প্রিমিয়াম আয় বেড়েছে ৩৭.৮২%, দাবি পরিশোধের হার ৯৭.৫০%

সব সূচকে প্রবৃদ্ধি নিয়ে বেঙ্গল ইসলামী লাইফের শতকোটির মাইলফলক

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসলামী জীবন বীমা খাতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে বেঙ্গল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড। কোম্পানিটি ২০২৫ সালে গত এক যুগের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এ বছর প্রতিষ্ঠানটির মোট প্রিমিয়াম সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ১০১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, যা ২০২৪ সালে ছিল ৭৩ কোটি ৭ লাখ টাকা।

এক বছরের ব্যবধানে প্রিমিয়াম আয়ে বেঙ্গল ইসলামী লাইফের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৭ দশমিক ৮২ শতাংশ, যা কোম্পানিটির ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শক্তিশালী ব্যবসায়িক কৌশল, কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং গ্রাহক আস্থার প্রতিফলন হিসেবে এই প্রবৃদ্ধি বীমা খাতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে বেঙ্গল ইসলামী লাইফ নতুন প্রিমিয়াম সংগ্রহ করেছে ৬১ কোটি ৫০ লাখ টাকা, নবায়ন প্রিমিয়াম সংগ্রহ করেছে ৩৪ কোটি ২২ লাখ টাকা এবং গ্রুপ ও হেলথ ইন্স্যুরেন্স খাত থেকে সংগ্রহ করেছে ৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা। এর আগে ২০২৪ সালে কোম্পানিটির নতুন প্রিমিয়াম সংগ্রহ ছিল ৪৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, নবায়ন প্রিমিয়াম সংগ্রহ করেছিল ২৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা এবং গ্রুপ ও হেলথ ইন্স্যুরেন্স খাত থেকে সংগ্রহ করেছিল ৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

এই হিসাবে প্রথম বর্ষ প্রিমিয়ামে কোম্পানিটির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৫ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং নবায়ন প্রিমিয়ামে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪২ দশমিক ৯৪ শতাংশ, যা গ্রাহক ধরে রাখার সক্ষমতা ও বাজারে আস্থার প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুধু প্রিমিয়াম আয় বৃদ্ধিই নয়, ব্যয় ব্যবস্থাপনাতেও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে কোম্পানিটি। ২০২৫ সালে বেঙ্গল ইসলামী লাইফের মোট ব্যবস্থাপনা ব্যয় ছিল ৬৩ কোটি ৪ লাখ টাকা, যেখানে অনুমোদিত ব্যয়সীমা ছিল ৬৩ কোটি ১১ লাখ টাকা। অর্থাৎ অনুমোদিত সীমার তুলনায় ৭ লাখ টাকা কম ব্যয় করেছে প্রতিষ্ঠানটি, যা শতাংশের হিসাবে ০ দশমিক ১১ শতাংশ সাশ্রয়। এই অর্জন কার্যকর করপোরেট গভর্ন্যান্স ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণের শক্ত প্রমাণ বহন করে।

গ্রাহক আস্থার অন্যতম প্রধান সূচক হলো সময়মতো ও সুষ্ঠুভাবে বীমা দাবি পরিশোধ। এই দাবি পরিশোধেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বেঙ্গল ইসলামী লাইফ। ২০২৫ সালে কোম্পানিটি মোট ১৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা বীমা দাবি পরিশোধ করেছে, যা ২০২৪ সালে ছিল ৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির বীমা দাবি পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে ৯৫ দশমিক ৭২ শতাংশ।

শুধু পরিশোধের পরিমাণই নয়, দাবি পরিশোধের হারও বেড়েছে। ২০২৫ সালে উত্থাপিত বীমা দাবির ৯৭ দশমিক ৫০ শতাংশ পরিশোধ করেছে বেঙ্গল ইসলামী লাইফ, যেখানে ২০২৪ সালে এই হার ছিল ৯৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ। দাবি পরিশোধে এই ধারাবাহিক উন্নতি বেঙ্গল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আর্থিক সক্ষমতা, গ্রাহক-কেন্দ্রিক সেবা এবং স্বচ্ছ দক্ষ ব্যবস্থাপনার ইতিবাচক প্রতিফলন, যা বাজারে আস্থা আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।

এদিকে কোম্পানিটির লাইফ ফান্ডে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৫ সালে বেঙ্গল ইসলামী লাইফের মোট লাইফ ফান্ড দাঁড়িয়েছে ৬৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, যা ২০২৪ সালে ছিল ৩৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এক বছরে ৩১ কোটি ১৫ লাখ টাকা বা ৮১ দশমিক ৩৬ শতাংশ লাইফ ফান্ড বৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানিটির দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই প্রবৃদ্ধির শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছে।

সর্বশেষ হিসাব সমাপনী বছরে কোম্পানিটির মোট বিনিয়োগ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এর আগে ২০২৪ সালে কোম্পানিটির মোট বিনিয়োগ ছিল ৪২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এ হিসাবে এক বছরে কোম্পানিটির মোট বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে ৩৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

সরকারি সিকিউরিটিজে কোম্পানিটির বিনিয়োগ বেড়েছে ৩৫৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ। ২০২৪ সালে সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ ছিল ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এই অগ্রগতি প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির ইতিবাচক প্রতিফলন।

অপরদিকে ২০২৪ সালে বেঙ্গল ইসলামী লাইফের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ৭১ কোটি ৬২ লাখ টাকা, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। ফলে এক বছরে কোম্পানিটির মোট সম্পদে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ, যা প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

এ প্রসঙ্গে বেঙ্গল ইসলামী লাইফের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এম এম মনিরুল আলম বলেন, ২০২৫ সালে শতকোটি টাকা প্রিমিয়াম আয় এবং সব সূচকে প্রবৃদ্ধি বেঙ্গল ইসলামী লাইফের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই অর্জনের পেছনে রয়েছে গ্রাহকদের আস্থা, মাঠপর্যায়ের কর্মীদের নিষ্ঠা এবং দক্ষ ও সুশাসনভিত্তিক ব্যবস্থাপনা।

তিনি আরও বলেন, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, সময়মতো বীমা দাবি পরিশোধ এবং লাইফ ফান্ড শক্তিশালী করার সাথে সাথে স্বাস্থ্য বীমা ও টেলিমেডিসিন সেবার মাধ্যমে আমরা একটি স্থিতিশীল ও গ্রাহকবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে পেরেছি। একইসঙ্গে আমরা শরিয়াহভিত্তিক জীবন বীমা ব্যবস্থার মাধ্যমে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছি।