‌
‌
‌
‌
‌
‌
‌
‌
‌

‌

গ্রাহকের অর্থ নিয়ে অনিয়ম

জাপানে প্রুডেনশিয়ালের দুই প্রতিষ্ঠানের নতুন বীমা বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৭ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাপানে প্রুডেনশিয়ালের দুই বীমা প্রতিষ্ঠানের নতুন বীমা বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দেশটির আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা (এফএসএ)। প্রুডেনশিয়ালের কিছু কর্মীর বিরুদ্ধে বীমার বাইরে বিনিয়োগের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। কিছু কর্মীর বিরুদ্ধে গ্রাহকদের কাছ থেকে ব্যক্তিগতভাবে টাকা ধার নেয়ার অভিযোগও রয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বলছে, দীর্ঘদিন এসব অনিয়ম চললেও কোম্পানি কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি।

৯ অক্টোবর দেয়া আদেশ অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা ১৩ অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রুডেনশিয়াল ফিন্যান্সিয়ালের সহযোগী প্রতিষ্ঠান প্রুডেনশিয়াল লাইফ নতুন বীমা বিক্রি করতে পারবে না। তবে জিব্রাল্টার লাইফের শুধু নিজস্ব বিক্রয়কর্মীদের মাধ্যমে নতুন বীমা বিক্রি বন্ধ থাকবে। স্বাধীন এজেন্টদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির বীমা বিক্রি চলবে।

প্রুডেনশিয়াল লাইফ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকেই নিজ উদ্যোগে নতুন বীমা বিক্রি বন্ধ রেখেছিল। তবে আগে কেনা বীমার সেবা চালু থাকবে। বীমার মেয়াদ শেষে পাওনা টাকা ও বীমা দাবি অনুযায়ী প্রাপ্য অর্থ পরিশোধও চলবে বলে জানিয়েছে কোম্পানি।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রুডেনশিয়াল লাইফ জানায়, ৪৯৮ জন গ্রাহককে ঘিরে ৩০৮ কোটি ইয়েন বা প্রায় ২৪০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে স্বাধীন তদন্তে আরও অনিয়মের তথ্য উঠে আসে। এতে গ্রাহকদের অভিযোগে জড়িত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৬১৭ কোটি ইয়েন বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৮০ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়। তবে পুরো অর্থই গ্রাহকদের প্রমাণিত ক্ষতি নয়।

এসব ঘটনায় প্রুডেনশিয়াল লাইফের বর্তমান ও সাবেক মোট ১৫৭ জন বিক্রয়কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬৪ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বা পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে। অন্যদের সাময়িক বরখাস্ত ও সতর্ক করাসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

কোম্পানির হিসাবে, ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম ৪৯৮ জনের মধ্যে ২০৪ জনের জন্য ৯২ কোটি ইয়েন বা প্রায় ৭২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ অনুমোদন করা হয়েছে। আরও ১৩৮ জন গ্রাহক সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কাছ থেকে আগেই ৭৯ কোটি ইয়েন বা প্রায় ৬২ কোটি টাকা ফেরত পেয়েছেন। ১৫০ জনের ক্ষতিপূরণের দাবি অনুমোদিত হয়নি। বাকি ছয়জনের বিষয়ে তখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এর বাইরে প্রুডেনশিয়াল লাইফ ও জিব্রাল্টার লাইফের বিরুদ্ধে আরও ৮৪৮টি অভিযোগ পর্যালোচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩২৯টি অভিযোগ ক্ষতিপূরণের যোগ্য বিবেচিত হয়েছে। এসব অভিযোগে দাবি করা অর্থের পরিমাণ ২৫৭ কোটি ইয়েন বা প্রায় ২০০ কোটি টাকা।

জাপানের আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদন্তে দেখা গেছে, প্রুডেনশিয়াল লাইফে গ্রাহকদের স্বার্থের চেয়ে নতুন বীমা বিক্রিতে বেশি গুরুত্ব দেয়া হতো। কর্মীরা যত বেশি বীমা বিক্রি করতেন, তত বেশি কমিশন পেতেন। কিন্তু তাদের কাজ ঠিকভাবে তদারকি করা হতো না। গ্রাহকদের অভিযোগও যথাযথভাবে তদন্ত করা হয়নি।

অনিয়ম বন্ধে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পরিকল্পনা জমা দিতে বলেছে এফএসএ। এতে গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ, কর্মীদের তদারকি, কমিশনের নিয়ম পরিবর্তন এবং পরিচালকদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ব্যবস্থা থাকতে হবে। এরপর প্রতি তিন মাসে কাজের অগ্রগতি জানাতে হবে।

প্রুডেনশিয়াল জানিয়েছে, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে আবার নতুন বীমা বিক্রি শুরুর আশা করছে তারা। তবে নতুন তদারকি ব্যবস্থা ঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা যাচাই করেই ধাপে ধাপে বিক্রি বাড়ানো হবে।

মন্তব্য সমূহ (০)

আপনার একটি মন্তব্য লিখুন:

এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

‌