জাপানের শীর্ষ লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর প্রিমিয়াম আয়ে ধস
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: জাপানের শীর্ষস্থানীয় লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর প্রিমিয়াম আয়ে ধস নেমেছে। গত মার্চে শেষ হওয়া অর্থ বছরে বৃহৎ ৪টি বীমা কোম্পানির দেশীয় প্রিমিয়াম আয় কমেছে আনুমানিক ১৬ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণাত্মক সুদের হার নীতির প্রভাবে এমনটি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম নিক্কেই।
জাপানের বৃহৎ লাইফ বীমা প্রতিষ্ঠান- ডাই-ইচি লাইফ, নিপ্পন লাইফ, মেজি ইয়াসুদা লাইফ এবং সুমিতোমো লাইফ ২০১৬ অর্থ বছরে সর্বমোট ১৪.৭ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা ১৩১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেশীয় প্রিমিয়াম সংগ্রহ করেছে। আগের অর্থ বছরের প্রিমিয়ামের তুলনায় এবার ২.৭ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা ১৬ শতাংশ কম সংগ্রহ হয়েছে।
২০০৮ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী আর্থিক সঙ্কটের পর এবারই সবচেয়ে কম প্রিমিয়াম আয় হয়েছে কোম্পানিগুলোতে। এরমধ্যে ডাই-ইচি লাইফ ও নিপ্পন লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ইতিহাসে দেখা যাচ্ছে, কোম্পানি দু'টি বছরের পর বছর ব্যবসা কমে যাওয়ার সমস্যায় জর্জরিত রয়েছে।
ব্যাংক অব জাপান ঋণাত্মক সুদের হার নীতি গ্রহণের পর থেকে লাইফ বীমা কোম্পানিগুলো প্রিমিয়াম বৃদ্ধি করেছে অথবা এককালীন আজীবন বীমা পলিসি বিক্রি বন্ধ করেছে। ব্যাংক এবং বীমা এজেন্টদের মাধ্যমে পলিসি বিক্রিও কমেছে। এছাড়া কোম্পানিগুলোর বীমা পণ্যের ওপর ছাড় দেয়া বন্ধ করার কারণেও বিক্রি কমেছে।
দেশীয় বিক্রি কমে যাওয়ার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে জাপানের লাইফ বীমা কোম্পানিগুলো এখন বিদেশে ব্যবসা বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। নিপ্পন লাইফ'র মধ্যম মেয়াদী ব্যবসা পরিকল্পনা অনুসারে, কোম্পানিটি দেশের বাইরে ব্যবসাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন খাতে ১.৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ করবে। এছাড়া বিদেশী ব্যবসার সহায়তায় ডাই-ইচি বিগত ৬ বছর ধরে রেকর্ড পরিমাণ মুনাফা করেছে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সাল থেকে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণাত্মক সুদ হার নীতি চালু করেছে। এর অর্থ হচ্ছে, গ্রাহকদের ব্যাংক আমানতের ওপর শতকরা শূন্য দশমিক ১ ভাগ ঋণাত্মক চার্জ আরোপ করা। যা ব্যাংকের স্বাভাবিক নীতির বিপরীত। ব্যাংক আমানতের ওপর গ্রাহককে মুনাফা না দিয়ে বরং গ্রাহককে তার আমানত রক্ষায় ব্যাংককে চার্জ দিতে হয়।