আন্তর্জাতিক বীমা ডেস্ক: ব্রাজিল থেকে ‘হানবিট-ন্যানো’ রকেট উৎক্ষেপণের জন্য সর্বোচ্চ ১ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলারের দায়বদ্ধতা বীমার সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। রকেটটি দক্ষিণ কোরিয়ার বেসরকারি মহাকাশ প্রতিষ্ঠান ইনোস্পেসের তৈরি। এমন প্রতিষ্ঠানের রকেটের জন্য দেশটিতে এটাই প্রথম প্রস্তাব।
ইয়োনহাপের ২৫ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার মহাকাশ প্রশাসন কোরিয়া অ্যারোস্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (কেএএসএ) ১২ অক্টোবর খসড়া প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে।
দক্ষিণ কোরিয়ার আইন অনুযায়ী, দেশটির কোনো প্রতিষ্ঠান নিজেদের রকেট বিদেশ থেকে উৎক্ষেপণ করলেও সরকারি অনুমতি নিতে হয়। এ অনুমতি পেতে দায়বদ্ধতা বীমা বাধ্যতামূলক। তাই উৎক্ষেপণ ব্রাজিলে হলেও ইনোস্পেসের রকেটের জন্য বীমাসীমা প্রস্তাব করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। পাশাপাশি ব্রাজিলের অনুমতি ও বীমাসংক্রান্ত শর্ত মানতে হবে।
এটি সরকারের ক্ষতিপূরণ দেয়ার ঘোষণা নয়। বীমা নিতে হবে ইনোস্পেসকে। উৎক্ষেপণের সময় দুর্ঘটনায় অন্য কেউ আহত বা নিহত হলে কিংবা কারও সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হলে বীমা কোম্পানি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেবে। একে বলা হয় ‘তৃতীয় পক্ষের দায়বদ্ধতা বীমা’।
বীমাসীমা ঠিক করতে ইনোস্পেস দুর্ঘটনায় কতটা ক্ষতি হতে পারে, তার হিসাব করেছে। এ জন্য ‘ম্যাক্সিমাম প্রোব্যাবল লস’ (এমপিএল) পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। এতে প্রাণহানি, সম্পত্তি ও পরিবেশের ক্ষতির ঝুঁকি বিবেচনা করা হয়েছে। ব্রাজিলের মহাকাশ কর্তৃপক্ষ হিসাবটি পর্যালোচনা করেছে।
আগের উৎক্ষেপণে ইনোস্পেস দেড় কোটি ডলারের বীমা নিয়েছিল। নতুন প্রস্তাব তার চেয়ে ৩০ লাখ ডলার বা ২০ শতাংশ বেশি। এটি বীমা করার খরচ বা ‘প্রিমিয়াম’ নয়; বীমার প্রস্তাবিত সর্বোচ্চ সীমা।
এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি উদ্যোগে পরিচালিত নারো ও নুরি রকেটসহ তিনটি উৎক্ষেপণযানের বীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০০ বিলিয়ন ওন। নতুন সীমা তার প্রায় ১২ শতাংশ। দক্ষিণ কোরিয়ার ভূখণ্ড সরাসরি ঝুঁকিতে না থাকাও বিবেচনায় এসেছে বলে জানিয়েছে কেএএসএ।
২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর ব্রাজিলের আলকানতারা মহাকাশকেন্দ্র থেকে উৎক্ষেপণের ৩৩ সেকেন্ডের মাথায় হানবিট-ন্যানো ব্যর্থ হয়। তদন্তে দেখা যায়, রকেটের প্রথম ধাপের দহনকক্ষের সামনের অংশ দিয়ে গ্যাস বেরিয়ে কক্ষটি ফেটে যায়। ইনোস্পেস জানিয়েছে, কেউ আহত হননি এবং সংশ্লিষ্ট বীমার আওতায় কোনো ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়নি।
বীমাবিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্স্যুরারের তথ্য অনুযায়ী, আগের বীমাটি নেয়া হয় যুক্তরাজ্যের বিজলির কাছ থেকে। এতে রকেটের নিজের ক্ষতি অন্তর্ভুক্ত ছিল না। বীমার অঙ্কের বেশি ক্ষতি হলে অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ কে দেবে, তা প্রযোজ্য আইন ও চুক্তির ওপর নির্ভর করবে।
প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ব্রাজিলের শর্ত মেনে এর মধ্যে প্রকৃত বীমার অঙ্ক নির্ধারিত হতে পারে। ইনোস্পেস ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে পুনরায় উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা বিবেচনা করছে।
আপনার একটি মন্তব্য লিখুন:
এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।