নিজস্ব প্রতিবেদক: নেপালের বন্যার প্রভাব পড়েছে দেশটির বীমা খাতেও। বন্যার পর নেপাল স্টক এক্সচেঞ্জে বীমা কোম্পানির শেয়ারদরের সূচক ৩ দশমিক ৯০ শতাংশ কমেছে। ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের জন্য বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে, এমন আশঙ্কায় বীমা কোম্পানিগুলোর ওপর আর্থিক চাপ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপাল-চীন সীমান্তের পার্বত্য এলাকায় আকস্মিক বন্যা আঘাত হানে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হিমবাহের একটি অংশ ধসে বরফ, পাথর ও মাটি নদীর পানির সঙ্গে মিশে নিচের দিকে নেমে আসে। এতে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। রসুয়া, নুয়াকোটসহ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই দুর্যোগে নেপাল ও তিব্বতের বিভিন্ন এলাকায় প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ১৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং এক হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়ক, সেতু, ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা। অনেক পরিবার ঘর হারিয়ে অস্থায়ী আশ্রয়ে রয়েছে। দুর্গত এলাকায় খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
বন্যায় নেপালের সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রসুয়া ও আশপাশের এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। সীমান্তের সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চলাচল ও বাণিজ্য কার্যক্রমেও প্রভাব পড়েছে। নেপালের অবকাঠামো মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক হিসাবে, সড়ক, সেতু ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০০ বিলিয়ন নেপালি রুপি (প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) হতে পারে। তবে ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব এখনো প্রকাশ হয়নি।

বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে জলবিদ্যুৎ খাতে। রসুয়া অঞ্চলের রসুয়াগাড়ি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, চিলিমে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র, ত্রিশূলী-৩এ, ত্রিশূলী-৩বি হাবের ২২০ কেভি সাবস্টেশন, ত্রিশূলী ও দেবীঘাট জলবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ কয়েকটি বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। এসব প্রকল্পের মোট প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতির মুখে পড়েছে। এসব প্রকল্প বীমার আওতায় থাকায় ক্ষতি নির্ধারণের পর বড় অঙ্কের বীমা দাবি আসতে পারে।
কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বীমা করা সম্পদের ক্ষতির জন্য বীমা কোম্পানির কাছে যে ক্ষতিপূরণ চায়, সেটিই বীমা দাবি। তবে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট বীমা পলিসির শর্তের ওপর।
বড় প্রকল্প, কারখানা বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার মতো সম্পদ সাধারণত বীমার আওতায় থাকে। এসব সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হলে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বীমা কোম্পানিকে ক্ষতিপূরণ দিতে হয়। অর্থাৎ, বড় কোনো দুর্ঘটনা বা দুর্যোগে আর্থিক ক্ষতি সামলাতে বীমা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা করে।
বড় ধরনের ক্ষতি হলে একা সব টাকা পরিশোধ করতে যেন না হয়, এজন্য বীমা কোম্পানিগুলোও অন্য বড় বীমা প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেয়। এই ব্যবস্থাকে পুনর্বীমা বলা হয়। এর ফলে বড় দুর্যোগের সময় ক্ষতিপূরণ দেয়ার সক্ষমতা বাড়ে। তবে ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হলে ছোট ও মাঝারি বীমা কোম্পানির ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।
সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে বীমা সুবিধা পাওয়ার সুযোগ সীমিত হতে পারে। নেপালে অনেক মানুষের ঘরবাড়ি ও ছোট ব্যবসা এখনো বীমার আওতায় নেই। ফলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবারকে সরকারি সহায়তা ও ত্রাণের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে।
এদিকে, নেপালের এই দুর্যোগে সংহতি জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহকে পাঠানো এক বার্তায় দেশটির জনগণের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
আপনার একটি মন্তব্য লিখুন:
এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।