বিশ্ব বীমার কেন্দ্র এখন এশিয়া

সংবাদ ডেস্ক: এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বর্তমানে বিশ্ব বীমা শিল্পের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল বাজার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক বছরে বৈশ্বিক বীমা খাতের প্রবৃদ্ধির বড় অংশই আসবে এই অঞ্চল থেকে। এতে বৈশ্বিক বীমা শিল্পের কেন্দ্র ধীরে ধীরে এশিয়ার দিকে সরে যাচ্ছে।
এই অঞ্চলের মধ্যে ভারত অন্যতম শীর্ষ প্রবৃদ্ধির বাজার হিসেবে উঠে এসেছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ভারতে বীমা প্রিমিয়ামের বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধি প্রায় ৬.৯ শতাংশ হতে পারে। এই হার বিশ্বব্যাপী দ্রুত বর্ধনশীল বাজারগুলোর মধ্যে ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী সময়ে বিশ্বে নতুন বীমা প্রিমিয়ামের অর্ধেকেরও বেশি বৃদ্ধি আসবে এশিয়া, বিশেষ করে চীন ও ভারত থেকে। এই প্রবৃদ্ধি উত্তর আমেরিকা ও পশ্চিম ইউরোপের সম্মিলিত প্রবৃদ্ধির চেয়েও বেশি হতে পারে।
দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে বীমা গ্রহণের হার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। জীবন বীমা, স্বাস্থ্য বীমা এবং ব্যবসা সুরক্ষা বীমার প্রতি মানুষের আগ্রহ আগের তুলনায় অনেক বেশি।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ, স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা মানুষের মধ্যে আর্থিক সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়েছে। ফলে অনেকেই ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বীমার দিকে ঝুঁকছেন।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণির সম্প্রসারণও এই খাতের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষ এখন সঞ্চয় ও বিনিয়োগের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় গুরুত্ব দিচ্ছেন। এর ফলে নতুন গ্রাহকের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।
প্রযুক্তিনির্ভর সেবার বিস্তার বীমা শিল্পে নতুন গতি এনেছে। ডিজিটাল পলিসি, মোবাইল অ্যাপভিত্তিক সেবা এবং অনলাইন দাবি নিষ্পত্তি ব্যবস্থা অনেক দেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে তরুণ ও মধ্যবয়সী গ্রাহকদের মধ্যে ডিজিটাল বীমা সেবার চাহিদা ব্যাপক। এতে বীমা কেনা, ব্যবস্থাপনা এবং দাবি নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া হয়েছে সহজ ও দ্রুত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল আগামী বছরগুলোতে বিশ্ব বীমা শিল্পের সবচেয়ে বড় প্রবৃদ্ধির কেন্দ্র হয়ে উঠবে। বৃহৎ জনসংখ্যা, দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং প্রযুক্তির বিস্তার এই অঞ্চলের সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করছে। ফলে বৈশ্বিক বীমা শিল্পের ভারসাম্য ধীরে ধীরে এশিয়ার দিকে ঝুঁকছে, যা আগামী দশকে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।



