বিশ্বজিৎ মণ্ডলের অপসারণ আদেশ প্রত্যাহার নিয়ে আইডিআরএ সদস্যদের প্রতারণা

নিজস্ব প্রতিবেদক: মামলা তুলে নিলে ড. বিশ্বজিৎ কুমার মণ্ডলের অপসারণ আদেশ বিনাশর্তে প্রত্যাহার করে নেয়া হবে। সেই সাথে পুনরায় তাকে বীমা কোম্পানির মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেয়া হবে। আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান এতে সম্মতি দিয়েছেন। -এসব কথা বলে ড. বিশ্বজিৎ কুমার মণ্ডলকে মামলা প্রত্যাহার করতে বলেন আইডিআরএ’র দুই সদস্য আবু বকর সিদ্দিক (নন-লাইফ) ও আপেল মাহমুদ (লাইফ)।

কিন্তু মামলা প্রত্যাহার করে নেয়ার ৩ মাস পর অপসারণ আদেশটি প্রত্যাহার না করে তা সংশোধন করে চিঠি দেয় আইডিআরএ। আগামী এক বছর মুখ্য নির্বাহী পদে চাকরি করতে পারবেন না -এমন শর্তসহ মোট ৪টি শর্তও দেয়া হয় সংশোধিত ওই চিঠিতে।

যদিও শর্ত জুড়ে দিয়ে অপসারণের আদেশ সংশোধন করতে হবে এমন বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়নি বীমা আইনে। এই চিঠিটিও দেয়া হয় আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান আসলাম আলমের পদত্যাগের ঠিক আগের দিন গত ১মার্চ।

আইডিআরএ’র সদস্যদের এমন আচরণকে একজন বীমা পেশাজীবীর সঙ্গে প্রতারণা বলে মনে করছেন ড. বিশ্বজিৎ কুমার মণ্ডল। এমন আচরণ বীমা খাতে পেশাজীবীদের জন্য নজির হয়ে থাকবে বলেও মনে করেন তিনি।

সূত্র মতে, বিশেষ নিরীক্ষককে তথ্য না দেয়ার অভিযোগকে গ্রাহক স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করার অপরাধ হিসেবে সাব্যস্ত করে ড. বিশ্বজিৎ কুমার মণ্ডলকে অপসারণ করা হয়। অথচ বিশেষ নিরীক্ষককে তথ্য না দেয়ার এমন অভিযোগ হরহামেশাই উঠে থাকে বীমা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে।

অপর দিকে তথ্য না দেয়ার জন্য জরিমানার নজির থাকলেও তথ্য না দেয়াকে গ্রাহক স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করার মত অপরাধ হিসেবে সাব্যস্ত করার নজির নেই বীমা খাতে। এমন কি, কী কী কারণে গ্রাহক স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হবে তারও কোনো সুস্পষ্ট সংজ্ঞা নেই বীমা আইনে।

সূত্র মতে, ড. বিশ্বজিৎ কুমার মণ্ডলকে হোমল্যান্ড লাইফ থেকে অপসারণ করা হয় ২০২৩ সালে। এ সময়ে আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন মোহাম্মদ জয়নুল বারী। ড. বিশ্বজিৎ কুমার মণ্ডলকে নিয়ে তথ্য না দেয়ার অপরাধে অপসারণ করা হলেও মূল ঘটনা ছিল কোম্পানিটির পরিচালকদের দ্বন্দ্ব।

হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের লন্ডন প্রবাসী পরিচালকরা চাননি ড. বিশ্বজিৎ কুমার মণ্ডল হোমল্যান্ড লাইফের মুখ্য নির্বাহী পদে দায়িত্ব পালন করুক। আর তাই তারা ড. বিশ্বজিৎ কুমার মণ্ডলকে কোম্পানি থেকে সরাতে আইডিআরএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারীকে প্রভাবিত করেন। জয়নুল বারী ও হোমল্যান্ডর পরিচালকদের বাড়ি একই এলাকায়। তারা একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছেন।

ড. বিশ্বজিৎ কুমার মণ্ডলের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ খুঁজে না পেয়ে বিশেষ নিরীক্ষককে তথ্য না দেয়ার অভিযোগকে গ্রাহক স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করা অপরাধ হিসেবে সাব্যস্ত করে তাকে অপসারণ করা হয়।  

লন্ডন প্রবাসী সিলেটের পরিচালকদের সাথে ড. বিশ্বজিৎ কুমার মণ্ডলের বিরোধ তৈরি হয়- তাদেরকে চাহিদা মতো বোর্ড মিটিং ফি, গাড়ির সুবিধাসহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধা না দেয়ার কারণে। পরিচালকরা যে ধরণের আর্থিক সুবিধা চাচ্ছিলেন তা মূলত অনৈতিক এবং বীমা আইন ও কোম্পানি আইন অনুসারে অবৈধ। তবে এসব আর্থিক সুবিধা তারা দীর্ঘদিন ধরেই কোম্পানি থেকে নিচ্ছিলেন। 

সূত্র মতে, ২০২৩ সালের ১৬ অক্টোবর ড. বিশ্বজিৎ কুমার মণ্ডলকে অপসারণের আদেশ দিয়ে পত্র দেয় আইডিআরএ। ড. বিশ্বজিৎ কুমার মণ্ডল একজন বীমা পেশাজীবী হিসেবে তার অধিকার রক্ষায় আইডিআরএ’র আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রীট মামলা দায়ের করেন। উচ্চ আদালত শুনানি শেষে অপসারণের আদেশকে স্থগিত করেন।

এমন আদেশের পরই ড. বিশ্বজিৎ কুমার মণ্ডলের প্রতি বিরাগভাজন হন আইডিআরএ’র কর্তা-ব্যক্তিরা। তারা বিকল্প পথে ড. বিশ্বজিৎ কুমার মণ্ডলকে হোমল্যান্ড লাইফ থেকে সরাতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। এবার তারা মুখ্য নির্বাহী পদে চুক্তির শর্ত অনুসারে ৩ মাসের বেতনভাতা প্রদান করে চুক্তি বাতিল করেন।

এরপরই আইডিআরএ উচ্চ আদালতের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে চেম্বার জজ আদালতে আপিল করেন। কিন্তু চেম্বার জজ আদালত মামলা শুনানি জন্য আপিল বিভাগে পাঠান। আপিল বিভাগ হোমল্যান্ড লাইফের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগে স্থিতাবস্থার আদেশ দেন। অর্থাৎ মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ড. বিশ্বজিৎ কুমার মণ্ডল মুখ্য নির্বাহী হিসেবে ওই কোম্পানিতে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না, আবার হোমল্যান্ড লাইফও মুখ্য নির্বাহী নিয়োগ দিতে পারবে না। আপিল বিভাগ স্থিতাবস্থা আদেশ দেন ১৭ ডিসেম্বর ২০২৩ সালে। 

মূলত হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিকে কেন্দ্র করে আপিল বিভাগের আদেশ আইডিআরএ’র বিরুদ্ধে যাওয়াতে আইডিআরএ’র রোষানলে পড়েন ড. বিশ্বজিৎ কুমার মণ্ডল। এরপর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ড. বিশ্বজিৎ কুমার মণ্ডল যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করলে কোম্পানির পক্ষ থেকে তার নিয়োগ অনুমোদনের জন্য আইডিআরএ’র কাছে আবেদন করা হয়।

তবে হোমল্যান্ড লাইফের মামলা বিচারাধীন থাকায় নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি ওই নিয়োগ অনুমোদনের আবেদন নাকচ করে দেয়। এর বিরুদ্ধে প্রতিকার চেয়ে ড. বিশ্বজিৎ কুমার মণ্ডল উচ্চ আদালতে আরেকটি রিট মামলা (নং- ৬৬৫৭/২০২৫) দায়ের করেন। পরবর্তীতে যমুনা লাইফে মুখ্য নির্বাহী নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে উচ্চ আদালত স্থগিতাদেশ প্রদান করেন।

ড. বিশ্বজিৎ কুমার মণ্ডলের দায়ের করা দুই মামলায় যমুনা লাইফ ও হোমল্যান্ড লাইফ উভয় কোম্পানিতেই মুখ্য নির্বাহী নিয়োগ দেয়া নিয়ে আইনি জটিলতায় পড়ে আইডিআরএ।

পরবর্তীতে আইডিআরএ’র সদস্য ও কর্মকর্তাদের সাথে দফায় দফায় আলোচনা হয় ড. বিশ্বজিৎ কুমার মণ্ডলের। আইডিআরএ’র পক্ষ থেকে বলা হয়- মামলা তুলে নিতে। এর ধারাবাহিকতায় আইডিআরএ’র দুই সদস্য (লাইফ ও নন-লাইফ)’র সঙ্গে মৌখিক আলোচনার প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর আইডিআরএ চেয়ারম্যান বরাবর একটি চিঠি দেন ড. বিশ্বজিৎ কুমার মণ্ডল।

চিঠিতে তিনি অপসারণ আদেশ প্রত্যাহার এবং বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেয়ার শর্তে তার দায়ের করা দুটি মামলা প্রত্যাহারের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

এর প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর আইডিআরএ সদস্য (নন-লাইফ) আবু বকর সিদ্দিক তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন থেকে ড. বিশ্বজিৎ কুমার মণ্ডলকে ফোন করে জানান- “আপনার ৯/১১/২০২৫ তারিখের চিঠিটি আমরা পেয়েছি। আমাকে মাননীয় চেয়ারম্যান মহোদয় আপনার সঙ্গে কথা বলার দায়িত্ব দিয়েছেন। মাননীয় চেয়ারম্যান মহোদয়ের অভিমত- আপনি মামলা দুটি প্রত্যাহার করে নিয়ে একটি আবেদন করলে আমরা আপনার অপসারণ আদেশ প্রত্যাহার করে নেব।”

এরপর ড. বিশ্বজিৎ কুমার মণ্ডলের ঘনিষ্ঠজনের সাথে আইডিআরএ’র দুই সদস্য সরাসরি সাক্ষাতে অপসারণের আদেশ প্রত্যাহার করার বিষয়ে চেয়ারম্যান একমত পোষণ করেছেন বলে জানান। অপসারণ আদেশ প্রতাহারের এই নিশ্চয়তা দেয়া হয় ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর।

এই প্রেক্ষিতে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় মামলা দুটি প্রত্যাহার করে নেন ড. বিশ্বজিৎ কুমার মণ্ডল।

পরবর্তীতে মামলা প্রত্যাহারের সার্টিফাইড কপিসহ অপসারণ আদেশ প্রত্যাহারের আবেদন আইডিআরএ’র কাছে দাখিল করেন তিনি। এই আবেদনটি তিনি জমা দেন ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর।

আবেদন দাখিলের পরদিন ২৫ নভেম্বর আইডিআরএ’র আইন বিভাগের পরিচালক মোহা. আব্দুল মজিদ মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে মামলা প্রত্যাহারের অরিজিনাল সার্টিফাইড কপি দুটি জমা দিতে বলেন। এর প্রেক্ষিতে ওই দিনই ফরওয়ার্ডিংসহ সার্টিফাইড কপি দুটি কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করে আইন বিভাগের পরিচালক মোহা. আব্দুল মজিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ড. বিশ্বজিৎ কুমার মণ্ডল।

সাক্ষাতের সময় আইডিআরএ’র ওই কর্মকর্তা তাকে বীমা শিল্পে পুনরায় কাজ শুরু করার বিষয়ে অগ্রিম শুভেচ্ছা জানান বলেও জানা গেছে।

পরবর্তীতে চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি আইডিআরএ সদস্য (লাইফ) আপেল মাহমুদ ফোনে যোগাযোগ করে নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করে চেয়ারম্যান বরাবর একটি পত্র দেয়ার নির্দেশনা দেন। তার নির্দেশনা মোতাবেক ওই দিনই নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করে কর্তৃপক্ষে পত্র দাখিল করেন ড. বিশ্বজিৎ কুমার মণ্ডল।

এখানেই শেষ নয়, আইডিআরএ’র নির্বাহী পরিচালক (লাইফ) সেলিম রেজা গত ১৪ জানুয়ারি ড. বিশ্বজিৎ কুমার মণ্ডলকে আইডিআরএ কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে অপসারণ আদেশে উল্লেখিত কারণগুলোর জন্য ভুল স্বীকার করে আবেদন দাখিলের একটি নমুনা কপি প্রদান করেন এবং সে অনুযায়ী আবেদন করতে বলেন।

পরে ওই দিনই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুসারে ড. বিশ্বজিৎ কুমার মণ্ডল প্রয়োজনীয় আবেদন দাখিল করেন।

অভিযোগ রয়েছে, আইডিআরএ কর্মকর্তাদের আশ্বাস ও আলোচনার ভিত্তিতে মামলা প্রত্যাহার এবং পরবর্তী সময়ে দফায় দফায় আবেদন দাখিল করা হলেও শেষ পর্যন্ত তার অপসারণ আদেশ প্রত্যাহার করেনি বীমা খাতের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

বরং নতুন করে চারটি শর্ত সংযুক্ত করে অপসারণ আদেশটি সংশোধন করে একটি চিঠি জারি করা হয়। মামলা প্রত্যাহারের প্রায় তিন মাস পর, ২০২৬ সালের ১ মার্চ তারিখে এই সংশোধিত আদেশ জারি করে আইডিআরএ।

আইডিআরএ’র সংশোধিত আদেশে বলা হয়েছে- ড. বিশ্বজিৎ কুমার মণ্ডল যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কোনো পদে নিয়োজিত হতে পারবেন না।

এছাড়া আদেশ জারির তারিখ (১ মার্চ ২০২৬) থেকে এক বছর অতিক্রম না হওয়া পর্যন্ত তিনি অন্য কোনো বীমা কোম্পানিতে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হতে পারবেন না।

তবে এই এক বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর যমুনা লাইফ ও হোমল্যান্ড লাইফ ব্যতীত অন্য কোনো বীমা কোম্পানিতে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ার সুযোগ থাকবে।

এছাড়া এই এক বছরের মধ্যে যমুনা লাইফ ও হোমল্যান্ড লাইফ ছাড়া অন্য বীমা কোম্পানিগুলোতে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যতীত অন্য পদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে করে চেয়ারম্যানের বরাত দিয়ে মামলা প্রত্যাহারের আশ্বাস দেয়া হলেও পরবর্তীতে তা বাস্তবায়ন না করায় আইডিআরএ’র সংশ্লিষ্ট দুই সদস্যের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।

সূত্র মতে, বীমা আইন ২০১০ এর ৫০ ধারা অনুসারে গ্রাহক স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করা অপরাধে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাকে অপসারণ করতে পারে নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ। অপরদিকে ৫০ ধারা উপধারা ২ এর ১ অনুসারে অপসারণ আদেশ বাতিল বা সংশোধন করতে পারে। তবে সংশোধন বা বাতিলের ক্ষেত্রে শর্ত আরোপের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি বীমা আইনে।

বীমা আইন ২০১০ এর  ধারা ৫০ বলা হয়েছে, “(২) কর্তৃপক্ষ উপ-ধারা (১) এর অধীনে প্রদত্ত কোন নির্দেশ বাতিল বা সংশোধন করিতে এবং এইরূপ বাতিল বা সংশোধনে যেইরূপ প্রয়োজনীয় মনে করে সেইরূপ শর্ত আরোপ করিতে পারিবে৷” অর্থাৎ শর্ত আরোপের কোনো বাধ্যকতা নেই।

উল্লেখ্য, বিশেষ নিরীক্ষককে তথ্য না দেয়ার অপরাধে বীমা আইনের ৫০ ধারা অনুসারে ড. বিশ্বজিৎ কুমার মণ্ডলকে অপসারণ করা হয়। অথচ যেসব তথ্য বিশেষ নিরীক্ষককে দেয়া হয়নি বলে অপরাধী করা হয় তা ড. বিশ্বজিৎ কুমার মণ্ডলের হোমল্যান্ড লাইফে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনকালীন সময়ের না। অপরদিকে তথ্য না দেয়ার জন্য বীমা কোম্পানিকে জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে বীমা আইনে। আবার কী কী কারণে গ্রাহক স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হবে তারও কোনো সংজ্ঞা নেই বীমা আইনে।

ড. বিশ্বজিৎ কুমার মণ্ডল বলেন, আমাকে বেআইনিভাবে সিলেট প্রবাসী পরিচালকদের প্রভাবে আইডিআরএ’র সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারী অপসারণ করেন। আমি নিরুপায় হয়েই আদালতে মামলা দায়ের করি। দুটি মামলা আমার পক্ষে ছিল। কিন্তু আলোচনার ভিত্তিতে আমাকে বলা হয়েছিল মামলা প্রত্যাহার করতে। সেই আশ্বাসেই আমি মামলা প্রত্যাহার করেছি। এখন নিয়ন্ত্রক সংস্থা যা করেছে তা আমার সঙ্গে প্রতারণা। এমন আদেশ দেয়া হবে জানলে আমি কখনো মামলা প্রত্যাহার করতাম না।

আমি ক্ষতিগ্রস্ত হলাম তবে আইডিআরএ’র ক্ষমতার এমন অপব্যবহার- বীমা খাতের উন্নয়নকে যেমন বাধাগ্রস্ত করবে, তেমনি আইডিআরএ’র প্রতিও বীমা পেশাজীবীদের কোনো আস্থা থাকবে না।

এ বিষয়ে বক্তব্য নেয়ার জন্য বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সদস্য (লাইফ) আপেল মাহমুদ ও সদস্য (নন-লাইফ) আবু বকর সিদ্দিক এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। আইডিআরএ কার্যালয়ে গিয়ে ফ্রন্ট ডেস্কের মাধ্যমে তাদের সাক্ষাৎকারের অনুরোধ জানানো হলেও তারা সাক্ষাৎকার দেননি।