নাইজেরিয়ায় বীমা সুরক্ষার আওতায় মাত্র ৩ শতাংশ

প্রকাশিত: ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নাইজেরিয়ায় বীমার আওতায় থাকা মানুষের সংখ্যা খুবই কম। দেশটির প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর মাত্র ৩ শতাংশ বা প্রায় ৩৪ লাখ মানুষ বীমা সুরক্ষার আওতায় রয়েছেন।

এর মধ্যেই দেশটিতে একের পর এক নৌদুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটছে। কিন্তু এসব দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া বা আহত যাত্রীরা বীমা থেকে ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন কি না, তার পরিষ্কার হিসাব নেই। কত যাত্রীবাহী নৌযানের বীমা আছে, সেই তথ্যও প্রকাশ্যে নেই।

সম্প্রতি সোকোতো রাজ্যে নৌকাডুবিতে ৫০ জনের মৃত্যু এই প্রশ্ন আবার সামনে এনেছে। নিহতদের মধ্যে প্রায় ৪০ জন শিশু। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের হিসাবে, নৌযানটিতে ৮০ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন। কিন্তু নৌযানটির বীমা ছিল কি না এবং নিহতদের পরিবার বীমা থেকে ক্ষতিপূরণ পাবে কি না, তা এখনো জানা যায়নি।

নাইজেরিয়ায় নৌদুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যাও কম নয়। নাইজেরিয়ার সংবাদমাধ্যম প্রিমিয়াম টাইমসের হিসাবে, ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ৭১টি নৌদুর্ঘটনায় ১ হাজার ৭২ জন মারা গেছেন। দেশটির আরেক সংবাদমাধ্যম দ্য কেবলের হিসাবে, শুধু ২০২৪ সালেই মারা গেছেন আরও ৩২৬ জন।

তবে এসব দুর্ঘটনায় কতটি নৌযানের বীমা ছিল এবং নিহতদের কত পরিবার বীমা থেকে ক্ষতিপূরণ পেয়েছে, তার নির্ভরযোগ্য জাতীয় হিসাব পাওয়া যায়নি।

নাইজেরিয়ায় নৌযানের বীমা করার ব্যবস্থা রয়েছে। এক ধরনের বীমা দুর্ঘটনায় নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেই আর্থিক ক্ষতি সামলাতে সহায়তা করে। এটিকে মেরিন হাল বা নৌযানের কাঠামোগত বীমা বলা হয়।

যাত্রীদের জন্যও আলাদা বীমা নেয়া যায়। এটিকে যাত্রী দায় বীমা বলা হয়। এই বীমা থাকলে দুর্ঘটনায় কোনো যাত্রী মারা গেলে বা আহত হলে পলিসির শর্ত অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ থাকে।

সহজভাবে বললে, নৌযানের বীমা থাকলেই যাত্রীর বীমা আছে, এমন নয়। একটি বীমা নৌযানের ক্ষতির জন্য, অন্যটি যাত্রীর মৃত্যু বা আহত হওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক সুরক্ষার জন্য।

তবে নাইজেরিয়ার অভ্যন্তরীণ নৌপথে কত যাত্রীবাহী নৌযানের বীমা আছে, তার নির্ভরযোগ্য জাতীয় হিসাব পাওয়া যায়নি। প্রতিটি স্থানীয় যাত্রীবাহী নৌযানের জন্য যাত্রী দায় বীমা বাধ্যতামূলক, এমন স্পষ্ট নিয়মও ২০২৩ সালের অভ্যন্তরীণ নৌপথ পরিবহন বিধিমালায় পাওয়া যায়নি। ফলে দুর্ঘটনায় পড়লেই সব যাত্রী বীমা থেকে ক্ষতিপূরণ পাবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই।

অন্যদিকে বীমা করা থাকলে দাবি পরিশোধের চিত্র তুলনামূলক ভালো। দেশটির বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ তিন মাসে মেরিন ও এভিয়েশন বীমায় জমা পড়া দাবির ৯৪ দশমিক ১ শতাংশ নিষ্পত্তি হয়েছে।

তাহলে বীমার আওতায় মানুষ এত কম কেন?

নাইজেরিয়ায় আর্থিক সেবার ব্যবহার নিয়ে গবেষণাকারী সংস্থা এনহ্যান্সিং ফিন্যান্সিয়াল ইনোভেশন অ্যান্ড অ্যাকসেসের (ইএফআইএনএ) ২০২৩ সালের জরিপে কম আয়, বীমা সম্পর্কে না জানা এবং বীমা কেন প্রয়োজন সে বিষয়ে ধারণার অভাবকে বড় কারণগুলোর মধ্যে রাখা হয়েছে।

অর্থাৎ নাইজেরিয়ায় বীমা করার সুযোগ আছে এবং দাবি পরিশোধও হচ্ছে। কিন্তু খুব কম মানুষ সেই সুরক্ষার আওতায় রয়েছেন। নৌযানের ক্ষেত্রেও বীমার আওতা কতটা, তার পরিষ্কার জাতীয় চিত্র নেই।

ফলে সোকোতোর ঘটনা শুধু নৌপথের নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়। দুর্ঘটনায় কোনো যাত্রী মারা গেলে বা আহত হলে তার পরিবারের আর্থিক ক্ষতি কে বহন করবে, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। নৌযানটির বীমা ছিল কি না এবং নিহতদের পরিবার ক্ষতিপূরণ পাবে কি না, তা জানা গেলে সেই প্রশ্নের উত্তর আরও পরিষ্কার হবে।

সোকোতোর নৌকাডুবি তাই এমন একটি দেশের বীমা সুরক্ষার ঘাটতি সামনে এনেছে, যেখানে বীমার ব্যবস্থা থাকলেও তার আওতায় রয়েছেন খুব কম মানুষ।

মন্তব্য সমূহ ()

আপনার একটি মন্তব্য লিখুন:

এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।