নিজস্ব প্রতিবেদক: কোনো বীমা দাবি ৯০ দিন পর এবং পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করলে, ওই গ্রাহকের নামে নতুন পলিসি ইস্যু করতে হবে আরও ৩০ দিন পর। আর ১২০ দিন বা তারও অধিক সময় পর দাবি পরিশোধ করলে- যেই তারিখে দাবি পরিশোধ করা হবে, সেই তারিখ থেকে আরও ১৮০ দিন পর ওই গ্রাহকের নামে নতুন পলিসি ইস্যু করতে পারবে সংশ্লিষ্ট বীমা কোম্পানি।
তবে ৯০ দিনের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ বীমা দাবি পরিশোধ করলে ওই গ্রাহকের নামে নতুন পলিসি ইস্যু করতে কোনো বাধা নেই। এছাড়া বীমা দাবি থেকে সরকারি রাজস্ব ছাড়া অন্য কোনো খাতে টাকা কেটে রাখা যাবে না। -এমন সব নির্দেশনা দিয়ে সার্কুলার জারি করেছে বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ।
মেয়াদোত্তীর্ণ বীমা দাবির টাকা কেটে রেখে গ্রাহককে চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে নতুন পলিসি ইস্যুর অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৫ অক্টোবর ‘সার্কুলার-১৫/২০২৬’ জারি করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ।
তবে নতুন এই সার্কুলারের এসব নির্দেশনা গ্রাহকস্বার্থ ক্ষুন্ন করতে পারে বলে মনে করছেন বীমা খাত সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এসব নির্দেশনা একদিকে গ্রাহককে নতুন পলিসি করার ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করবে, অন্যদিকে দীর্ঘ সময় বীমা দাবি বকেয়া রাখার জন্য বীমা কোম্পানিগুলোকে সুযোগ তৈরি করে দেবে।
গ্রাহক স্বেচ্ছায় যেকোনো সময় বীমা পলিসি কিনতে পারেন- এক্ষেত্রে বাধা দেয়া বা নিষেধাজ্ঞা আরোপের কোনো এখতিয়ার নিয়ন্ত্রক সংস্থার নেই। তবে নতুন পলিসি না করলে গ্রাহক বীমা দাবি পাবেন না- এমন ভয়ভীতি দেখিয়ে নতুন পলিসি ইস্যু করা অবৈধ। এক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সংশ্লিষ্ট পলিসি যেমন বাতিল করতে পারে, তেমনি সংশ্লিষ্ট বীমা কোম্পানির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নিতে পারে বলেও মনে করেন তারা।
বীমা আইন ২০১০-এর ৭২ ধারা অনুসারে, ৯০ দিনের মধ্যে বীমা দাবি পরিশোধ করতে হয়। তবে ৯০ দিনের মধ্যে বীমা দাবি পরিশোধ না করা হলে পরবর্তী দিনগুলোর জন্য গ্রাহককে প্রচলিত ব্যাংক রেটের চেয়ে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ হারে মাসিক ভিত্তিতে সুদ পরিশোধ করতে হবে।
অথচ আইডিআরএ’র নতুন এই সার্কুলারে ৯০ দিনের পর বীমা দাবি পরিশোধ করা হলে সুদ প্রদানের যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে তা স্পষ্ট করা হয়নি।
সার্কুলারটির ৩(আ) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ১২০ দিন বা তার অধিক সময় পরে দাবি পরিশোধ করা হলে পরিশোধের সর্বশেষ তারিখ থেকে ১৮০ দিনের মধ্যে ওই গ্রাহকের নামে নতুন করে কোন পলিসি ইস্যু করতে পারবে না সংশ্লিষ্ট বীমা কোম্পানি।
এই নির্দেশনার অর্থ হচ্ছে- বীমা কোম্পানি যেকোন সময়ই গ্রাহকদের দাবি পরিশোধ করতে পারবে এবং এক্ষেত্রে বীমা দাবি পরিশোধের নির্ধারিত সময়ের বাধ্যবাধকতা আর থাকছে না।
অন্যদিকে গ্রাহক স্বেচ্ছায় নতুন বীমা পলিসি কিনতে চাইলেও সার্কুলারটিতে ১৮০ দিনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় নতুন কোনো পলিসি কিনতে পারবেন না, যার ফলে গ্রাহক বীমা-ঝুঁকিতে থাকবেন।
এ ছাড়াও কোনো বীমা কোম্পানি বা কোনো এজেন্ট কোনো ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে বা অবৈধভাবে প্রভাবিত করে কোনো গ্রাহকের নামে বীমা পলিসি ইস্যু করা বেআইনি। এ ধরনের পলিসি ইস্যু করার ক্ষেত্রে বীমা আইনের ৬০ ধারায় জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
আইডিআরএ’র জারি করা ‘সার্কুলার-১৫/২০২৬’-এর বিষয়ে বীমা কোম্পানিগুলোর মুখ্য নির্বাহীদের সাথে আলাপ করে ইন্স্যুরেন্স নিউজ বিডি। তবে সার্কুলারের সুবিধা-অসুবিধা বা আইনগত দিক নিয়ে আলোচনা করলেও তারা কেউই নিজেদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।
নতুন এই সার্কুলারে বীমা আইন ২০১০-এর ৭২ ধারা লঙ্ঘনের বিষয়ে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)’র মুখপাত্র সাদিক আরমান বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। এক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে কর্তৃপক্ষ সার্কুলারটিতে সংশোধন আনবে।
আপনার একটি মন্তব্য লিখুন:
এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।