আন্তর্জাতিক সংবাদ ডেস্ক: সিঙ্গাপুরে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান অ্যালায়েন্স মেডিনেটের তথ্যভান্ডারে সাইবার হামলায় প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার মানুষের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়টি বীমা প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক রয়েছেন। তবে বীমা কোম্পানিগুলোর নিজস্ব কম্পিউটার ব্যবস্থায় হামলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
২৪ অক্টোবর সিঙ্গাপুরের শেয়ারবাজারে দেয়া ঘোষণায় এ তথ্য জানিয়েছে অ্যালায়েন্স হেলথকেয়ার গ্রুপ। অ্যালায়েন্স মেডিনেট তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান। এটি বিভিন্ন বীমা কোম্পানির হয়ে কর্মীদের স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসার খরচের দাবি যাচাইয়ের মতো কাজ করে। এসব কাজের জন্য প্রতিষ্ঠানটির কাছে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য থাকে।
যে ছয় বীমা প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকের তথ্য ঝুঁকিতে পড়েছে, সেগুলো হলো এইচএসবিসি লাইফ, ইনকাম ইন্স্যুরেন্স, সিংলাইফ, গ্রেট ইস্টার্ন, সিগনা ও টোকিও মেরিন।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এইচএসবিসি লাইফের ৩ হাজার ৯৯৫ জন, টোকিও মেরিনের ৬ হাজার ১০৩ জন, সিংলাইফের ৩২৩ জন এবং ইনকাম ইন্স্যুরেন্সের প্রায় ৭০ জন গ্রাহকের তথ্য আক্রান্ত বা ঝুঁকিতে পড়েছে। গ্রেট ইস্টার্ন ও সিগনার মোট আক্রান্ত গ্রাহকসংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
ঝুঁকিতে থাকা তথ্যের মধ্যে রয়েছে নাম, পরিচয়পত্রের নম্বর, ফোন নম্বর, জন্মতারিখ ও বীমা পলিসির বিবরণ। প্রাথমিক তদন্তে সাতজনের ব্যাংক হিসাবের তথ্য এবং একজনের রোগসংক্রান্ত তথ্যও আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে। গ্রেট ইস্টার্ন জানিয়েছে, তাদের তিন সদস্যের ব্যাংক হিসাবের তথ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে। সিগনা জানিয়েছে, তাদের এক সদস্যের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য আক্রান্ত হয়েছে।
এসব তথ্য ব্যবহার করে ভুয়া ফোন, বার্তা বা ই-মেইলের মাধ্যমে প্রতারণার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এ ঘটনায় তথ্যের অপব্যবহারের কোনো নিশ্চিত খবর প্রকাশিত হয়নি। কীভাবে হামলা হয়েছে এবং তথ্য বাইরে নেয়া হয়েছে কি না, তা-ও এখনো স্পষ্ট নয়।
সংশ্লিষ্ট বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, গ্রাহকেরা আগের মতোই বীমা সুবিধা নিতে এবং দাবি জমা দিতে পারবেন। আক্রান্ত ব্যক্তিদের সতর্ক করা হচ্ছে। সন্দেহজনক ফোন বা বার্তার মাধ্যমে কেউ ব্যক্তিগত কিংবা ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাইলে তা না দিতে গ্রাহকদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
অ্যালায়েন্স হেলথকেয়ার জানিয়েছে, হামলার কারণ জানতে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
২১ অক্টোবর ঘটনাটি সিঙ্গাপুরের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা কমিশনকে জানানো হয়। কমিশন তদন্ত করছে। দেশটির সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
আপনার একটি মন্তব্য লিখুন:
এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।