যুক্তরাজ্যের বীমা পণ্যের সামগ্রিক চিত্র: প্রিমিয়াম, দাবি ও ঝুঁকির নতুন বাস্তবতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাজ্যে ব্যক্তি ও সম্পদের আর্থিক সুরক্ষায় মোটর, হোম, লাইফ, ট্রাভেল ও প্রাইভেট হেলথ বীমা সবচেয়ে বেশি প্রচলিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দাবির সংখ্যা বাড়লেও কিছু খাতে প্রিমিয়াম কমার ইঙ্গিত মিলেছে। খাতটি কঠোর নিয়ন্ত্রক তদারকির আওতায় পরিচালিত হয়।

মোটর বীমায় তিন ধরনের কভার রয়েছে। এগুলো হলো- থার্ড-পার্টি, থার্ড-পার্টি ফায়ার অ্যান্ড থেফট এবং কমপ্রিহেনসিভ। ২০২৫ সালে গড় মোটর প্রিমিয়াম প্রায় ৫৬২ পাউন্ড, যা আগের বছরের তুলনায় কম। তবে গাড়ি মেরামতের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বীমা কোম্পানিগুলোর চাপ রয়ে গেছে। দুর্ঘটনা, চুরি ও অগ্নিকাণ্ড থেকেই বেশি দাবি আসে। ছোট দাবি কয়েকশ পাউন্ডে সীমাবদ্ধ থাকলেও গুরুতর আঘাতের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ মিলিয়ন পাউন্ড ছুঁতে পারে।

হোম বীমায় ভবন ও গৃহস্থালি সামগ্রী কভার করা হয়। ২০২৫ সালে গড় প্রিমিয়াম প্রায় ২৩১ পাউন্ড। ঝড়, বন্যা ও চুরির দাবি বেড়েছে, বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আবহাওয়া-সংক্রান্ত ক্ষতি বাড়ছে। বড় বন্যা বা মাটিধসে ক্ষতিপূরণ এক লাখ পাউন্ডের বেশি হতে পারে।

লাইফ বীমা সাধারণত টার্ম ও হোল-অফ-লাইফ- এই দুই ধরনের। ক্যান্সার, হৃদরোগ ও দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর দাবি বেশি। বয়স, স্বাস্থ্য ও ধূমপানের অভ্যাস অনুযায়ী প্রিমিয়াম নির্ধারিত হয়। পলিসি অনুযায়ী ১০ হাজার পাউন্ড থেকে ১০ লাখ পাউন্ডের বেশি পর্যন্ত অর্থ প্রদান করা হয়।

ট্রাভেল বীমায় জরুরি চিকিৎসা, ভ্রমণ বাতিল ও লাগেজ হারানোর দাবিই বেশি দেখা যায়। গুরুতর চিকিৎসা ও দেশে ফেরত আনার খরচ এক লাখ পাউন্ডের বেশি হতে পারে। প্রাইভেট হেলথ বীমায় ক্যান্সার চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার সংক্রান্ত দাবির হার বেশি। তরুণদের জন্য মাসিক প্রিমিয়াম প্রায় ৪৪ পাউন্ড থেকে শুরু।

যুক্তরাজ্যে বীমা কোম্পানিগুলো ঝুঁকি-ভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ করে এবং ফাইন্যান্সিয়াল কন্ডাক্ট অথরিটির (এফসিএ) নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যয়বৃদ্ধি ও জলবায়ু ঝুঁকি বাড়লেও প্রতিযোগিতামূলক বাজার গ্রাহকদের জন্য তুলনামূলক ভারসাম্য বজায় রাখছে।