আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে কাতার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির বীমা আয় ১৫ শতাংশ বাড়লেও নিট মুনাফা কমেছে প্রায় ৫ শতাংশ।
চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে সামনে ক্ষতিপূরণের দাবি বাড়তে পারে। সেই খরচ মেটাতে আগেই অর্থ আলাদা করে রাখায় কোম্পানিটির মুনাফা কমেছে।
প্রথম ছয় মাসে কোম্পানিটির নিট মুনাফা হয়েছে ৩৬৫ মিলিয়ন কাতারি রিয়াল। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ৩৮৩ মিলিয়ন রিয়াল।
একই সময়ে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য মুনাফা ৩৭৫ মিলিয়ন থেকে কমে ৩৫৪ মিলিয়ন রিয়াল হয়েছে।
মুনাফা কমলেও কোম্পানিটির বীমা ব্যবসা বেড়েছে। বীমা আয় ১৫ শতাংশ বেড়ে ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন রিয়ালে পৌঁছেছে। মোট বীমা প্রিমিয়াম ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন রিয়াল।
বীমা সুরক্ষা পেতে গ্রাহক কোম্পানিকে যে অর্থ দেন, সেটিই বীমা প্রিমিয়াম।
তবে শুধু বীমা কার্যক্রম থেকে মুনাফা ২২১ মিলিয়ন থেকে কমে ২০২ মিলিয়ন রিয়াল হয়েছে।
এই ২০২ মিলিয়ন রিয়াল শুধু বীমা কার্যক্রমের মুনাফা। অন্যদিকে, বীমা ও বিনিয়োগসহ সব আয়-ব্যয় হিসাবের পর কোম্পানির নিট মুনাফা হয়েছে ৩৬৫ মিলিয়ন রিয়াল।
বীমা করা কোনো সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হলে গ্রাহক শর্ত অনুযায়ী কোম্পানির কাছে ক্ষতিপূরণ চাইতে পারেন। এটিই বীমা দাবি।
জুনের শেষ পর্যন্ত সামনে আসতে পারে এমন বীমা দাবির জন্য প্রায় ৫০ মিলিয়ন রিয়াল আলাদা করে রেখেছে কাতার ইন্স্যুরেন্স। এই অর্থ এখনো ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেয়া হয়নি।
সংঘাতের প্রভাব বেশি পড়েছে কোম্পানিটির আন্তর্জাতিক বীমা ব্যবসায়। বিশেষ করে যুদ্ধ, সন্ত্রাসবাদ, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং জাহাজ ও পণ্য পরিবহনের বীমায় ক্ষতির আশঙ্কা বেড়েছে।
তবে কোন ধরনের বীমায় কত দাবি এসেছে, তা প্রকাশ করা হয়নি। এসব ক্ষতির কতটা কাতার ইন্স্যুরেন্সকে নিজে দিতে হবে এবং কতটা অন্য বীমা কোম্পানি বহন করবে, সেই তথ্যও জানানো হয়নি।
বড় ক্ষতির পুরো ঝুঁকি একটি বীমা কোম্পানি নিজে না নিয়ে তার একটি অংশ অন্য বীমা কোম্পানির সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারে। এই ব্যবস্থাকে পুনর্বীমা বলা হয়।
বীমা ব্যবসায় ক্ষতির আশঙ্কা থাকলেও বিনিয়োগ থেকে আয় বেড়েছে। প্রথম ছয় মাসে বিনিয়োগ আয় ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৪৭৭ মিলিয়ন রিয়াল হয়েছে।
আঞ্চলিক সংঘাত দীর্ঘ হলে যুদ্ধ, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং জাহাজ ও পণ্য পরিবহনের বীমায় আরও ক্ষতিপূরণের দাবি আসতে পারে। এতে কোম্পানিটির মুনাফা আরও কমতে পারে।
আপনার একটি মন্তব্য লিখুন:
এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।