বিশ্বব্যাপী ঝুঁকিতে বীমা শিল্পের বিনিয়োগ আয়

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে বিশ্বব্যাপী বীমা শিল্পের বিনিয়োগ আয়। চলতি বছর লাইফ ও নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ থেকে আয় ব্যাপকভাবে হ্রাস পেতে পারে। বিশ্বব্যাপী সুদের হার কমে যাওয়ায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে বন্ড ক্রেডিট রেটিং কোম্পানি মুডি'স।

মুডি'স ইনভেস্টরস সার্ভিস এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে বিশ্বজুড়ে লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ আয় প্রায় ২০ থেকে ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হ্রাস পেতে পারে। অন্যদিকে নন-লাইফ বীমাখাতের কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ আয় কমে আসতে পারে প্রায় ৫ থেকে ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

"গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স: ডেসপাইট রাইজ, স্টিল-লো ইন্টারেস্ট রেটস এ থ্রেট টু প্রফিটেবিলিটি" শীর্ষক এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয় ২৮ এপ্রিল শুক্রবার। প্রতিবেদনে ইউরোপ ও এশিয়ার বীমা বাজারকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে মুডি'স ইনভেস্টরস সার্ভিস। এতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বীমা বাজারে অন্তর্ভূক্ত দেখানো হয়েছে জার্মানি, নরওয়ে এবং তাইওয়ানকে।

লন্ডনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মুডি'স অ্যাসোসিয়েট ম্যানেজিং ডাইরেক্টর অ্যান্টোনিও একুইনো জানান, আরেকবার হ্রাস ঘটতে পারে। তিনি বলেন, এটা শেষ হয়ে যায়নি। যদি সুদ হার একই অবস্থায় থাকে, তাহলে পরবর্তী বছর আবারো হ্রাস পাবে। আর যদি সুদ হার বৃদ্ধি পায়, তাহলে ক্রমান্বয়ে এই চাপ কমে আসবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী দীর্ঘমেয়াদে কম সুদ হারের পরিস্থিতি এখন কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর জন্য এটি এখনো প্রধান ঝুঁকি। অন্যদিকে নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে চীন বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে বলে বিবেচনা করছে মুডি'স, দেশটি 'অল্প ঝুঁকি' শ্রেণী থেকে 'মধ্যম ঝুঁকি' শ্রেণীর দিকে আগাচ্ছে।

মুডি'স ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড সিনিয়র ক্রেডিট অফিসার বেঞ্জামিন সেরা জানিয়েছেন, লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর মুনাফা ওপর প্রভাব আরো সীমিত হতে হবে। কারণ এই হ্রাস মূলত বীমা গ্রাহকদের সঙ্গে ভাগাভাগি করা হবে। অন্যদিকে নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলো তাদের গ্রাহকদের সঙ্গে এই হ্রাস ভাগাভাগি করতে পারবে না, জানান বেঞ্জামিন।