ওবামাকেয়ার বাতিল, আসছে ট্রাম্পকেয়ার
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ওবামাকেয়ার বাতিল করে ট্রাম্পকেয়ার পাস হল মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে। মাত্র ১ ভোট বেশি পেয়ে গত বৃহস্পতিবার ২১৭-২১৩ ভোটে খসড়া আইনটি গৃহীত হয়। প্রতিশ্রুতির এক বছর পর ওবামাকেয়ার বাতিল ও নতুন আইন পাস করতে সক্ষম হলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রিপাবলকান নেতারা।তবে, ট্রাম্পের এই উদ্যোগ নিম্নকক্ষে পার পেলেও উচ্চকক্ষ সিনেটে এর ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দিহান বিশ্লেষকরা। এরআগে দু'দফা ওবামাকেয়ার বাতিলের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন ট্রাম্প ও তার দল।
নিয়ম অনুসারে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের সমর্থন পাওয়ার পরই কেবল কোনো আইন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হয়। আর বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের কোন আইন সিনেটে গৃহীত হতে হলে ন্যূনতম ৬০টি ভোট প্রয়োজন। তবে এই মুহূর্তে কংগ্রেসের ১০০ আসনের উচ্চকক্ষ সিনেটে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ৪৮টি ভোট। একমাত্র মন্টানার সিনেটর জন টেস্টার ছাড়া এখন পর্যন্ত কোনো ডেমোক্রেটিক সিনেটর নতুন আইনে সমর্থন দেয়ার ইঙ্গিত দেননি। প্রচলিত নিয়মে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে প্রস্তাবিত আইনটি ভিন্ন ভিন্ন ভাবে গৃহীত হলে ‘সমঝোতার’ মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
এদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইন বিভাগীয় অর্জন ‘ওবামাকেয়ার’ খ্যাত স্বাস্থ্যবীমা আইন বাতিল সম্পন্ন ও প্রস্তাবিত আইন পাস হলে বিপুলসংখ্যক নাগরিকের স্বাস্থ্য বীমা বাতিল অথবা তাদের খরচ বহুলাংশে বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে কংগ্রেসের নিজস্ব বাজেট অফিস (সিবিও) । বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের স্বাস্থ্যসেবা আইন কার্যকর হলে দরিদ্র ও বৃদ্ধ মার্কিনদের সংকট বাড়বে। ওবামাকেয়ারে সবার জন্য বীমা বাধ্যতামূলক করা হলেও নতুন আইনে সেই ‘ম্যান্ডেট’ বাতিল করা হয়েছে।
ওবামাকেয়ারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, পূর্ব থেকে বিদ্যমান রোগের ঝুঁকিও গ্রহণ করে। অর্থাৎ বীমা চুক্তির আগে থেকে অসুখ রয়েছে এমন কারো ঝুঁকি গ্রহণে অস্বীকার করা যাবে না। সবার জন্য বীমা সুবিধা নিশ্চিত করতে বড় ধরনের সরকারি ভর্তুকির ব্যবস্থা ছিল। মধ্যপন্থী রিপাবলিকানদের খুশি করতে নতুন আইনেও তা রাখা হয়েছে, তবে পরিমাণ আগের চেয়ে অনেক কম। তাছাড়া এই আইনে অঙ্গরাজ্যগুলোকে ভর্তুকি দেয়ার নিয়ম বাতিলের পাশাপাশি বীমা কোম্পানিগুলোকে বাড়তি প্রিমিয়াম ধার্যের সুযোগ দেয়া হয়েছে। এর ফলে কম বিত্তবান অনেক নাগরিক বীমা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কংগ্রেসের নিজস্ব বাজেট অফিস (সিবিও) জানিয়েছে, প্রস্তাবিত আমেরিকান হেলথ কেয়ার অ্যাক্ট (এএইচসিএ) আইনে পরিণত হলে আগামী বছরে আরো ১৪ মিলিয়ন নাগরিক স্বাস্থ্য বীমার আওতার বাইরে চলে যাবে। এছাড়া ২০২৬ সাল নাগাদ ওবামাকেয়ারের অধীনে যে পরিমাণ মানুষ বীমার আওতায় আসতো তার তুলনায় নতুন প্রস্তাবিত আইনে সর্বমোট ২৪ মিলিয়ন মার্কিনি বীমা সুবিধার বাইরে চলে যাবে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে, নতুন আইনে ওবামাকেয়ারের চেয়ে বেশি নাগরিক স্বাস্থ্য বীমার আওতায় আসবে।
সিবিও'র অনুমিত হিসাব অনুসারে, ওবামাকেয়ার নামে পরিচিত অ্যাফর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট বাতিলের কারণে শুধুমাত্র আগামী বছরেই স্বাস্থ্য বীমা গ্রহণকারী ২০ মিলিয়ন নাগরিকের প্রায় ৭০ শতাংশই বীমা সুবিধা হারাবে। এছাড়া আগামী এক দশক ধরে ওবামাকেয়ারের সুবিধা প্রাপ্তরা বীমার আওতা থেকে বের হয়ে আসবে। তবে রিপাবলিকানদের প্রস্তাবিত বিল ৩৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ফেডারেল ঘাটতি হ্রাস করবে, সিবিও'র বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।
ট্রাম্পের স্বাস্থ্যসেবা আইন কার্যকর হলে দরিদ্র ও বৃদ্ধ মার্কিনদের সংকট বাড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। নিউইয়র্ক টাইমস-এর হিসাব অনুসারে, ১৮ বছর বয়সী তরুণের তুলনায় ৬৪ বছর বয়সী একজন প্রবীণ ব্যক্তিকে স্বাস্থ্য বীমা বাবদ প্রায় পাঁচ গুণ বেশি ব্যয় করতে হবে। কারণ, নতুন আইনে সরকারি ভর্তুকি কমিয়ে আনা হচ্ছে। তবে অধিক বিত্তবানদের জন্য অতিরিক্ত কর রেয়াতের সুযোগ রাখা হয়েছে ডোনাল্ড জে ট্রাম্পের নতুন আইনে।