আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীনের বড় বীমা কোম্পানিগুলো এখনো আর্থিকভাবে স্থিতিশীল। তারপরও পাঁচ রাষ্ট্রীয় বীমা প্রতিষ্ঠানকে ৭০ বিলিয়ন ইউয়ান নতুন মূলধন দিচ্ছে সরকার। ভবিষ্যতের বড় দাবি ও আর্থিক ঝুঁকি সামলাতে তাদের সক্ষমতা বাড়ানোই এর মূল লক্ষ্য।
জুন শেষে চীনের বীমা খাতের সামগ্রিক সলভেন্সি অনুপাত ছিল ১৮০ দশমিক ৬ শতাংশ এবং মূল সলভেন্সি অনুপাত ১৩৩ দশমিক ৫ শতাংশ। নির্ধারিত ন্যূনতম সীমা যথাক্রমে ১০০ ও ৫০ শতাংশ। এই অনুপাত একটি বীমা কোম্পানির দাবি ও ঝুঁকি সামলানোর আর্থিক সক্ষমতা বোঝায়।
মূলধন বাড়ানোর পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি বন্ড থেকে আয় কমেছে, শেয়ারবাজারে ওঠানামা রয়েছে এবং বীমা কোম্পানিগুলোকে আগের চেয়ে বেশি মূলধন ধরে রাখতে হচ্ছে। লাইফ বীমার অনেক পলিসিতে বহু বছর পর গ্রাহককে টাকা দিতে হয়। সেই দায় মেটাতে কোম্পানিগুলো দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের আয়ের ওপর নির্ভর করে। বন্ডের আয় কমলে এই চাপ বাড়ে।
নতুন মূলধনের অর্থ আসবে চীনের অর্থ মন্ত্রণালয়ের ৩০০ বিলিয়ন ইউয়ানের বিশেষ ট্রেজারি বন্ড থেকে। এই তহবিল দিয়ে পাঁচ বীমা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি তিন রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের মূলধনও বাড়ানো হচ্ছে। বীমা কোম্পানির মূলধন বাড়াতে চীন এবারই প্রথম বিশেষ ট্রেজারি বন্ড ব্যবহার করছে।
সবচেয়ে বেশি ৩৫ বিলিয়ন ইউয়ান, অর্থাৎ মোট বরাদ্দের অর্ধেক, পাচ্ছে চায়না লাইফ। পিআইসিসি পাবে সর্বোচ্চ ১৫ বিলিয়ন, সিনোসিওর ১০ বিলিয়ন, চায়না তাইপিং ৭ বিলিয়ন এবং চায়না রি সর্বোচ্চ ৩ বিলিয়ন ইউয়ান।
চায়না লাইফ চীনের সবচেয়ে বড় লাইফ বীমা গ্রুপ। জুন শেষে এর মোট সম্পদ ৯ ট্রিলিয়ন ইউয়ান ছাড়িয়েছে। তবে কোম্পানিটির আকার, ব্যবসার পরিমাণ নাকি ভবিষ্যৎ মূলধনের প্রয়োজন- কোন কারণে ৩৫ বিলিয়ন ইউয়ান বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, তা সরকার স্পষ্ট করেনি।
কেন এই পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে বেছে নেয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত মানদণ্ডও প্রকাশ করা হয়নি। পাঁচটির চারটি কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন বড় বাণিজ্যিক বীমা গ্রুপ। সিনোসিওর মূলত রপ্তানি ঋণ বীমা দেয়। চীনা গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানগুলোর মূলধনের প্রয়োজন বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।
সব প্রতিষ্ঠান একইভাবে অর্থ পাবে না। চায়না লাইফ, সিনোসিওর ও চায়না তাইপিংয়ের মূলধনে সরাসরি অর্থ যোগ করা হবে। পিআইসিসি অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে নতুন শেয়ার বিক্রি করে সর্বোচ্চ ১৫ বিলিয়ন ইউয়ান তুলবে। চায়না রির ক্ষেত্রেও অর্থ মন্ত্রণালয় নতুন শেয়ার কিনবে। এর ৩ বিলিয়ন ইউয়ানের পরিকল্পনা পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদন করলেও চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রক অনুমতি এখনো প্রয়োজন।
২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাঁচ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোনো প্রতিষ্ঠান পুরো বরাদ্দ হাতে পেয়েছে, এমন নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ হয়নি।
তবে চীনের সব বীমা কোম্পানির আর্থিক অবস্থা এক নয়। বড় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো তুলনামূলক শক্তিশালী হলেও ছোট বীমাকারীদের মূলধন ও সলভেন্সির ওপর চাপ বেশি বলে বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন।
নতুন মূলধনের আরেকটি লক্ষ্য বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়ানো। জিএমএফ রিসার্চের হিসাবে, সিনোসিওর বাদে চার বাণিজ্যিক বীমা গ্রুপের ৬০ বিলিয়ন ইউয়ান নতুন মূলধন শেয়ারবাজারে আরও প্রায় ১০০ বিলিয়ন ইউয়ান বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে বাজারের ঝুঁকির কারণে পুরো অর্থ দ্রুত শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ হওয়ার সম্ভাবনা কম।
সরকার বলছে, এই অর্থ বীমা কোম্পানিগুলোর আর্থিক ভিত্তি শক্ত করবে এবং দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সুযোগ বাড়াবে। সিনোসিওরের ক্ষেত্রে রপ্তানি ঋণ বীমার সক্ষমতাও বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।
আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা ফিচ রেটিংসের মতে, বড় রাষ্ট্রীয় বীমাকারীরা আরও শক্তিশালী হলে ভবিষ্যতে সমস্যায় পড়া ছোট প্রতিষ্ঠান সামলাতেও তাদের ভূমিকা বাড়তে পারে। তবে চীন সরকার এটিকে এখনো বীমা খাতে বড় ধরনের একীভূতকরণ বা পুনর্গঠন কর্মসূচির শুরু হিসেবে ঘোষণা করেনি।
আপনার একটি মন্তব্য লিখুন:
এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।