‌
‌
‌
‌
‌
‌
‌
‌
‌

‌

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে সার্বিয়ার বীমা খাত

প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫০ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচের পদত্যাগ এবং আগাম নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে সার্বিয়ার বীমা খাত এখন নীতি ধারাবাহিকতা, বিনিয়োগ আস্থা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নতুন প্রশ্নের মুখে পড়েছে। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিবেশে খাতটির নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, ব্যবসার পরিবেশ এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কার্যক্রম কতটা ধারাবাহিক থাকে, সেটিই এখন আলোচনার বিষয়।

এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত, বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং কোম্পানিগুলোর দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রমে। একই সঙ্গে সার্বিয়ার বীমা খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এবং ইউরোপীয় মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য তৈরির উদ্যোগগুলোও গুরুত্ব পাচ্ছে।

ন্যাশনাল ব্যাংক অব সার্বিয়ার (এনবিএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটির বীমা খাতে মোট প্রিমিয়াম আয় হয়েছে প্রায় ১৭৭.৪ বিলিয়ন সার্বিয়ান দিনার (প্রায় ১৫০ কোটি ইউরোর বেশি)। আগের বছরের তুলনায় এই আয় বেড়েছে ১৪.৩ শতাংশ। একই সময়ে বীমা খাতের আয় দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১.৮ শতাংশ ছিল। মাথাপিছু বীমা প্রিমিয়ামের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২৯ ইউরো।

সার্বিয়ার অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি হলো উৎপাদন শিল্প, গাড়ি নির্মাণ, কৃষি, সেবা খাত এবং বিদেশি বিনিয়োগনির্ভর শিল্প। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য দেশটির অর্থনীতির অন্যতম প্রধান অংশ। আয় বৃদ্ধি এবং আর্থিক সচেতনতা বাড়লে বীমা পণ্যের চাহিদাও বাড়তে পারে।

তবে সার্বিয়ার বীমা খাত এখনো নন-লাইফ বীমার ওপর নির্ভরশীল। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, মোট বীমা প্রিমিয়ামের প্রায় ৮২.৩ শতাংশ এসেছে নন-লাইফ বীমা থেকে। এর মধ্যে রয়েছে গাড়ি বীমা, সম্পত্তি বীমা, স্বাস্থ্য বীমা এবং ব্যবসায়িক ঝুঁকির বীমা। অন্যদিকে লাইফ বীমার অংশ ছিল মাত্র ১৭.৭ শতাংশ।

লাইফ বীমার অংশ কম থাকার পেছনে রয়েছে মানুষের সীমিত বীমা সচেতনতা, দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের অভ্যাস কম থাকা এবং লাইফ বীমাকে সঞ্চয় ও আর্থিক নিরাপত্তার মাধ্যম হিসেবে তুলনামূলক কম গ্রহণ করা। ইউরোপের উন্নত দেশগুলোর তুলনায় সার্বিয়ায় লাইফ বীমার বিস্তার এখনো ধীর হলেও এই খাতে সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, সার্বিয়ার বীমা খাতে মোট ২০টি বীমা ও পুনর্বীমা প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এর মধ্যে ১৬টি প্রতিষ্ঠান সরাসরি বীমা কার্যক্রমে এবং ৪টি প্রতিষ্ঠান পুনর্বীমা ব্যবসায় সক্রিয় ছিল। সরাসরি বীমা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪টি শুধু লাইফ বীমা, ৬টি শুধু নন-লাইফ বীমা এবং ৬টি লাইফ ও নন-লাইফ উভয় ধরনের বীমা সেবা দিয়েছে।

লাইফ বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো জীবন সুরক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ভিত্তিক পণ্য সরবরাহ করে। অন্যদিকে নন-লাইফ বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো গাড়ি, সম্পত্তি, স্বাস্থ্য, দুর্ঘটনা এবং ব্যবসায়িক ঝুঁকির বীমায় বেশি সক্রিয়।

সার্বিয়ার বীমা খাতে কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের প্রভাব রয়েছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন দুনাভ অসিগুরানিয়ে প্রায় ২৬ শতাংশ অংশ নিয়ে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া জেনেরালি অসিগুরানিয়ে সার্বিয়া, ডিডিওআর নোভি সাদ, ভিয়েনার স্ট্যাডটিশে অসিগুরানিয়ে এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানও খাতে সক্রিয় রয়েছে।

বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর শক্তিশালী অবস্থান একদিকে খাতে স্থিতিশীলতা তৈরি করে। অন্যদিকে নতুন কোম্পানির প্রবেশ, প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এবং নতুন ধরনের বীমা পণ্য চালুর ক্ষেত্রেও এটি একটি আলোচনার বিষয়।

সার্বিয়ার বীমা খাতের প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থা হলো ন্যাশনাল ব্যাংক অব সার্বিয়া (এনবিএস)। সংস্থাটি বীমা কোম্পানির অনুমোদন, আর্থিক সক্ষমতা, গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষা এবং কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম তদারক করে।

ইইউ মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে সার্বিয়াকে বীমা খাতের নিয়মকানুন, স্বচ্ছতা এবং গ্রাহক সুরক্ষার ক্ষেত্রে উন্নয়ন করতে হচ্ছে। বিশেষ করে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা এবং তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে আরও উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে।

আর্থিক সক্ষমতার দিক থেকে সার্বিয়ার বীমা খাত বর্তমানে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। ন্যাশনাল ব্যাংক অব সার্বিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে খাতটির মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত ছিল ২১৩.৫ শতাংশ। তবে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দীর্ঘ হলে বিনিয়োগ প্রবাহ, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং সাইবার নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো কোম্পানিগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

প্রযুক্তির ব্যবহার সার্বিয়ার বীমা খাতে নতুন সুযোগ তৈরি করছে। অনলাইনে পলিসি বিক্রি, ডিজিটাল পদ্ধতিতে দাবি গ্রহণ ও নিষ্পত্তি এবং গ্রাহকের তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে কোম্পানিগুলো সেবা উন্নত করার চেষ্টা করছে। তবে উন্নত ইউরোপীয় দেশগুলোর তুলনায় সার্বিয়ার ডিজিটাল বীমা সেবায় আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে।

রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যেও সার্বিয়ার বীমা খাত প্রবৃদ্ধির ধারা ধরে রেখেছে। তবে ভবিষ্যতে খাতটির অগ্রগতি নির্ভর করবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নিয়ন্ত্রক ধারাবাহিকতা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সাধারণ মানুষের কাছে বীমা সেবা সহজে পৌঁছে দেয়ার সক্ষমতার ওপর।

মন্তব্য সমূহ (০)

আপনার একটি মন্তব্য লিখুন:

এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

‌