নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় অংশ নেয়া কর্মীদের ৫৫ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা দৈনন্দিন কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করেন। তাদের মধ্যে ৯১ শতাংশ মনে করেন, এআই তাদের কাজের অভিজ্ঞতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
মেটলাইফ বাংলাদেশের প্রকাশিত এমপ্লয়ি বেনিফিটস ট্রেন্ডস স্টাডির (ইবিটিএস) দ্বিতীয় সংস্করণে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় কর্মীদের আর্থিক চাপ, বীমা সুবিধা ও অবসর পরিকল্পনার তথ্যও পাওয়া গেছে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ৫৮ শতাংশ নিয়োগদাতা কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে উৎসাহ বা সহায়তা দিচ্ছেন।
আর্থিক চাপ কাজের ওপর প্রভাব ফেলছে বলে জানিয়েছেন ৭২ শতাংশ কর্মী। ২০২৫ সালে এ হার ছিল ৫৬ শতাংশ। একই সঙ্গে বড় ধরনের অপ্রত্যাশিত আর্থিক ব্যয়ের ক্ষেত্রে নিয়োগদাতার সহায়তা প্রত্যাশা করেন ৭২ শতাংশ কর্মী।
বীমা ও সুস্থতাসংক্রান্ত সুবিধার বিষয়ও উঠে এসেছে গবেষণায়। অংশগ্রহণকারী কর্মীদের ৭৯ শতাংশ জানিয়েছেন, এ ধরনের সুবিধা প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাদের আনুগত্য বাড়াতে পারে। ২০২৫ সালে এ হার ছিল ৭৮ শতাংশ।
এ ছাড়া চাকরি নিয়ে সন্তুষ্ট কর্মীর হার ২০২৫ সালের ৭৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ৮৩ শতাংশ হয়েছে। ব্যক্তিগত চাহিদা অনুযায়ী কর্মী-সুবিধার প্রতি আগ্রহও একই সময়ে ৬৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮৬ শতাংশে পৌঁছেছে।
গবেষণায় অংশ নেয়া ৮৫ শতাংশ নিয়োগদাতা মনে করেন, কর্মীদের দেয়া সুযোগ-সুবিধা ইতিবাচক কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ২০২৫ সালে এ হার ছিল ৭৮ শতাংশ।
অবসর পরিকল্পনা নিয়েও তথ্য উঠে এসেছে গবেষণায়। ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সী কর্মীদের মধ্যে অবসর পরিকল্পনা নেই, এমন কর্মীর হার ২০২৫ সালের ৫৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ৮১ শতাংশ হয়েছে।
২০২৬ সালে পরিচালিত এ গবেষণায় তৈরি পোশাক, ব্যাংকিং, নিত্যব্যবহার্য ভোগ্যপণ্য (এফএমসিজি), টেলিযোগাযোগ, খুচরা বিক্রয়, উৎপাদন, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) ও প্রযুক্তি খাতের মোট ৭০৯ জন অংশ নেন। তাদের মধ্যে ৫৮৩ জন কর্মী এবং ১২৬ জন নিয়োগদাতা ছিলেন।
গবেষণার ফলাফল সম্পর্কে মেটলাইফ বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা আলা আহমদ বলেন, কর্মক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি কর্মীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণার তথ্য কর্মীদের পরিবর্তিত চাহিদা বুঝতে এবং সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে নিয়োগদাতাদের সহায়তা করবে বলে তিনি মনে করেন।
আপনার একটি মন্তব্য লিখুন:
এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।