানে সময় দিতে হবে। সবাই বলে বীমা খাতের অবস্থা খারাপ আসলে কি তাই? আমাদের দেশের অর্থনীতি থেকেও কি বীমা খাতের অবস্থা খারাপ? আমি মনে করি কোম্পানিগুলোকে সময় দিতে হবে তাহলে সবাই গ্রাহকের টাকা দিতে সক্ষম হবে।

তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে আইডিআরএ একটা প্রস্তাব এসেছে বন্ড ছেড়ে টাকা সংগ্রহ করে গ্রাহকের বীমা দাবি পরিশোধের ব্যবস্থা করার জন্য। আমি এটার পক্ষে, এই উদ্যোগ বীমা খাতের জন্য সুফল বয়ে আনবে বলেও মন্তব্য করেন বিএম ইউসুফ আলী।