‌
‌
‌
‌
‌
‌
‌
‌
‌

‌

দাবি পরিশোধ ও গ্রাহকসেবার ভিত্তিতে বীমার শীর্ষ কর্মকর্তাদের বোনাস দেয়ার সুপারিশ দক্ষিণ কোরিয়ায়

প্রকাশিত: ৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম

আন্তর্জাতিক বীমা ডেস্ক: শুধু মুনাফা বা নতুন ব্যবসা বাড়ানো নয়, গ্রাহকের বীমা দাবি পরিশোধ ও সেবার মানও শীর্ষ কর্মকর্তাদের বোনাস নির্ধারণের ভিত্তি করার সুপারিশ করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়া ইন্স্যুরেন্স রিসার্চ ইনস্টিটিউট (কেআইআরআই)। সংস্থাটি বলছে, স্বল্পমেয়াদি লাভের ওপর বেশি জোর দিলে গ্রাহকস্বার্থ ও ভবিষ্যতের ঝুঁকি উপেক্ষিত হতে পারে।

গত ২ নভেম্বর প্রকাশিত গবেষণাটি করেছেন কেআইআরআই'র গবেষক লি সিউং-জুন ও মুন হিয়ে-জং। তাদের মতে, কর্মকর্তা কতটা ব্যবসা বাড়িয়েছেন, তার পাশাপাশি গ্রাহকদের বীমা দাবি কতটা পরিশোধ হয়েছে, অভিযোগ কত দ্রুত মেটানো হয়েছে এবং কতজন গ্রাহক পলিসি চালু রেখেছেন, সেটিও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। গ্রাহক সন্তুষ্টির বিষয়টিও এতে রাখার কথা বলা হয়েছে।

গবেষকরা বোনাসের একটি অংশ পরে দেয়ার সুপারিশ করেছেন। কোনো কর্মকর্তার আগের সিদ্ধান্তের কারণে পরে আর্থিক ক্ষতি হলে এবং তার দায় পাওয়া গেলে বোনাস কমানো বা আগের দেয়া অর্থ ফেরত নেয়ার ব্যবস্থা রাখার কথাও বলেছেন। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য বোনাস কতদিন পরে দেয়া হবে কিংবা কোন শর্তে ফেরত নেয়া যাবে, তা নির্ধারণ করা হয়নি।

এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ কোরিয়ার আর্থিক তদারকি সংস্থা (এফএসএস) ১৪টি বড় বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহীদের গ্রাহক সুরক্ষাকে কর্মকর্তাদের কাজের মূল্যায়নের অংশ করতে বলেছিল। বেশি কমিশন দিয়ে পলিসি বিক্রির প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছিল সংস্থাটি। তবে কেআইআরআই'র গবেষণার সুপারিশ এখনো বাধ্যতামূলক নিয়ম হয়নি।

গবেষণায় যুক্তরাজ্যের অ্যাভিভা ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রুডেনশিয়াল ফাইন্যান্সিয়ালের উদাহরণ দেয়া হয়েছে। অ্যাভিভা'র স্বল্পমেয়াদি বোনাস নির্ধারণে ৭০ শতাংশ আর্থিক ফলাফল এবং ৩০ শতাংশ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, কর্মী ও গ্রাহকসেবাসহ অন্যান্য বিষয় বিবেচিত হয়। প্রতিষ্ঠানটি স্বল্পমেয়াদি বোনাসের অর্ধেক শেয়ার হিসেবে তিন বছরের মধ্যে দেয়। প্রুডেনশিয়ালে ৯০ শতাংশ আর্থিক ফলাফল এবং ১০ শতাংশ গ্রাহকের অভিজ্ঞতা বিবেচিত হয়।

গবেষকদের মতে, বীমা কোম্পানির বিনিয়োগ, পলিসি বিক্রি ও ঝুঁকি নিয়ে নেয়া সিদ্ধান্তের ফল কয়েক বছর পরও দেখা যেতে পারে। তাই শুধু চলতি বছরের লাভ নয়, আগের সিদ্ধান্তের ফলও কর্মকর্তাদের মূল্যায়নে রাখতে হবে। বোনাস কীভাবে হিসাব করা হয়েছে এবং কী কারণে দেয়া হয়েছে, তা প্রকাশের কথাও বলেছেন তারা।

বাংলাদেশেও বীমা দাবি পরিশোধে সমস্যা রয়েছে। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) তথ্যমতে, ২০২৬ সালের মার্চ শেষে লাইফ ও নন-লাইফ বীমা মিলিয়ে ১০ হাজার ৬১১ কোটি টাকার দাবির মধ্যে ৭ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা অনিষ্পন্ন ছিল। অর্থাৎ দাবি করা টাকার ৭৩ দশমিক ৩১ শতাংশ তখনো পরিশোধ হয়নি। এর মধ্যে লাইফ বীমায় ৪ হাজার ৪১০ কোটি এবং নন-লাইফ বীমায় ৩ হাজার ৩৬৯ কোটি টাকা অনিষ্পন্ন ছিল।

মন্তব্য সমূহ (০)

আপনার একটি মন্তব্য লিখুন:

এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

‌