ফারইস্ট ইসলামী লাইফের অর্থ কেলেঙ্কারিতে দুদকের আরেকটি মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনায় আরো একটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির উপপরিচালক মো. সজীব আহমেদ বাদী হয়ে গত সোমবার (২ মার্চ) দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলাটি দায়ের করেন।

এই মামলায় বীমা কোম্পানিটির সাবেক চেয়ারম্যান ও পরিচালক নজরুল ইসলাম এবং সাবেক মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হেমায়েত উল্লাহসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে ১৩ কোটি ৭১ লাখ ৫১ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলা করা হয়েছে।

মামলার অপর আসামিরা হলেন- বীমা কোম্পানিটির সাবেক উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোম্পানি সেক্রেটারি সৈয়দ আবদুল আজিজ; সাবেক প্রধান প্রকৌশলী এবং ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড রিয়েল এস্টেট ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আমির মোহাম্মদ ইব্রাহীম; সাবেক সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং বিনিয়োগ ও ব্যাংকিং শাখা প্রধান শেখ আব্দুর রাজ্জাক; সাবেক হেড অব ইন্টারনাল অডিট এন্ড কমপ্লায়েন্স ডিপার্টমেন্ট কামাল হোসেন হাওলাদার।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের ১৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ফারইস্ট ইসলামী লাইফের ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড রিয়েল এস্টেট ডেভেলপমেন্ট সাব-কমিটির (আইআরডিসি) ২৬৪তম সভার এজেন্ডায় ঢাকার তোপখানা রোডে অবস্থিত ফারইস্ট টাওয়ার-২ ভবনের সাপ্লাই ও কনস্ট্রাকশন সংক্রান্ত সিভিল ও ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল রেট্রোফিটিং কাজের জন্য ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডকে (এনডিই) অগ্রীম অর্থ প্রদানের বিষয়টি দেখানো হয়।

তবে দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০১৬ সালের ১২ জানুয়ারি ইস্যু করা ২৬৪তম সভার এজেন্ডা নোটিশে এ ধরনের অগ্রিম অর্থ প্রদানের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল না। পরবর্তীতে ভুয়া কার্যাদেশ, জাল বিল আবেদন ও ভাউচার প্রস্তুত করে মোট ১৩ কোটি ৭১ লাখ ৫১ হাজার টাকা অগ্রিম প্রদানের নামে অর্থ উত্তোলন ও স্থানান্তরের মাধ্যমে আত্মসাত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়েছে, প্রকল্পের বিল, ভাউচার ও কাজ সম্পন্ন হওয়ার প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাওয়া যায়নি। অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে এসব ভুয়া বিল ও কাগজপত্রের মাধ্যমে কোম্পানির অর্থ আত্মসাৎ করেন।
এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে চেক ইস্যু করে অর্থ উত্তোলনের পর এর একটি অংশ ফারইস্ট ইসলামী প্রপার্টিজ লিমিটেডের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। পরে অর্থের উৎস গোপন রেখে তা বৈধ করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির তহবিল থেকে অর্থ আত্মসাৎ ও মানিলন্ডারিংয়ের অপরাধ করেছেন।