‌
‌
‌
‌
‌
‌
‌
‌
‌

‌

দুর্যোগের আগাম সহায়তায় ৪ কোটি ডলারের বীমা চালু জাতিসংঘের

প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১৬ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক: একসঙ্গে কয়েকটি বড় দুর্যোগ দেখা দিলে আগাম সহায়তার অর্থসংকট মোকাবিলায় সর্বোচ্চ ৪ কোটি মার্কিন ডলারের নতুন বীমা চালু করেছে জাতিসংঘ। এর লক্ষ্য বন্যা বা ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার আগেই ঝুঁকিতে থাকা মানুষকে সহায়তা দেয়ার অর্থের জোগান সুরক্ষিত রাখা।

২ নভেম্বর জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ) এই বীমার ঘোষণা দেয়। এতে অংশীদার জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। বীমার চুক্তির ব্যবস্থা করেছে গ্যালাঘার রি। প্রধান বীমাকারী লিবার্টি মিউচুয়াল। কারিগরি পরামর্শ দিয়েছে সেন্টার ফর ডিজাস্টার প্রটেকশন।

নতুন ব্যবস্থায় দুর্যোগের পূর্বাভাস পেলে জাতিসংঘ আগাম সহায়তার জন্য অর্থ বরাদ্দ করবে। বীমার মেয়াদে জাতিসংঘের কেন্দ্রীয় জরুরি সহায়তা তহবিল (সিইআরএফ) থেকে এ ধরনের মোট বরাদ্দ ৬ কোটি ১৫ লাখ ডলার ছাড়ালে বীমা থেকে বাড়তি অর্থ পাওয়া যাবে। সর্বোচ্চ ৪ কোটি ডলার দেয়া হবে ওই তহবিলে। তবে নির্ধারিত সীমা ছাড়ালেই পুরো অর্থ পাওয়া নিশ্চিত নয়। কত টাকা দেয়া হবে, তা নির্ভর করবে বীমার শর্তের ওপর।

এই বীমার অর্থ সরাসরি কোনো দেশের সরকার বা সাধারণ মানুষ পাবেন না। শর্ত পূরণ হলে অর্থ যাবে জাতিসংঘের জরুরি সহায়তা তহবিলে। সেখান থেকে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা এলাকার মানুষকে আগাম সহায়তা দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। তবে সব দেশ বা সব মানুষ স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই সুবিধা পাবেন না। কারা সহায়তা পাবেন, তা নির্ভর করবে দুর্যোগের ঝুঁকি ও সংশ্লিষ্ট সহায়তা কার্যক্রমের ওপর।

ওসিএইচএ'র আগাম দুর্যোগ সহায়তা কার্যক্রমের আর্থিক পরিমাণ ১৫ কোটি ডলার। এর আওতায় রয়েছেন ৫০ লাখের বেশি মানুষ। নতুন বীমার মাধ্যমে আরও বেশি মানুষকে সহায়তা দেয়া সম্ভব হতে পারে। তবে অতিরিক্ত কতজন উপকৃত হবেন, তা জানানো হয়নি। ইউনিসেফও ১০টি যৌথ আগাম সহায়তা কার্যক্রমে নিজেদের ৫০ লাখ ডলারের অর্থ সুরক্ষায় পৃথক বীমা নিয়েছে।

জাতিসংঘের জরুরি ত্রাণ সমন্বয়কারী টম ফ্লেচার বলেন, দুর্যোগ কারও প্রস্তুতির জন্য অপেক্ষা করে না। তাই আঘাত হানার আগেই প্রস্তুত থাকতে হবে।

আগাম সহায়তার উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশের একটি ঘটনা তুলে ধরেছে জাতিসংঘ। ২০২৪ সালে বন্যার ২৪ ঘণ্টা আগে নগদ অর্থ পেয়েছিলেন সালমা নামে এক নারী। সেই অর্থ দিয়ে তিনি শুকনা খাবার ও জ্বালানি কেনেন। পাশাপাশি ঘরের জিনিসপত্র ও গবাদিপশু রক্ষার ব্যবস্থা করেন। সালমা জানান, ওই সহায়তার কারণে দুর্যোগের মধ্যেও তারা রান্না করে খেতে পেরেছিলেন। তবে এই সহায়তা নতুন বীমা থেকে নয়, জাতিসংঘের কেন্দ্রীয় জরুরি সহায়তা তহবিল থেকে দেয়া হয়েছিল।

ডব্লিউএফপি ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশের ২০ জেলায় ১৫টি উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার মানুষ আগাম সহায়তা পেয়েছিলেন। এরপরও সহায়তার প্রয়োজন থাকা ৫৪ শতাংশের বেশি পরিবার তা পায়নি। আকস্মিক বন্যার ক্ষেত্রে সহায়তার ঘাটতি ছিল ৮৮ দশমিক ২ শতাংশ।

প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের জন্য ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়। ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় প্রয়োজনীয় অর্থের অর্ধেকের বেশি নিশ্চিত হয়নি।

এদিকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত ডব্লিউএফপি ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, বন্যার পরে সমপরিমাণ অর্থ দেয়ার তুলনায় আগে নগদ সহায়তা দিলে পরিবারগুলো বেশি সুফল পায়।

জাতিসংঘের মে ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে আট ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম সহায়তার ২৪টি ব্যবস্থা রয়েছে। এসব ব্যবস্থার আওতায় ৩ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি আগাম অর্থায়ন ও দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতির সক্ষমতা রয়েছে। তবে নতুন বীমার অর্থ ব্যবহার করে বাংলাদেশে আগাম সহায়তা দেয়া হবে কি না, সে বিষয়ে জাতিসংঘ কোনো নির্দিষ্ট তথ্য জানায়নি।

নতুন বীমার প্রিমিয়াম, মেয়াদ ও অর্থ পাওয়ার সময়সীমা প্রকাশ করেনি জাতিসংঘ। বাংলাদেশের কোনো বীমা বা পুনর্বীমা প্রতিষ্ঠান এই উদ্যোগে যুক্ত রয়েছে বলেও জানা যায়নি। তবে ডব্লিউএফপি ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ প্রতিবেদনে দুর্যোগের আগাম সহায়তায় বীমা ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ব্যবস্থা বিবেচনার সুপারিশ করা হয়েছে।

মন্তব্য সমূহ (০)

আপনার একটি মন্তব্য লিখুন:

এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

‌