‌
‌
‌
‌
‌
‌
‌
‌
‌

‌

দেশের ৯৯.৬ শতাংশ শিশু স্বাস্থ্যবীমার বাইরে

প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৩ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক: হামে আক্রান্ত ১১ মাসের মেয়েকে নিয়ে রংপুর থেকে ঢাকায় এসে ৭০ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়েছে হাজেরা খাতুনের। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা বিনামূল্যে হলেও শুধু অ্যাম্বুলেন্সেই ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। পরীক্ষা-নিরীক্ষা, খাবার ও অন্যান্য খরচ মেটাতে স্বজনদের কাছ থেকে ঋণ নিতে হয়েছে তাকে। গত আগস্টে প্রকাশিত এক সংবাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউনিসেফের মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (এমআইসিএস) ২০২৫ অনুযায়ী, দেশে পাঁচ বছরের কম এবং ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের মাত্র শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ স্বাস্থ্যবীমার আওতায় রয়েছে। অর্থাৎ প্রতি হাজারে মাত্র চার শিশু। বাকি ৯৯ দশমিক ৬ শতাংশ বীমার বাইরে।

স্বাস্থ্যবীমায় নির্দিষ্ট প্রিমিয়ামের বিনিময়ে চিকিৎসার খরচ মেটাতে আর্থিক সুবিধা পাওয়া যায়। কত টাকা পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করে বীমার শর্তের ওপর।

কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য দেয়া স্বাস্থ্যবীমায় তাদের সন্তানদেরও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। সমীক্ষায় দেখা যায়, স্বাস্থ্যবীমার আওতায় থাকা ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের ৮১ দশমিক ৫ শতাংশ এ ধরনের বীমার সুবিধা পায়।

এই বয়সী শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারের শূন্য দশমিক ১ শতাংশ এবং সবচেয়ে ধনী পরিবারের ১ দশমিক ৩ শতাংশ স্বাস্থ্যবীমার আওতায় রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৩ সালে দেশের মোট স্বাস্থ্যব্যয়ের ৭৯ দশমিক ৩১ শতাংশ মানুষ নিজের পকেট থেকে বহন করেছে। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট ও আন্তর্জাতিক রেড ক্রস-রেড ক্রিসেন্ট ফেডারেশনের জরিপে হামে আক্রান্ত রোগী থাকা ২ হাজার ৭৪৬টি পরিবারের ৮৯ শতাংশ চিকিৎসার খরচ মেটাতে ঋণ নিয়েছে। ৬১ শতাংশ পরিবার সঞ্চয় শেষ করেছে। পরিবারপ্রতি গড় খরচ হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার টাকা।

বেসরকারি হাসপাতালে হামের চিকিৎসায় কয়েক লাখ টাকা খরচ হওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। গত ১৭ মে প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়, হামের জটিলতায় আক্রান্ত সাড়ে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর শুধু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) বিল ১৩ মে পর্যন্ত ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকায় পৌঁছায়। এর আগে অন্য একটি হাসপাতালে চিকিৎসায় প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়।

দেশে শিশুদের জন্য কিছু বীমাসুবিধা রয়েছে। তবে সব বীমায় চিকিৎসার প্রকৃত খরচ অনুযায়ী অর্থ দেয়া হয় না। যেমন মেটলাইফের ‘হসপিটাল কেয়ার’ সুবিধায় হাসপাতালে ভর্তি হলে বীমার শর্ত অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা পাওয়া যায়।

এক থেকে ১৯ বছর বয়সী নির্ভরশীল সন্তানদের জন্য এ সুবিধার বার্ষিক অতিরিক্ত প্রিমিয়াম ৬৮০ থেকে ৪ হাজার ৮৩ টাকা। পূর্ণকালীন শিক্ষার্থী হলে বয়সসীমা ২৩ বছর পর্যন্ত। এটি মূল লাইফ বীমার সঙ্গে নেয়া অতিরিক্ত সুবিধা। মূল লাইফ বীমার প্রিমিয়াম আলাদা। তবে আগে থেকে থাকা রোগ এই সুবিধার বাইরে।

দরিদ্র মানুষের চিকিৎসার খরচ কমাতে সরকার স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি (এসএসকে) চালু করেছিল। এতে পরিবারপ্রতি বছরে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্দিষ্ট চিকিৎসাসুবিধার ব্যবস্থা ছিল। তবে ২০২৬ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে কর্মসূচিটির কার্যক্রম স্থগিত হয়।

এদিকে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) গত জুলাইয়ে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য ক্ষুদ্রবীমার নিয়ম তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এটি শিশুদের জন্য আলাদা স্বাস্থ্যবীমা প্রকল্প নয়।

মন্তব্য সমূহ (০)

আপনার একটি মন্তব্য লিখুন:

এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

‌