‌
‌
‌
‌
‌
‌
‌
‌
‌

‌

লোকসান কমাতে পরিকল্পনা দিতে হবে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত বীমা কোম্পানিগুলোকে

প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:০৪ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রিমিয়াম আয় বাড়লেও বড় লোকসানে পড়েছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলো। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চার কোম্পানির হিসাব মিলিয়ে লোকসান দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৫০ কোটি রুপি। আগের অর্থবছরে একই হিসাবে মুনাফা ছিল ৭৯৮ কোটি রুপি। এমন পরিস্থিতিতে লোকসানি বীমা ব্যবসা কমানো বা বন্ধের পরিকল্পনা জমা দিতে হবে কোম্পানিগুলোকে।

সোমবার (২ নভেম্বর) ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিক টাইমস সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে এ পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। এতে আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো, প্রযুক্তির ব্যবহার ও পরিচালন ব্যবস্থার উন্নতির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি মূল্যায়ন করবে সরকার।

ভারত সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চার কোম্পানির মোট সরাসরি প্রিমিয়াম সংগ্রহ ছিল ১ লাখ ২ হাজার ৫৬৮ কোটি রুপি। আগের অর্থবছরে ছিল ৯৫ হাজার ২৫২ কোটি রুপি। সাময়িক হিসাবে ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স ২ হাজার ৫৩৪ কোটি, ওরিয়েন্টাল ইন্স্যুরেন্স ৪ হাজার ৬১ কোটি এবং ইউনাইটেড ইন্ডিয়া ইন্স্যুরেন্স ৪ হাজার ৮৩৯ কোটি রুপি লোকসান করেছে। অন্যদিকে নিউ ইন্ডিয়া অ্যাস্যুরেন্স ১ হাজার ৩৮৪ কোটি রুপি মুনাফা করেছে।

তবে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে নিউ ইন্ডিয়া অ্যাস্যুরেন্সও লোকসানে পড়েছে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে কোম্পানিটির নিট লোকসান হয়েছে ১ হাজার ২৬৭ কোটি রুপি। আগের বছরের একই সময়ে ৬৩ কোটি রুপি মুনাফা হয়েছিল।

কোম্পানিটির লোকসানের অন্যতম কারণ বীমা দাবির ব্যয় বেড়ে যাওয়া। মোটরযান দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণসংক্রান্ত ভারতের সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের কারণে প্রায় ৭১৫ কোটি রুপি অতিরিক্ত অর্থের সংস্থান রাখতে হয়েছে। বন্যাসহ সম্পত্তির বড় ক্ষতির দাবিও ব্যয় বাড়িয়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির দাবি ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যয় মিলিয়ে মোট ব্যয়ের অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১৫৬ দশমিক ২ শতাংশে। অর্থাৎ প্রতি ১০০ রুপি অর্জিত প্রিমিয়ামের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৫৬ রুপি।

অন্য তিন রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির মূলধন পরিস্থিতিও দুর্বল। ২০২৬ সালের মার্চ শেষে ন্যাশনাল, ওরিয়েন্টাল ও ইউনাইটেড ইন্ডিয়ার সলভেন্সি অনুপাত ছিল যথাক্রমে ঋণাত্মক ১ দশমিক ১১, ১ দশমিক ৬৩ ও ১ দশমিক ৩৬। অথচ ভারতের বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইআরডিএআই'র নির্ধারিত ন্যূনতম অনুপাত ১ দশমিক ৫। এই অনুপাত দিয়ে বোঝা যায়, বীমা দাবি ও অন্যান্য দায় মেটাতে কোম্পানির পর্যাপ্ত মূলধন রয়েছে কি না। ঋণাত্মক অনুপাত বড় ধরনের মূলধন ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।

অতিরিক্ত দাবি ব্যয় ও ঝুঁকি অনুযায়ী পর্যাপ্ত প্রিমিয়াম নির্ধারণ করতে না পারায় কোম্পানিগুলোর মূল বীমা ব্যবসায় লোকসান বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চার কোম্পানির এ লোকসান ছিল ২৯ হাজার ৭১ কোটি রুপি, যা আগের বছরের তুলনায় ৫৮ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। তবে বিনিয়োগসহ অন্যান্য আয় থাকায় তাদের চূড়ান্ত লোকসান এর চেয়ে কম।

লোকসান কমাতে সরকারি স্বাস্থ্যবীমাসহ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসায় যথাযথ প্রিমিয়াম নির্ধারণ, দাবি যাচাইয়ে নজরদারি এবং পুনর্বীমার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। পুনর্বীমার মাধ্যমে একটি বীমা কোম্পানি নিজের ঝুঁকির কিছু অংশ অন্য বীমা প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করে। এতে বড় ক্ষতির আর্থিক চাপ কমানো যায়। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে দাবি যাচাই ও ভুয়া দাবি শনাক্তের সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।

গত ২ সেপ্টেম্বর ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয় কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা করে। ওই সময় লাভজনক ব্যবসায় গুরুত্ব দেয়া এবং দাবি ব্যয় কমানোর নির্দেশনা দেয়া হয়। কোম্পানিগুলোর কাজের অগ্রগতিও প্রতি তিন মাসে মূল্যায়নের কথা বলা হয়। আগস্টে সংসদীয় কমিটি আর্থিক সক্ষমতা ফেরাতে নির্দিষ্ট সময়ের পরিকল্পনা তৈরির সুপারিশ করে।

২০১৯-২০ থেকে ২০২১-২২ অর্থবছরে তিন কোম্পানিকে ১৭ হাজার ৪৫০ কোটি রুপি মূলধন সহায়তা দিয়েছিল ভারত সরকার। কিন্তু মূল বীমা ব্যবসায় লোকসান অব্যাহত থাকায় সংকট কাটেনি। ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা আইসিআরএ'র হিসাবে, নির্ধারিত আর্থিক সক্ষমতা অর্জনে ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে কোম্পানি তিনটির প্রায় ৩৯ হাজার কোটি রুপি মূলধন প্রয়োজন হতে পারে।

লোকসানি বীমা ব্যবসা কমানো বা বন্ধ করা হলে গ্রাহকদের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যবীমা ও সরকারি বীমা কর্মসূচিতে প্রিমিয়াম বা বীমা সুবিধায় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে কোন ব্যবসা বন্ধ করা হবে এবং কত দিনের মধ্যে কোম্পানিগুলোকে পরিকল্পনা জমা দিতে হবে, তা এখনো জানানো হয়নি।

মন্তব্য সমূহ (০)

আপনার একটি মন্তব্য লিখুন:

এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

‌