নিজস্ব প্রতিবেদক: ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও সাবেক মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হেমায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন কোম্পানির গ্রাহক, মাঠকর্মী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এদিন ফারইস্ট ইসলামী লাইফের সাবেক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় আসামিপক্ষের করা ফৌজদারি রিভিশন আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেয়া গ্রাহক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কোম্পানির অনেক গ্রাহক বীমার বিভিন্ন পাওনা পাচ্ছেন না। এর মধ্যে মৃত্যু দাবি, মেয়াদপূর্তির টাকা ও অন্যান্য বীমা সুবিধার অর্থ রয়েছে। তারা দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে এসব পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ফারইস্ট ইসলামী লাইফের আইন কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় ৮১৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে ডিবি পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। পরে আদালত ওই অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। এর বিরুদ্ধে আসামিপক্ষ ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে ফৌজদারি রিভিশন আবেদন করে।
মানববন্ধনে অংশ নেয়া এক গ্রাহক বলেন, তার পরিবারের ফারইস্ট ইসলামী লাইফে ৬টি বীমা পলিসি রয়েছে। ২০২১ সাল থেকে এসব পলিসির টাকা পাচ্ছেন না বলে দাবি করেন তিনি। দীর্ঘদিন পলিসির টাকা না পাওয়ায় পরিবার আর্থিক সমস্যায় পড়েছে বলেও জানান তিনি।
ওই গ্রাহক আরও বলেন, গ্রাহকদের মৃত্যু দাবি, মেয়াদপূর্তির টাকা ও অন্যান্য পাওনা দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে। এসব টাকা উদ্ধারে আদালত ও সরকারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
ফারইস্ট ইসলামী লাইফের এক মাঠকর্মী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কোম্পানিতে কাজ করলেও বর্তমানে গ্রাহক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আর্থিক সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। গ্রাহকদের দাবি পরিশোধ এবং সংশ্লিষ্টদের সম্পদ থেকে অর্থ উদ্ধার করে পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।
ফারইস্ট ইসলামী লাইফের পক্ষের আইনজীবী এম রফিকুল ইসলাম জনি বলেন, কোম্পানির সাবেক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে এবং আদালত তা গ্রহণ করেছেন। ওই আদেশের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষ ফৌজদারি রিভিশন আবেদন করেছে।
তিনি বলেন, আসামিপক্ষ মামলাটি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আওতাভুক্ত দাবি করে তা সংশ্লিষ্ট আদালতে স্থানান্তরের আবেদন করেছে। তবে ফারইস্টের পক্ষ থেকে আদালতে বলা হয়েছে, মামলায় যে ধারাগুলো ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলো দুদকের তফসিলভুক্ত নয় এবং বীমা প্রতিষ্ঠান অর্থঋণ আদালত আইনে সংজ্ঞায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আওতায় পড়ে না।
এম রফিকুল ইসলাম জনি আরও বলেন, আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনেছেন এবং বিষয়টি পর্যালোচনা করে আদেশ দেয়ার কথা জানিয়েছেন।
আপনার একটি মন্তব্য লিখুন:
এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।