আত্মহত্যার বীমা দাবি নাকোচ, দক্ষিণ কোরিয়ায় ৩ কোম্পানিকে দণ্ড
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: আত্মহত্যার ঘটনায় বীমা দাবি নাকোচ করায় দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষস্থানীয় ৩টি কোম্পানিকে দণ্ড দিয়েছে ফিনান্সিয়াল সার্ভিস কমিশন (এফএসসি) । তবে দণ্ড কিছুটা লাঘব করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা ইউনহাপ।
এফএসসি সূত্র মতে, কিয়োবো লাইফ ইন্স্যুরেন্সকে এক মাসের জন্য কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া স্যামসাং লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও হানওয়া লাইফ ইন্স্যুরেন্সকে সতর্ক বার্তা দেয়া হয়েছে এবং এক বছরের জন্য নতুন ব্যবসায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
প্রকৃত পক্ষে তিনটি বীমা কোম্পানিকেই ৩ মাস পর্যন্ত কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়ার পরিকল্পনা ছিল নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের। কিন্তু আত্মহত্যা বীমা দাবির বকেয়া পরিশোধে কোম্পানিগুলোর সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর তাদের দণ্ড কিছুটা লাঘব করা হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় ১০টিরও বেশি লাইফ বীমা কোম্পানি দুর্ঘটনার জন্য পলিসি বিক্রি করেছে, যেগুলোতে আত্মহত্যাসহ বিপর্যে মৃত্যুর ঝুঁকি গ্রহণ করা হতো। ২০০৩ এবং ২০১০ সালের মধ্যে এসব পলিসি বিক্রি করা হয়। এরপরই আত্মহত্যায় মৃত্যুর ঝুঁকি বাদ দিতে পলিসির শর্তে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
পূর্বের বীমা চুক্তির শর্তানুসারে, যেসব বীমা গ্রাহক আত্মহত্যা করতে তাদের পরিবার স্বাভাবিক কারণে বা দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া বীমা গ্রাহকের পরিবারের চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতিপূরণ প্রাপ্ত হতো।
কিন্তু কোম্পানিগুলো আত্মহত্যার বীমা দাবি পরিশোধে অস্বীকার করতো। তাদের যুক্তি হলো- আত্মহত্যার বিধিটি বেঠিকভাবে বীমা চুক্তিতে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং এর দাবি পরিশোধ মানুষকে নিজেদের হত্যায় উৎসাহিত করতে পারে।
মূলত ২০১৪ সালে আইএনজি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের কোরিয় শাখাকে যখন আত্মহত্যা বীমার সুবিধাদি পরিশোধে আর্থিক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দেয় তখনই আত্মহত্যার বিষয়টি আলোচনায় আসে এবং বীমা কোম্পানিগুলো এই অর্থ পরিশোধে বিরোধীতা শুরু করে।