ভারতে স্বাস্থ্যবীমা চালু করল অ্যামাজন পে

প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতে স্বাস্থ্যবীমা চালু করেছে অ্যামাজন পে। এইচডিএফসি এরগোর সঙ্গে মিলে নতুন সেবাটি এনেছে প্রতিষ্ঠানটি।

ভারতে চিকিৎসার খরচ বাড়ছে। কিন্তু নিজের টাকায় স্বাস্থ্যবীমা কেনেন, এমন মানুষের সংখ্যা এখনো কম। এই ঘাটতি পূরণের সুযোগ কাজে লাগাতেই গাড়ি ও মোটরসাইকেল বীমার পর এবার স্বাস্থ্যবীমায় এসেছে অ্যামাজন পে।

অ্যামাজন পে নিজে কোনো বীমা কোম্পানি নয়। নিবন্ধিত প্রতিনিধি হিসেবে এটি অন্য বীমা কোম্পানির পলিসি গ্রাহকের কাছে বিক্রি করে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী বিকাশ বানসাল স্বাস্থ্যবীমাকে তাদের ‘পরবর্তী বড় ক্ষেত্র’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এইচডিএফসি এরগো ভারতের একটি সাধারণ বীমা কোম্পানি এবং এইচডিএফসি ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান। স্বাস্থ্য, গাড়ি, ভ্রমণ ও বাড়িসহ বিভিন্ন ধরনের বীমাসেবা দেয় কোম্পানিটি। তাই অ্যামাজন পে থেকে পলিসি কিনলেও বীমার ঝুঁকি বহন এবং বৈধ দাবি অনুযায়ী টাকা দেয়ার মূল দায়িত্ব থাকবে এইচডিএফসি এরগোর।

নতুন সেবায় গ্রাহক অনলাইনে স্বাস্থ্যবীমা সম্পর্কে জানতে, পলিসি বেছে নিতে এবং কিনতে পারবেন। পলিসি বাছাইয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তাও থাকবে। তবে এই প্রযুক্তি কোন তথ্য দেখে পরামর্শ দেবে এবং ভুল বা অসম্পূর্ণ পরামর্শ দিলে দায় কার হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।

এ ছাড়া পলিসিতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ কত টাকার বীমা সুবিধা পাওয়া যাবে, সর্বোচ্চ কত বয়স পর্যন্ত পলিসি নেয়া যাবে এবং বয়স অনুযায়ী কত টাকা প্রিমিয়াম দিতে হবে- এসব তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি। প্রতি পলিসি বিক্রি করে অ্যামাজন পে কত কমিশন বা বিক্রয় বাবদ কত টাকা পাবে, সেই তথ্যও প্রকাশ্যে নেই।

ভারতের বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইআরডিএআইয়ের ২০২৪-২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাধারণ ও স্বাস্থ্যবীমা কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে প্রায় ৫৮ কোটি মানুষ স্বাস্থ্যবীমার আওতায় ছিলেন। এর মধ্যে সরকারি প্রকল্পে ৪২ দশমিক ৩ শতাংশ, চাকরি বা প্রতিষ্ঠানের গ্রুপ বীমায় ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ এবং নিজের নামে কেনা ব্যক্তিগত বীমায় মাত্র ১০ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ ছিলেন। এই ১০ দশমিক ৩ শতাংশ ভারতের মোট জনসংখ্যার হিসাব নয়; স্বাস্থ্যবীমার আওতায় থাকা মানুষের মধ্যে ব্যক্তিগত পলিসির অংশ।

কোন বয়স বা আয়ের মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবীমার ঘাটতি সবচেয়ে বেশি, এমন হালনাগাদ জাতীয় তথ্য নেই। তবে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিনির্ধারণী সংস্থা নীতি আয়োগের ২০২১ সালের এক গবেষণায় প্রায় ৪০ কোটি মানুষকে এমন একটি জনগোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, যারা সরকারি স্বাস্থ্যবীমার সুবিধা পান না, আবার বেসরকারি স্বাস্থ্যবীমারও পর্যাপ্ত আওতায় নেই। ফলে যাদের নিজের স্বাস্থ্যবীমা নেই এবং যারা অনলাইন আর্থিক সেবা ব্যবহার করেন, তারা অ্যামাজন পে-এর সম্ভাব্য গ্রাহক হতে পারেন।

দাবি নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে। আইআরডিএআইয়ের নিয়ম অনুযায়ী, হাসপাতালে নগদ টাকা না দিয়ে চিকিৎসা নেয়ার অনুমোদনের সিদ্ধান্ত এক ঘণ্টার মধ্যে দিতে হয়। হাসপাতাল ছাড়ার সময় চূড়ান্ত অনুমোদন দিতে হয় তিন ঘণ্টার মধ্যে। অন্য ধরনের দাবির ক্ষেত্রে সময়সীমা ১৫ দিন। কোনো সমস্যা হলে প্রথমে বীমা কোম্পানির কাছে অভিযোগ করতে হবে। সেখানে সমাধান না হলে আইআরডিএআইয়ের অভিযোগ ব্যবস্থায় এবং পরে প্রয়োজন হলে বীমা ওমবাডসম্যানের কাছে যাওয়া যাবে। বীমা ওমবাডসম্যান হলো বীমা-সংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তির একটি স্বাধীন ব্যবস্থা।

স্বাস্থ্যবীমা অ্যামাজন পে-এর আলাদা কোনো উদ্যোগ নয়। প্রতিষ্ঠানটি অর্থ পরিশোধের পাশাপাশি ঋণ, সঞ্চয়, বিনিয়োগ ও বীমাসহ বিভিন্ন আর্থিক সেবা একই অনলাইন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করছে। স্বাস্থ্যবীমার পর ভ্রমণ বীমাসহ আরও বীমাপণ্য আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

মন্তব্য সমূহ ()

আপনার একটি মন্তব্য লিখুন:

এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।