‌
‌
‌
‌
‌
‌
‌
‌
‌

‌

সময় চেয়েছিল প্রগ্রেসিভ লাইফ, ১ম বর্ষ পলিসি বিক্রি বন্ধ করল আইডিআরএ

প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক: মেয়াদপূর্তির আগে বন্ড ভাঙিয়ে বড় অঙ্কের আর্থিক লোকসান এড়ানো এবং স্থায়ী সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে টেকসই উপায়ে গ্রাহকদের বীমা দাবি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে কিছুটা সময় চেয়েছিল বেসরকারি লাইফ বীমা প্রতিষ্ঠান প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। তবে শর্ত অনুযায়ী, দাবি পরিশোধ তহবিলের সংস্থান পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির নতুন পলিসি বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত দিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।

আগামী ৪ নভেম্বর থেকে এই স্থগিতাদেশ কার্যকর হচ্ছে। তবে গ্রাহকদের কোনো বিভ্রান্তি বা আতঙ্কের সুযোগ নেই; কারণ কোম্পানির চলমান পলিসির নবায়ন (রিনিউয়াল) প্রিমিয়াম গ্রহণ এবং বীমা দাবি পরিশোধ কার্যক্রম যথারীতি চালু থাকবে।

আইডিআরএ সূত্রে জানা গেছে, গত ২ নভেম্বর কর্তৃপক্ষের পরিচালক দেবপ্রসাদ পাল স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় বীমা আইন ২০১০-এর ৫০(১)(ঙ) ধারার ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত জারি করা হয়। এতে বলা হয়েছে, বিজিটিবি (সরকারি ট্রেজারি বন্ড) নগদায়ন বাবদ ১০ কোটি টাকা অথবা সম্পদ বিক্রয় থেকে প্রাপ্ত ১৫ কোটি টাকা গ্রাহকদের দাবি পরিশোধের জন্য নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা না হওয়া পর্যন্ত নতুন (প্রথম বর্ষ) প্রিমিয়াম সংগ্রহ করা যাবে না। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, বকেয়া দাবি থাকা অবস্থায় নতুন ব্যবসা বাড়ালে কমিশন ও অর্জন ব্যয়ের কারণে বিদ্যমান গ্রাহকদের দাবি পরিশোধ ব্যাহত হতে পারে।

লোকসান এড়িয়ে টেকসই সমাধানে সময় চেয়েছিল কোম্পানি

আইডিআরএ-তে পাঠানো প্রগ্রেসিভ লাইফের ১ নভেম্বর ও ২৮ অক্টোবরের চিঠি পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের দাবি পরিশোধকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিলেও অপরিপক্ব বন্ড বিক্রির কারণে সৃষ্ট বিপুল আর্থিক ক্ষতি নিয়ে গভীর সংকটে পড়েছিল।

চিঠিতে কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইদুল আমিন কর্তৃপক্ষকে জানান, পূর্ববর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী ইতোমধ্যে ১৮ কোটি ৫০ লাখ টাকার প্রি-ম্যাচিউর বিজিটিবি নগদায়ন করতে গিয়ে ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা এবং ৮ কোটি ৪০ লাখ টাকার শেয়ার পোর্টফোলিও লোকসানে বিক্রি করায় ৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা- অর্থাৎ সব মিলিয়ে ৬ কোটি ২৭ লাখ টাকার নিট আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে কোম্পানি।

প্রতিষ্ঠানটি চিঠিতে তুলে ধরে, মেয়াদের আগে দফায় দফায় ট্রেজারি বন্ড ভাঙালে বিপুল মূলধনি লোকসান হয়, যা কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতাকে স্থায়ীভাবে দুর্বল করে দেবে এবং ভবিষ্যতে দাবি পরিশোধের ভিত্তিকেই দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকির মুখে ফেলবে। এছাড়া আরও ১০ কোটি টাকার বন্ড নগদায়নের জন্য পর্ষদের অনুমোদন, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ট্রেজারি ডিভিশনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিলামে অংশ নেওয়া এবং সর্বোচ্চ দর যাচাইয়ের মতো ধারাবাহিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কয়েক সপ্তাহ সময়ের প্রয়োজন হয়।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিজিটিবি থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে ইতোমধ্যে ৩০ আগস্ট থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত ৩ হাজার ৪৯০ জন গ্রাহককে ১৩ কোটি ৬৮ লাখ ৪ হাজার ৪৫২ টাকা এবং বিজিটিবি ব্যতিরেকে আরও ২১৫ জন গ্রাহককে ১ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার ৮৩১ টাকার বীমা দাবি সরাসরি পরিশোধ করা হয়েছে।

স্থায়ী সম্পদ বিক্রি থেকে আসবে ১৫ কোটি টাকা

বন্ডের লোকসান এড়াতে বিকল্প ও কার্যকর পথ হিসেবে আফতাবনগরে কোম্পানির মালিকানাধীন ৮.৫৪ কাঠা জমি বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রগ্রেসিভ লাইফ। কর্তৃপক্ষও এই জমি বিক্রির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। ২৮ অক্টোবরের চিঠিতে কোম্পানি জানায়, ক্রেতা নির্ধারণের পর জমি বিক্রির প্রায় ১৫ কোটি টাকার পুরো তহবিলই গ্রাহকদের বীমা দাবি মেটাতে ব্যবহার করা হবে। তবে ক্রেতার আর্থিক সংস্থান, ৩ সদস্যের বিক্রয় কমিটির অনুমোদন এবং বায়া দলিল ও ইস্টার্ন হাউজিংয়ের ছাড়পত্রসহ বিভিন্ন নথিপত্র ভূমি অফিস থেকে উত্তোলনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে বাড়তি এক মাস সময় প্রয়োজন।

কোম্পানি কর্তৃপক্ষের যুক্তি, অপরিপক্ব বন্ড ভেঙে কোটি কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতির বোঝা না বাড়িয়ে মাত্র কিছুদিন সময় দিয়ে জমি বিক্রির অর্থ সমন্বয় করতে দিলে শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহক- উভয় পক্ষের আর্থিক নিরাপত্তা বজায় রাখা সম্ভব হতো।

গ্রাহক সেবায় ব্যাঘাত ঘটবে না

আইডিআরএ নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে, প্রথম বর্ষের পলিসি বিক্রি সাময়িক স্থগিত থাকলেও বিদ্যমান সব গ্রাহকের দ্বিতীয় ও পরবর্তী বছরের রিনিউয়াল প্রিমিয়াম গ্রহণ, পলিসি সংক্রান্ত যাবতীয় সেবা এবং বীমা দাবি নিষ্পত্তি কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতেই চলবে।

এ বিষয়ে কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুল আমিন বলেন, আইডিআরএ'র সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে জমি বিক্রির প্রক্রিয়া এবং তহবিল সংস্থান অত্যন্ত দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করা হচ্ছে। ১৫ কোটি টাকার তহবিল ব্যাংক হিসাবে জমার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ামাত্রই নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করে খুব দ্রুত নতুন ব্যবসা চালুর অনুমতি পুনর্বহাল করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী।

মন্তব্য সমূহ (০)

আপনার একটি মন্তব্য লিখুন:

এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

‌