‌
‌
‌
‌
‌
‌
‌
‌
‌

‌

আদালতের আদেশের পরও ফারইস্টের জমি দখলের অভিযোগ

প্রকাশিত: ৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক: আদালতের আদেশ থাকার পরও রাজধানীর মিরপুরের গোড়ান চটবাড়ি এলাকায় ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির জমিতে জোরপূর্বক প্রবেশ, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ও দখলের অভিযোগ করেছে কোম্পানিটি।

এ ঘটনায় শাহ আলী থানা পুলিশকে একাধিকবার জানানো এবং দুটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ফারইস্ট ইসলামী লাইফের ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহিম ভূঞা।

রোববার (৪ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ফারইস্ট ইসলামী লাইফের দাবি, গোড়ান চটবাড়ি এলাকায় তাদের ৬২৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ জমি রয়েছে। জমিটি নিয়ে বিরোধ আদালতে বিচারাধীন। কোম্পানির ভাষ্য, হাইকোর্টের গত ২৯ জুলাইয়ের আদেশ অনুযায়ী মামলার রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই সম্পত্তির ওপর স্থগিতাদেশ বহাল রয়েছে।

আব্দুর রহিম ভূঞার অভিযোগ, গত ২৪ সেপ্টেম্বর ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে জমিতে প্রবেশ করে। দলটি ভয় দেখিয়ে সেখানে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে জমি দখল করে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর কোম্পানির নিরাপত্তাকর্মীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় ২১ সেপ্টেম্বর শাহ আলী থানায় একটি জিডি করা হয়। পরে ২৪ সেপ্টেম্বরের ঘটনার পর ২৭ সেপ্টেম্বর একই থানায় আরও একটি জিডি করে কোম্পানি।

তার অভিযোগ, বারবার জানানোর পরও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেনি বা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে ফারইস্ট ইসলামী লাইফের পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো-

১. জমিটির বিষয়ে আদালতের দেওয়া আদেশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হবে।

২. ২৪ সেপ্টেম্বর জমিতে জোরপূর্বক প্রবেশ, অস্ত্রের মহড়া ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।

৩. জমি দখলের ঘটনায় কোনো প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার নাম ব্যবহার করে প্রভাব খাটানো হয়েছে কি না, তা তদন্ত করতে হবে।

৪. দুটি জিডির পরও শাহ আলী থানা কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি, তা তদন্ত করতে হবে।

৫. ফারইস্ট ইসলামী লাইফের সম্পত্তি ও এর সঙ্গে জড়িত গ্রাহকদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

৬. আইন ও আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী জমিটি দখলমুক্ত করে সেখানে কোম্পানির শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।

আব্দুর রহিম ভূঞা বলেন, 'আমাদের বিরুদ্ধে যদি কারো কোনো বৈধ দাবি থাকে, সেটিও উঠে আসুক। কিন্তু প্রভাব খাটিয়ে গ্রাহকের সম্পদ দখলের চেষ্টা হলে সেটিও জাতির সামনে উন্মোচিত হোক।'

তিনি আরও বলেন, জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ করবে আইন ও আদালত।

ফারইস্ট ইসলামী লাইফের বিভিন্ন সম্পত্তি কেনায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কোম্পানির রিয়েল এস্টেট বিভাগের ইনচার্জ মোহাম্মদ আজগর আলী বলেন, এসব বিষয়ে আদালত, থানা ও দুর্নীতি দমন কমিশনে একাধিক মামলা রয়েছে। মামলাগুলো বিচারাধীন থাকায় তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করেননি।

জমি দখলের ঘটনায় প্রভাবশালী কোনো রাজনৈতিক নেতার নাম ব্যবহারের অভিযোগ করা হলেও তার পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না কেন- এ প্রশ্নও করা হয়।

জবাবে মোহাম্মদ আজগর আলী বলেন, এ ঘটনায় কোম্পানিটি ভুক্তভোগী এবং অনেক সময় ভুক্তভোগীদের পক্ষে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম সরাসরি বলা কঠিন হয়ে পড়ে।

মন্তব্য সমূহ (০)

আপনার একটি মন্তব্য লিখুন:

এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

‌