বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্স্যুরেন্স কমিউনিটি: মায়ার্স


Published: 2018-02-01 03:38:53 BdST

২২ জানুয়ারি সোমবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে দেশের নন-লাইফ বীমাখাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে ব্যবসা সম্প্রসারণ সভা করেন রি-ইন্স্যুরেন্স ব্রোকারেজ হাউস মিরাবিলাস ইঞ্জিরিয়ারিং আন্ডাররাইটিং ম্যানেজার্স এর মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল জে মায়ার্স

দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে নিবন্ধিত মিরাবিলাস’র বাংলাদেশে ব্যবসা রয়েছে, তবে তা ক্ষুদ্র পরিসরে- মাত্র কয়েকটি কোম্পানির সঙ্গে। তবে ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্স্যুরেন্স খাতে রি-ইন্স্যুরেন্স ব্যবসা বাড়াতে আগ্রহী মিরাবিলাস।

সভা শেষে রাসেল জে মায়ার্স এর সঙ্গে আলাপ হয় ইন্স্যুরেন্সনিউজবিডি’র রহমান সিদ্দিকীর।

বাংলাদেশকে কেন ব্যবসার ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিলেন, এ দেশের বীমা বাজার নিয়ে কোন সমীক্ষা করেছেন কি না, এ দেশে তার কোম্পানির ব্যবসায়িক উন্নতি দেখেন কি না, তার কোম্পানির ব্যবসার মিশন কি, এদেশের বাজার থেকে কতটুকু অর্জন করতে পারবেন বলে মনে করেন, এ দেশে ব্যবসা পরিচালনায় কোন কৌশল বা বিশেষ কোন কার্যক্রম গ্রহণ করবেন কি না, তার কোম্পানির ব্যবসায়িক পদ্ধতি কী হবে- এসব বিষয় উঠে আসে আলাপে।

নিজ কোম্পানি সম্পর্কেও সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরেন মিরাবিলাস সিইও।

মিরাবিলাস শুধুমাত্র ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের বীমা করে থাকে

** মিরাবিলাস একটি বিশেষায়িত ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি। ২০০৬ সালে কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠিত। মিরাবিলাস শুধুমাত্র ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের বীমা করে থাকে। আফ্রিকাতে ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্স্যুরেন্স খাতে মিরাবিলাস নেতৃস্থানীয় বীমাকারী। দক্ষিণ আফ্রিকার বীমা বাজারে মিরাবিলাস ১৬ হাজারেরও বেশি ব্রোকারের মাধ্যমে সরাসরি আন্ডার রাইটার সার্ভিসিং পরিচালনা করে আসছে। বাছাই করা সম্ভাবনাময় আন্তর্জাতিক বাজারে বিশেষায়িত অবকাঠামো বীমা সেবা দানকারী হিসেবে আসতে আগ্রহী।

ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্স্যুরেন্স কমিউনিটিকে বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহী করে তুলছে

** আমরা ৩-৪ বছর ধরে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় প্রপার্টি খাতে রি-ইন্স্যুরেন্স ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছি। এরপর বাংলাদেশ আমাদের নজরে আসে। মাস কয়েক হয় আমরা লক্ষ্য করছি, অবকাঠামো নির্মাণখাতে বাংলাদেশে ব্যয়-বরাদ্দ সহসাই বেড়ে গেছে। অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের সংখ্যাও বাড়ছে। এটা ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্স্যুরেন্স কমিউনিটিকে বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহী করে তোলে। কাজেই আমরা যখন একটা সম্ভাবনা দেখলাম, আমরা এগিয়ে এলাম, আঞ্চলিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এদেশের জনসাধারণের উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সম্পর্ক-প্রতিসম্পর্ক গড়ে তুলে ব্যবসা করার জন্য বাংলাদেশে আসতে চাই।

বীমাশিল্প সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে পরিসংখ্যান সহায়তার ওপরই নির্ভর করছি

** বাংলাদেশের বাজার সম্পর্কে আমরা বিভিন্ন উৎস থেকে যতটুকু তথ্য পাওয়া যায় তা নিয়েছি। বাংলাদেশের বীমাখাতের ওপর পরিসংখ্যান সমর্থিত রিপোর্ট আছে এমন একই ধরণের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা থেকেও সাহায্য নিয়েছি। তবে আমরা কোন প্রাথমিক সমীক্ষা করিনি। আমরা এদেশের বীমাশিল্প সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে পরিসংখ্যান সংক্রান্ত সহায়তার ওপরই কম বেশি নির্ভর করছি।

বাংলাদেশকে ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে একটি সম্ভাবনাময় বাজার দেখতে পাচ্ছি

** আমাদের নজর শুধুমাত্র ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের ওপর। একটা বিশেষ খাতের বাজারের দিকেই আমাদের নজর কারণ আমরা ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে বিশেষায়িত বীমাকারী। কারণ আমরা মিরাবিলাস, ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্স্যুরেন্স বিষয়ে বিশেষায়িত কোম্পানি। বাংলাদেশকে বিশেষভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে একটি সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবেই দেখতে পাচ্ছি। আমরা যা দেখতে পাচ্ছি, বাংলাদেশে বিশেষত: অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে খরচ করার পরিমান বাড়ছে, অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প বাড়ছে। নির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে গৃহায়ন ও অবকাঠামো  নির্মাণ খাতে খরচ করার পরিমান বেড়েই চলছে।

বীমা ব্যবসায়ীরা জ্ঞানী লোক, তাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী

** বাংলাদেশে আমরা প্রধানত রি-ইন্স্যুরেন্স ব্যবসা করে আসছি। এদেশে যে স্ট্যান্ডার্ড, যতটুকু দেখেছি বা আমার পাওয়া তথ্য মতে, তা আক্ষরিক অর্থেই নিম্নমানের। আর বীমাখাতের ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে বলতে যদি যাই, আমি আজ এবং গতকাল চাইছিলাম দু'একজনের সঙ্গে সাক্ষাত করতে, আজ বেশ কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ হলো, তারা ভাল লোক, জ্ঞানী লোক এবং আমরা বাংলাদেশের বাজারে তাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। 

ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্স্যুরেন্স কমিউনিটির জন্য বাংলাদেশের বাজার বেশ সম্প্রসারিত

** আমরা যা দেখছি, সর্বশেষ তথ্য যা পাওয়া যাচ্ছে, আমরা বিশ্বাস করি বাংলাদেশ এমনই একটা বাজার যেখানে ইঞ্জিনিয়ারিং বীমাখাতের অন্যসব প্রতিদ্বন্দ্বিসহ আমরা ব্যবসার কাঙ্ক্ষিত উন্নতি অর্জন করতে সক্ষম হবো। বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ যেখানে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে বেশ কিছু অবকাঠামো প্রকল্প রয়েছে। এ কারণে আমরা এদেশে উজ্বল ভবিষ্যত দেখতে পাচ্ছি। ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্স্যুরেন্স কমিউনিটির জন্য বাংলাদেশের বাজার বেশ সম্প্রসারিত।

ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্স্যুরেন্স আন্ডাররাইটিংএ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের দক্ষ করে তোলা

** এ  দেশে আমাদের ব্যবসার মিশন প্রথমত কিছু ব্যবসা পাওয়া। এর পাশাপাশি যেসব বীমা কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসা করার  লক্ষ্য রয়েছে তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক এবং তাদের বিশ্বাস অর্জন করা। ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্স্যুরেন্সের আন্ডাররাইটিংএ প্রশিক্ষণ দেয়া এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের এ সম্পর্কে দক্ষ করে তোলা। বীমা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে একটা ভাল ও মজবুত কর্মসম্পর্ক তৈরী করা। 

যদি উভয় পক্ষ চুক্তিটি পরিষ্কার বুঝে নিতে পারে, তাহলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে

** হ্যা, অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে পাওয়া জ্ঞান থেকে আমরা বুঝতে পারছি, প্রথমেই আমাদের যা করতে হবে, উভয়ের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সমঝোতা গড়ে তোলার জন্য একটা সুসম্পর্ক তৈরী করতে হবে- যাতে আমরা উভয় পক্ষই বুঝতে সক্ষম হই আমরা কে কি বলছি। এ লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে যাতে  উভয় পক্ষ বুঝতে পারে  যে, আমরা দুই পক্ষ একই বিষয়ে একই কথা বলছি। আমাদের এক পক্ষ অপর পক্ষকে বুঝতে হবে। এমন কিছু করতে হবে আমি বুঝতে পারি, আমি যা বলছি তা অপর পক্ষ বুঝতে পারছে এবং যা বলা  হচ্ছে তা আমি বুঝতে পারছি। এটা আয়ত্ব করতে না পারলে অপর পক্ষ থেকে আপনার বিষয়ে যথাযথ সাড়া নাও পেতে পারেন। পক্ষ বলতে আমি চুক্তিবদ্ধ পক্ষ বোঝাচ্ছি।

সর্বোপরি বীমা হচ্ছে একটি চুক্তির সিস্টেম। যদি উভয় পক্ষ চুক্তিটি খুব ভালভাবে বুঝতে পারে, চুক্তির শর্ত কী আছে তা পরিষ্কার বুঝে নিতে পারে তাহলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে। কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া গেলে আমাদের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরী হবে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া না গেলে সব গোল্লায় গেল।

কাজেই আমরা প্রথমেই আলোচনার মাধ্যমে, প্রশিক্ষণ দিয়ে এবং জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করে একটা সুসম্পর্ক তৈরী করে নিতে চেষ্টা করবো। 

আমাদের ব্যবসায়িক স্টাইল হচ্ছে আস্থাভিত্তিক সমঝোতা

**যেমনটা আমি আগেই বলেছি, আমাদের ব্যবসায়িক স্টাইল  হচ্ছে আস্থাভিত্তিক সমঝোতা। আমরা কোন বাজারে কোন প্রক্রিয়া চলবে তা ভাল করেই বুঝি এবং সেভাবেই ব্যবসার কৌশল বিবেচনা করি।

তবে আমরা গুণগত মান এবং সরবরাহ সম্পর্কে আগেভাগেই ভেবে নেই। বাজার বিবেচনায় মূল্য নির্ধারণের ইস্যুটাও আমরা বুঝি। কেননা বাজারের প্রেক্ষিতে মূল্য নির্ধারণটাও বিবেচনায় আনতে হয়। কিন্তু আমাদের বিশ্বাস কম দাম কখনোই সেরা দাম নয়।  

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোস্তাফিজুর রহমান টুংকু সম্পাদকীয় কার্যালয়
৫৩ মডার্ন ম্যানসন, মতিঝিল সি/এ, লেভেল # ১১, স্যুট # ৬, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০২ ৯৫১৪৮৭২, ইমেইল: insurancenewsbd@gmail.com