২০২৬ সালে গ্রাহককেন্দ্রিক স্বচ্ছতায় জোর দেবে জাপানের লাইফ ইন্স্যুরেন্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জনসংখ্যা দ্রুত বার্ধক্যের দিকে এগোনো, পরিবারকাঠামোর পরিবর্তন এবং ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ- এই তিন বাস্তবতার চাপে জাপানের সামাজিক নিরাপত্তা ও আর্থিক স্থিতিশীলতার প্রশ্ন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এমন প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালে জাপানের লাইফ ইন্স্যুরেন্স নিজেদের ভূমিকা নতুন করে জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়- গ্রাহকের আস্থা ও বিশ্বাস দৃঢ় করা, টেকসই সমাজ নির্মাণে অংশীদারিত্ব বাড়ানো এবং লাইফ ইন্স্যুরেন্স সেক্টরের কাজ ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে জনসচেতনতা গভীর করার মাধ্যমে। লাইফ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন অব জাপান (এলআইএজে)- এর চেয়ারম্যান ইউকিনোরি তাকাদা নববর্ষের বার্তায় এই দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন, যেখানে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি ও সুরক্ষার ভিত্তি তৈরি করে আসা লাইফ ইন্সুরেন্স খাতের ‘মিশন’ পূরণ করার এটাই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।

তাকাদার বক্তব্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি উঠে আসে, তা হলো- আস্থা অর্জন কেবল ইমেজ বা প্রচারণার বিষয় নয়; এটি প্রতিটি পলিসি বিক্রি, পরামর্শ, দাবি নিষ্পত্তি ও অভিযোগ ব্যবস্থাপনায় প্রমাণ করতে হয়। সে কারণে তিনি গ্রাহককেন্দ্রিক পরিচালনার ওপর জোর দিয়েছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে, গ্রাহকের সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিত করার উদ্যোগগুলো আরও এগিয়ে নেয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে নীতি-মান্যতা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা- বিশেষত সরাসরি বিক্রয় চ্যানেলগুলোর ক্ষেত্রে- যাতে বিক্রির আচরণ, পণ্য উপস্থাপন, তথ্য প্রকাশ এবং গ্রাহকের প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শের মান একসঙ্গে উন্নত হয়। একই সঙ্গে স্বাধীন এজেন্সিগুলো যাতে ইন্স্যুরেন্স বিজনেস অ্যাক্ট বাস্তবায়নে আরও দক্ষ ও সঙ্গতিপূর্ণভাবে কাজ করতে পারে, সে লক্ষ্যে সহায়তা জোরদারের কথা বলেন তিনি। খাতটির দৃষ্টিতে, বিতরণব্যবস্থা যত বেশি শৃঙ্খলিত ও স্বচ্ছ হবে, ততই পুরো খাতের ওপর মানুষের আস্থা শক্ত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে সেটিই বাজারের স্থিতিশীলতার মূল ভিত্তি।

এছাড়া তাকাদা লাইফ ইন্স্যুরেন্সকে কেবল আর্থিক সুরক্ষার পণ্যদাতা হিসেবে নয়, বরং টেকসই সমাজ নির্মাণের এক সক্রিয় অংশীদার হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তার মতে, একটি ভালো সহাবস্থানমূলক ভবিষ্যৎ গড়তে শিল্পখাতকে স্বাস্থ্য, জীবনমান এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসংস্কৃতি- এসব বিষয়ে বাস্তব উদ্যোগ নিতে হবে। এই লক্ষ্য সামনে রেখে ওয়েল-বিয়িং বিষয়ক সিম্পোজিয়াম আয়োজন, অচেতন পক্ষপাত (আনকনসাস বাইয়াস) নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ এবং সদস্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে নারী নেতৃত্ব বিকাশে কর্মসূচি এগিয়ে নেয়ার কথা বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে। এর তাৎপর্য হলো, লাইফ ইন্স্যুরেন্স খাত ভবিষ্যৎ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কথাই শুধু বলছে না- নিজেদের অভ্যন্তরীণ সংস্কৃতি, নেতৃত্ব কাঠামো ও সামাজিক প্রভাবের ক্ষেত্রেও মানদণ্ড উন্নত করতে চায়। অনেকের কাছে এসব উদ্যোগ ‘সফট’ ইস্যু মনে হলেও, বাস্তবে এটি শিল্পখাতের বিশ্বাসযোগ্যতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিস্থাপকতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত- কারণ টেকসই পরিচালনা এবং ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিবেশ প্রতিষ্ঠানকে দক্ষ, স্থিতিশীল ও জনআস্থাসম্পন্ন করে তোলে।

জনসাধারণের বোঝাপড়া বাড়ানোর অঙ্গীকারটিও তাকাদার বার্তায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি মনে করেন, লাইফ ইন্স্যুরেন্স সেক্টরের বহুমাত্রিক কার্যক্রম সম্পর্কে গ্রাহক ও সমাজের বিস্তৃত বোঝাপড়া নিশ্চিত না হলে আস্থা স্থায়ী হয় না এবং শিল্পখাতের প্রকৃত অবদানও যথাযথভাবে অনুধাবিত হয় না। তাই বীমা বিক্রয় পেশাজীবীদের কাজ ও ভূমিকা তুলে ধরার পাশাপাশি শিল্পের ইতিহাসকে বৃহত্তর সামাজিক ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে যুক্ত করে ঐতিহাসিক নথিপত্র ও উপকরণ প্রকাশের পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। উদ্দেশ্য একদিকে পেশাগত অবদানকে স্বীকৃতি দেয়া, অন্যদিকে জনপরিসরে এমন একটি তথ্যভিত্তিক গল্প তৈরি করা- যেখানে লাইফ ইন্স্যুরেন্স খাতকে শুধুই ব্যবসায়িক লেনদেন নয়, সমাজের ঝুঁকি মোকাবিলা ও স্থিতিশীলতার একটি সহায়ক কাঠামো হিসেবে বোঝানো যায়।

শতবর্ষের মাইলফলককে সামনে রেখে তাকাদা শেষ পর্যন্ত যে বার্তা দিয়েছেন, তা এক ধরনের অবস্থানগত ঘোষণা: লাইফ ইন্স্যুরেন্স খাত তাদের ঐতিহাসিক দায়িত্ব উত্তরাধিকার হিসেবে বহন করবে এবং এমন সমাজ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করবে যেখানে মানুষ সুস্থ থাকতে পারে এবং নিশ্চিন্তে জীবনযাপন করতে পারে। বার্ধক্যজনিত চাপ, দুর্যোগঝুঁকি এবং ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার যুগে এই বার্তাটি শিল্পখাতের জন্য শুধু লক্ষ্য নির্ধারণ নয়- এটি একটি প্রতিশ্রুতি যে আস্থা, টেকসইতা ও জনসম্পৃক্ততার ভিত্তিকে আরও দৃঢ় করেই তারা ২০২৬ সালে এগোতে চায়। (সংবাদ সূত্র: এশিয়া ইন্স্যুরেন্স রিভিউ)