আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীনে ঘূর্ণিঝড় ডলফিনের আঘাতের পর দেশটির বড় বীমা কোম্পানি পিং অ্যানের কাছে ২৭ হাজারের বেশি বীমা দাবি জমা পড়েছে। অর্থাৎ, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এসব গ্রাহক তাদের বীমার শর্ত অনুযায়ী কোম্পানিটির কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন। এসব দাবির বিপরীতে পিং অ্যানকে প্রায় ৬৫ কোটি ইউয়ান বা ৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে।
ইন্স্যুরেন্স এশিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ১১ আগস্ট দুপুর পর্যন্ত পাওয়া দাবির প্রায় সবই সম্পদ ও দুর্ঘটনা বীমার। লাইফ বীমায় মাত্র একটি দাবি এসেছে। স্বাস্থ্য ও অ্যানুইটি বীমায় কোনো দাবি আসেনি।
ঘূর্ণিঝড় ডলফিনের কারণে চীনের ঝেজিয়াং, জিয়াংসু, আনহুই ও হুবেই প্রদেশে ভারী বৃষ্টির সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পিং অ্যান বিশেষ দল গঠন করে। দ্রুত বীমা দাবি যাচাই ও ক্ষতিপূরণ দেয়ার ব্যবস্থাও নেয়া হয়। গ্রাহকদের জন্য চালু রাখা হয় ২৪ ঘণ্টার হটলাইন।
ঘূর্ণিঝড় আসার আগেই ক্ষতি কমাতে ‘ঈগল আই’ নামে একটি প্রযুক্তি ব্যবহার করে পিং অ্যান। এর মাধ্যমে আবহাওয়া ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পর্যবেক্ষণ করে গ্রাহকদের আগাম সতর্ক করা হয়। ২ কোটি ২০ লাখের বেশি ব্যক্তি এবং প্রায় ১১ লাখ ৬০ হাজার প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় ৪ কোটি ৯০ লাখ সতর্কবার্তা পাঠানো হয়।
বন্যার ঝুঁকিতে থাকা ২ হাজার ৪৫৮টি স্থান পরিদর্শন করা হয়। পাশাপাশি ২ হাজার ৭০০টির বেশি গাড়ি নিরাপদ স্থানে সরাতে সহায়তা করা হয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ ২০০টির বেশি সড়ক অংশ বন্ধের উদ্যোগ নেয়া হয়।
কৃষকদের ক্ষতি কমাতেও ব্যবস্থা নেয় পিং অ্যান। প্রায় ৫ লাখ ৩৪ হাজার কৃষকের কাছে ৬৬ লাখের বেশি সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। ঘূর্ণিঝড়ের আগেই ৮৮ হাজার ‘মু’র বেশি জমির ধান কাটতে সহায়তা করা হয়। ‘মু’ চীনে জমি মাপার একটি প্রচলিত একক।
দুর্যোগের পর ক্ষতি যাচাই ও দ্রুত ক্ষতিপূরণ দিতে ১ হাজার ৮৬৬ জন বিশেষজ্ঞকে মাঠে নামানো হয়েছে। তাদের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি, নতুন জ্বালানিচালিত গাড়ির ব্যাটারি ও গাড়ির কাচ মেরামতের বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ৪২৫টি টো ট্রাক এবং বালুর বস্তাসহ ৪ হাজারের বেশি জরুরি সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে।
তবে ৬৫ কোটি ইউয়ান পিং অ্যানের চূড়ান্ত ক্ষতির হিসাব নয়। এটি ১১ আগস্ট পর্যন্ত পাওয়া দাবির ভিত্তিতে করা প্রাথমিক হিসাব। নতুন দাবি এলে অঙ্কটি আরও বাড়তে পারে। পাঁচটি অঞ্চলে সব বীমা কোম্পানি মিলিয়ে প্রায় এক লাখ দাবি এসেছে। এসব দাবিতে সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১২০ কোটি ইউয়ান।
আবার ৬৫ কোটি ইউয়ানের পুরোটা পিং অ্যানকে নিজের অর্থ থেকে দিতে নাও হতে পারে। কারণ, বড় ক্ষতি থেকে নিজেদের রক্ষা করতে বীমা কোম্পানিও তার ঝুঁকির একটি অংশ অন্য বীমা কোম্পানির কাছে বীমা করে রাখতে পারে। এটিই পুনর্বীমা। ঘূর্ণিঝড় ডলফিনের ক্ষতির কতটা পিং অ্যান নিজে দেবে এবং কতটা পুনর্বীমার মাধ্যমে পাওয়া যাবে, তা এখনো জানানো হয়নি।
আপনার একটি মন্তব্য লিখুন:
এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।