নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৫ সালের শেষে দেশের ব্যাংকগুলোতে জমা থাকা মোট টাকার প্রায় ৭৪ শতাংশ বীমার আওতায় ছিল না। বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সময়ে মোট আমানতের ২৬ দশমিক ৩০ শতাংশ বীমার আওতায় ছিল।
তবে একই সময়ে ৯৩ দশমিক ০৪ শতাংশ আমানতকারী বীমার আওতায় ছিলেন। এর কারণ, অল্প টাকা জমা রাখা গ্রাহকের সংখ্যা বেশি। আর বড় অঙ্কের আমানতের পুরোটা বীমার আওতায় পড়ে না। বীমার বাইরে থাকা মানেই টাকা হারিয়ে যাওয়া নয়।
আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬ অনুযায়ী, একজন গ্রাহক একটি ব্যাংকে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকার সুরক্ষা পাবেন। আগে এই সীমা ছিল এক লাখ টাকা।
আমানত বীমা হলো কোনো ব্যাংক আইন অনুযায়ী বন্ধ হলে গ্রাহকের নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা। এ জন্য ব্যাংকগুলো একটি তহবিলে নিয়মিত প্রিমিয়াম জমা দেয়। গ্রাহককে আলাদা প্রিমিয়াম দিতে হয় না। ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ ও আর্থিক ঝুঁকি অনুযায়ী প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা হয়।
যেমন, কোনো ব্যাংকে কারও পাঁচ লাখ টাকা জমা থাকলে ব্যাংকটি আইন অনুযায়ী বন্ধ হলে তিনি বীমা থেকে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পাবেন। বাকি টাকা ফেরত পাওয়া নির্ভর করবে ব্যাংকের সম্পদ ও পাওনা আদায়সহ আইনি প্রক্রিয়ার ওপর।
একই ব্যাংকে একাধিক হিসাব থাকলেও সব মিলিয়ে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত সুরক্ষা মিলবে। তবে আলাদা ব্যাংকে টাকা থাকলে প্রতিটি ব্যাংকের জন্য এই সীমা আলাদাভাবে প্রযোজ্য হবে।
সঞ্চয়ী হিসাব, চলতি হিসাব, এফডিআর ও ডিপিএসের মতো আমানত সাধারণত বীমার আওতায় পড়ে। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও অন্য ব্যাংকের আমানত এই সুবিধার বাইরে। শেয়ার বা মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগও আমানত বীমার আওতায় পড়ে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫ সালের শেষে আমানত সুরক্ষা তহবিলে ছিল ১৫ হাজার ৬২৪ কোটি টাকা। আগের বছর ছিল ১৬ হাজার ৮৭১ কোটি টাকা। এক বছরে তহবিল কমেছে ১ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা।
নতুন আইনে নির্দিষ্ট শর্তে সংকটে পড়া ব্যাংক পুনর্গঠনেও আমানত সুরক্ষা তহবিলের অর্থ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
কোনো ব্যাংক আর্থিক সমস্যায় পড়লেই গ্রাহক বীমার টাকা দাবি করতে পারবেন না। এ জন্য নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। আইন অনুযায়ী, ব্যাংকের সম্পদ ও দায় নিষ্পত্তির দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নিয়োগের ১০ কার্যদিবসের মধ্যে আমানতকারীদের তালিকা দিতে হবে। প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার সাত কার্যদিবসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক সুরক্ষিত আমানতের টাকা পরিশোধ করবে।
নতুন আইনে ফাইন্যান্স কোম্পানির আমানতকারীদেরও বীমার সুবিধা দেয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এসব কোম্পানি ২০২৮ সালের ১ জুলাই থেকে আমানত সুরক্ষা ব্যবস্থার সদস্য হবে।
আপনার একটি মন্তব্য লিখুন:
এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।