শ্রীলঙ্কার শস্য বীমা: ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকেও আসবে অর্থ

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: শস্য বীমার পরিধি আরো প্রসারিত করছে শ্রীলংকার অর্থ মন্ত্রণালয়। এখন থেকে ধান চাষ ছাড়াও আরো ৫টি খাদ্য শস্য এই বীমা প্রকল্পের আওতায় আসবে।।

দেশটিতে নিবন্ধিত সকল ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মুনাফার ওপর ১ শতাংশ লেভি আরোপের মাধ্যমে এই প্রকল্পের অর্থের যোগান দেয়া হবে।

এরইমধ্যে আলু, বড় পেঁয়াজ, মরিচ, ভুট্টা এবং সয়া বিন চাষে স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করার জন্য দু'বছরের জাতীয় খাদ্য উৎপাদন কর্মসূচি চালু করেছে শ্রীলঙ্কার সরকার।

এখন থেকে এসব ফসলের চাষীরাও শস্য বীমার সুবিধা পাবেন। এক্ষেত্রে বিপর্যয়ের সময় ফসলের ক্ষতির জন্য প্রতি একর জমিতে সর্বোচ্চ ১০ হাজার রুপি পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই কৃষি বীমা প্রকল্পে ২০১৩ সাল থেকে সমস্ত নিবন্ধিত ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বীমা কোম্পানির মুনাফা থেকে ১ শতাংশ লেভি চার্জ বা বাধ্যতামূলক কর আরোপের দ্বারা অর্থায়ন করা হচ্ছে।

এই ১ শতাংশ লেভি ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স ট্রাস্ট ফান্ডে জমা হয় এবং এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড আগ্রারিয়ান ইন্স্যুরেন্স বোর্ডের মাধ্যমে কৃষকদের ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয় বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া শস্যের ক্ষতির কারণে যেসব কৃষক তাদের ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে পারে না তাদেরকে আরও সহযোগিতা প্রদানের জন্য দেশটির সরকার গত বছর থেকে ন্যাশনাল লোন প্রোটেকশন স্কিম বা জাতীয় ঋণ সুরক্ষা প্রকল্প চালু করেছে।

এই ঋণ সুরক্ষা প্রকল্পও পরিচালিত হয় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর আরোপিত ১ শতাংশ লেভি'র দ্বারা। এক্ষেত্রে কৃষকের ফসলের ক্ষতির হিসাব নিরীক্ষার পর তাদের অনাদায়ী ব্যাঙ্ক ঋণ পরিশোধ করবে এই প্রকল্প।

সরকারের অনুমিত হিসাব অনুসারে, ২০১৬/২০১৭ মাহা ঋতুতে কৃষকদের নেয়া ব্যাংক ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ৫০০ মিলিয়ন রুপি। অর্থাৎ এই সময়ে কৃষকের গ্রহণ করা ৫০০ মিলিয়ন ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে হবে সরকারকে।  

এদিকে ব্যাংক, আর্থিক ও বীমা প্রতিষ্ঠানের মুনাফার ওপর ১ শতাংশ লেভি চালুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স ট্রাস্ট ফান্ডে ৫০৬৯.৮১ মিলিয়ন রুপি জমা হয়েছে এবং ৯৩২.৩৪ মিলিয়ন রুপি বিতরণ করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছেন, আরো ৫০০ মিলিয়ন রুপি এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড আগ্রারিয়ান ইন্স্যুরেন্স বোর্ডের জন্য নির্দিষ্ট করে রাখা হয়েছে। যেখান থেকে ন্যাশনাল লোন প্রোটেকশন স্কিমের আওতায় কৃষকদের সহায়তা প্রদান করা হবে। (সূত্র: লঙ্কা বিজনেস অনলাইন)